আজ বৃহস্পতিবার রাত ৪:০৯, ১৯শে অক্টোবর, ২০১৭ ইং, ৪ঠা কার্তিক, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ২৭শে মুহাররম, ১৪৩৯ হিজরী

মালয়েশিয়ায় হাইকমিশনারের মেয়াদবৃদ্ধিতে কমিউনিটি’তে চাঁপাক্ষোভ

নিউজ ডেস্ক | বার্তা বাজার .কম
আপডেট : জুলাই ২৮, ২০১৭ , ১০:১১ অপরাহ্ণ
ক্যাটাগরি : প্রবাস
পোস্টটি শেয়ার করুন

মালয়েশিয়া থেকে ফিরে : মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ কমিউনিটি’র মধ্যে এখন বড় ধরনের ফাটল। সভা, সমিতি, জাতীয় প্রোগ্রাম এমনকি ব্যাক্তিগত প্রোগ্রামগুলোতেও পড়ছে গ্রুপিং এর প্রভাব। আর সোহার্দ্য, সম্প্রিতি’র এ সম্পর্ক খারাপের পেছনে কাজ করছেন দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মুহ. শহীদুল ইসলাম। কমিউনিটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা ও দীর্ঘদিন মালয়েশিয়ায় বসবাসরত প্রবাসীদের সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে। সম্প্রতি এই হাইকমিশনারের আরো দুই বছরের মেয়াদবৃদ্ধিতে তাই চাঁপাক্ষোভ রয়েছে মালয়েশিয়াস্থ বাংলাদেশ কমিউনিটির মধ্যে।
২০১৫ সালে মুহ. শহীদুল ইসলাম সৌদি আরব থেকে মালয়েশিয়ায় আসলে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ করে নেয় মালয়েশিয়াস্থ বাংলাদেশ কমিউনিটি। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের বিজয় উৎসব থেকে শুরু করে ছোটখাটো উপলক্ষগুলোতে কমিউনিটি’কে সম্পৃক্ত করে নানা ধরনের আয়োজন করা হয় হাইকমিশনের পক্ষ থেকে। তবে এ চিত্র খুব বেশিদিন দেখা যায়নি। ম্যানপাওয়ার ব্যবসায়ীদেরকে মূলা ঝুলিয়ে নানাভাবে ফায়দা লুটতে থাকে হাইকমিশন। শুরু হয় গ্রুপিং।সরকারের তাবেদারির নামে কমিউনিটি’কে বিভক্ত করে আওয়ামীলীগ আর বিএনপি’র নামে পুরো বাংলাদেশ কমিউনিটি’কে বিভক্ত করে ফেলে হাইকমিশন। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয় যে প্রবাসের গুরুত্বহীন রাজনীতিক পরিচয় বিএনপি হলে ঐ ব্যাক্তি হাইকমিশনের সেবা থেকে বঞ্চিত হতে থাকে। কোন আচার অনুষ্ঠানে সকল পর্যায়ের কমিউনিটির নেতারা একমঞ্চে একসঙ্গে বসতে পারে না। অথচ বিগত সময়ে এমনটি ছিলো না।
এর কিছুদিন পর মালয়েশিয়া আওয়ামী লীগের একটি গ্রুপকে প্রধা0ন্য দিয়ে স্পষ্ট দ্বন্দ্ব সৃষ্ঠিতে উস্কানি দেয় স্বয়ং হাইকমিশনার শহীদুল ইসলাম। অভিযোগ রয়েছে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে একই অঞ্চলের এক প্রবাসী ব্যাবাসীয়ককে সর্বোচ্চ শুবিধা দিয়ে যাচ্ছেন হাইকমিশনার। যদিও পরিবর্তিত হাইকমিশনে এসে কিছুটা চেহারা বদলেছেন, হাইকমিশনার শহীদুল ইসলাম। বর্তমানে প্রবাসী রাজনৈতিক নেতাদের খুব একটা ঘেষতে দিচ্ছেন না হাইকমিশনে। যদিও বিগত হাইকমিশনে একচ্ছত্র আধিপত্য দিয়ে রেখেছিলেন মালয়েশিয়া আওয়ামীলীগকে।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে মালয়েশিয়াস্থ বাংলাদেশ কমিউনিটি প্রেসক্লাবের জনাদুয়েক সাংবাদিকদের নিয়েও হাইকমিশনার নতুন মেরুকরণ করছে বলেও গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। প্রবাসী রাজনৈতিক নেতা ও আদম ব্যাবসায়ীকদের পর হাইকমিশনারের দাবার গুটি প্রবাসী সাংবাদিকদের এই সংগঠনের দিকে। নিজেদের প্রাত্যহিক কাজগুলোকে সংবাদে পরিনত করে প্রতিদিন হাইকমিশনের বন্দনায় পত্রিকার পাতায় সংবাদ পরিবেশিত হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রবাসী সাংবাদিক জানান হাইকমিশনার শহীদুল ইসলাম তার নিজস্ব স্টাইলে সবাইকে নাচাচ্ছেন। এতে কমিউনিটির মধ্যে কোন সম্প্রীতি তৈরি হচ্ছে না। এর একটা কুফল মালয়েশিয়া প্রবাসীদের উপর পড়বে।
শুধু কমিউনিটির মধ্যেই নয় বর্তমান হাইকমিশনের উপর ক্ষুব্ধ সাধারণ প্রবাসী বাংলাদেশীরাও। দুতাবাসে সেবা নিতে আসা প্রবাসীরা প্রতিদিন-ই লাঞ্ছিত হচ্ছে কোন না কোন কর্মকর্তা-কর্মচারি’র দ্বারা। শ্রমিকদের হাইকমিশনে ঢোকার পথ নিয়ন্ত্রন করছে বেশ কয়েকজন ইন্ডিয়ান, মালয় ও নেপালের নিরাপত্তারক্ষী। কথায় কথায় এসব নিরাপত্তারক্ষী চড়াও হচ্ছে সাধারণ প্রবাসী বাংলাদেশীদের উপর। টাকা দিলে সময়ের আগে কাজ হচ্ছে আর না দিলে ভোগান্তির শেষ নেই। অথচ এসব বিষয়ে সম্পূর্ণ উদাসীন হাইকমিশনার মো: শহীদুল ইসলাম। নিজের আখের গোছাতেই ব্যাস্ত তিনি।