নান্দাইলে বোরো মৌসুমে শ্রমিকের চাহিদা মেটাচ্ছে ‘কামলার হাট’

উপজেলায় ঝালুয়া সেতুর দুই পাশে বসে শ্রম বিক্রির হাট। স্থানীয় লোকজন এই হাটকে ‘কামলার হাট’ বলেই জানে। প্রতিদিন ভোরে বিভিন্ন এলাকা থেকে শতশত মানুষ কাজের সন্ধানে এই হাটে ভির জমান। আর দূর-দুরান্ত থেকে কৃষকরা এসে দর-দাম করে চাহিদা মত শ্রমিক নিয়ে যান।

করোনা মহামারির প্রভাবে চলতি বোরো মৌসুমে সারা দেশে যখন শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে তখন জেলার একমাত্র কামলার (শ্রমিক) হাটটি নান্দাইলে কৃষকের ধান কাটার শ্রমিকের চাহিদা মিটাচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা সদর থেকে তিন কিলোমিটার পশ্চিমে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের পাশে ঝালুয়া বাজার অবস্থিত। বাজারের পূর্ব পাশে ঝালুয়া সেতুর দুই পাশে প্রায় তিন যুগ ধরে এই হাট বসে। ক্রেতারা দরদাম ঠিক হলে এই হাট থেকে পছন্দমত শ্রমিক পিক-আপ, টমটম ও ইজিবাইকে করে বাড়িতে নিয়ে যান। এই উপজেলা ছাড়াও আশপাশের উপজেলা থেকে লোকজন আসে কাজের সন্ধানে। ভোর থেকে চলে এ হাট।

শনিবার ওই হাটে গিয়ে দেখা গেছে, বোরো ধান কাটা শুরু হওয়ায় শ্রমিক বেচা-কেনার হাট বেশ জমে উঠেছে। শতশত ক্রেতা-বিক্রতা ভীর করেছেন। করোনার কারণে শ্রমের মজুরী অন্য বছরের তুলনায় বেশি। এ সময় কথা হয় হাটে শ্রম বিক্রি করতে আসা লোকমান হোসেন (৬০), আব্দুর রাজ্জাকের (৫৫) সহ দশ জনের সঙ্গে।

তাঁরা জানান, সেহেরি খেয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে হাটে এসেছেন। বছরের বেশির ভাগ সময় এই হাটে এসে শ্রম বিক্রি করেন। তবে অন্য বছরের তুলনায় এ বছর মজুরী ভালো পাচ্ছি। করোনার মহামারির মধ্যে জমায়েত হয়ে হাটে এসেছে কেন এমন প্রশ্নের উত্তরে শ্রমিক রাসেল মিয়া বলেন, করোনা দেখে কাজ না করলে ঘরে ভাত কিভাবে আসবে। তখন রাসের সালে অন্য শ্রমিকরাও সুর দেন।

শ্রমিক নিতে আসা চারআনিপাড়া গ্রামের খাদেমুল ইসলাম (৫০) বলেন, তিনি প্রয়োজন পড়লেই ঝালুয়ার এই হাট থেকে কামলা নিতে আসেন। অন্য বছর যে শ্রমিক ৪‘শ টাকায় পাওয়া যেত এখন তা ৮‘শ দিয়ে ক্রয় করতে হচ্ছে। ঝালুয়া বাজারের দোকানী করিম মিয়া (৬৫) জানায়, তিনি ৩৫ বছর ধরে এখানে ব্যবসা করছেন। প্রায় তিন যুগ আগে কয়েকজন শ্রমিক সেতুর উপর দাড়িয়ে কাজ খোঁজছিল। তখন স্থানীয় এক ব্যক্তি তাদেরকে কিনে নিয়ে যায়। এভাবে কয়েক দিন তারা এখানে আসে। তখন থেকেই আস্তে আস্তে এই বাজারটি জমতে থাকে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিদিন শত শত কামলা বেচা-কেনা হলেও এ হাটে কাউকেই কোন কর দিতে হয়না।

নান্দাইল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আনিসুজ্জামান বলেন, বোরো মৌসুমে শ্রমিক সংকট দেখা দেয়। আর এই হাটটি যথা সময়ে শ্রমিকের চাহিদা পূরণ করছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার এরশাদ উদ্দিন বলেন, বছরে ধান কাটার তিনটি মৌসুমে এই হাটের বেশ কদর থাকে। স্থানীয় লোকজন এই হাটে এসে তাদের চাহিদা মত শ্রমিক পায়। বর্তমান সময়ে ধান কাটার শ্রমিক সংকটের মধ্যেও এই হাট নান্দাইলের কৃষকদের চাহিদা মিটাচ্ছে।

মজিবুর রহমান ফয়সাল/বার্তাবাজার/পি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর