ইসলাম শাশ্বত এক জীবন-ব্যবস্থার নাম।যেখানে প্রতিটি মানুষের শুধু নয় বরং প্রতিটি সৃষ্টির অধিকার স্বীকৃত রয়েছে। এমনকি মানুষের মানবিক মর্যাদা ও অধিকার সুরক্ষার পুরো নিশ্চয়তা বিধান দিয়েছে ইসলাম। বর্তমানে পৃথিবীর এই ক্রমবর্ধমান উন্নয়নে যে উপকরণটি সবচেয়ে বেশি প্রাসঙ্গিক; সেটি হচ্ছে শ্রম। যারা শ্রমের এই পরাকাষ্ঠা বহন করে তাদেরকেই আমরা শ্রমিক বলি। ইসলাম এখানেও শ্রম ও শ্রমিকের অধিকার যথাযথভাবে প্রদান করেছে।
এ প্রসঙ্গে হাদিসে এসেছে, রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, তারা তোমাদের ভাই। আল্লাহ তাদেরকে তোমাদের অধীন করেছেন। সুতরাং যার ভাইকে তার অধীন করেছেন সে যেন তাকে তাই খাওয়ায় যা সে খায়, সেই কাপড় পরিধান করায়, যা সে পরিধান করে। তাকে সামর্থ্যের অধিক কোনো কাজের যেন দায়িত্ব না দেয়। যদি এমনটা করতেই হয়, তাহলে সে যেন তাকে সাহায্য করে।
বুখারি, হাদিস নং ৫৬১৭।
ইতিহাসের পাতায় দেখা যায় ১৮৮৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমিকরা শ্রমের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে যে আত্মদান করেছিলেন, তাঁদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ১৮৯০ সাল থেকে পালিত হয়ে আসছে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস। তাইতো এখন পৃথিবীর প্রতিটি দেশে মে মাসের ১ তারিখে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হয়। আমাদের দেশেও নানা কর্মসূচির মাধ্যমে এই দিবসটি পালন করা হয়। কিন্তু শ্রমিকের মর্যাদাপূর্ণ জীবন ও জীবিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা মালিকের দায়িত্ব এগুলো নিয়ে তেমন কথা হয় না। অথচ এ প্রসঙ্গে রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মালিকানাধীন (অধীন) ব্যক্তির জন্য খাবার ও কাপড়ের অধিকার রয়েছে। মুসলিম, হাদিস নং ১৬৬২।
শ্রমিকরা কাজ করে। মাথায় ঘাম পায়ে ফেলে পরিশ্রম করে। তাই বেতন ও পারিশ্রমিক তাদের ন্যায্য অধিকার। ইসলাম অতিদ্রুত তা আদায়ের নির্দেশ দিয়েছে। এ প্রসঙ্গে হাদিসে রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ঘাম শুকানোর আগেই শ্রমিকের পারিশ্রমিক দিয়ে দাও। ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ২৪৪৩০।
অনেক সময় দেখা যায় সামর্থ্য থাকার পরও মালিকরা শ্রমিকদের প্রাপ্য ও অধিকার প্রদানে টালবাহানা করে। ঠুনকো অজুহাতে বেতন-ভাতা ও প্রাপ্য অধিকার থেকে শ্রমিকদের বঞ্চিত করে। এটা সম্পূর্ণ অপরাধ। এ প্রসঙ্গে হাদিসে এসেছে, রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কিয়ামতের দিন আমি তিন ব্যক্তির বিপক্ষে থাকব। তার মধ্যে একজন সে যে কাউকে শ্রমিক নিয়োগ দেওয়ার পর তার থেকে কাজ বুঝে নিয়েছে; অথচ তার প্রাপ্য দেয়নি।
বুখারি, হাদিস নং ২২২৭।
ইসলাম কখনোই শ্রমিকদের ঠকানোকে সমর্থন করে না। এটাকে ঘৃণিত ও জঘন্যতম পাপ মনে করে। এ ক্ষেত্রে ইসলামের নির্দেশনা হলো, শ্রমিক তার প্রাপ্য সম্পর্কে ওয়াকিবহাল না হলেও মালিক তাকে প্রাপ্য বুঝিয়ে দেবে। এ প্রসঙ্গে হাদিসে রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে জাতির দুর্বল লোকেরা জোর-জবরদস্তি ছাড়া তাদের পাওনা আদায় করতে পারে না সেই জাতি কখনো পবিত্র হতে পারে না। ইবনে মাজাহ, হাদিসনং ২৪২৬।
মালিকের যেমন দায়িত্ব প্রাপ্য বুঝিয়ে দেওয়া ঠিক তদ্রূপ শ্রমিকেরও দায়িত্ব হচ্ছে, অবশ্যই আমানতদারিতার সাথে কাজ সম্পন্ন করা। অন্যথায় তাকে আল্লাহর দরবারে জবাবদিহিতা করতে হবে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ কোরআনে বলেন, সর্বোত্তম শ্রমিক সেই ব্যক্তি যে শক্তিশালী ও আমানতদার (দায়িত্বশীল) হয়। সুরা কাসাস,আয়াত ২৬।
লেখক: মুফতি মাহমুদুল হক জালীস মুহাদ্দিস, খাদিমুল ইসলাম মাদরাসা কামরাঙ্গীর চর, ঢাকা।
বার্তাবাজার/পি