৩৩৩’র প্রায় সব গল্পই ক্ষুধা-কষ্টের’- ইউএনও সাভার
‘এখন ৩৩৩’র প্রায় সব গল্পই ক্ষুধা-কষ্টের, কিন্তু কোন কোন গল্প তার থেকেও বেশি’- সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের অফিসিয়াল আইডিতে এমনটি জানালেন সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ মাজহারুল ইসলাম। শুক্রবার (৩০ এপ্রিল) রাতে এক স্ট্যাটাসে এমন মন্তব্য করেন তিনি।
ইউএনও মাজহারুল ইসলাম জানান, ‘গত কয়েকদিন অসংখ্য ক্ষুধার্ত মানুষ সরকারের কাছে খাদ্য সহায়তা চেয়ে আবেদন জানাচ্ছেন। সাভার উপজেলা প্রশাসন ইতোমধ্যে শতাধিক ক্ষুধার্ত মানুষের কাছে সরকারের উপহার মানবিক খাদ্য সহায়তা পৌঁছিয়ে দিয়েছে। হালিমার ক্ষুধার কষ্ট তো সাপ্তাহিক ছুটি মানে না! অন্যদিকে ৩৩৩ অতন্দ্র প্রহরীর মতো প্রস্তুত মানুষের ক্ষুধার কষ্ট সরকারের কাছে জানাতে। প্রস্তুত মাঠ প্রশাসন এই দুঃখী মানুষগুলোর কাছে সরকারের উপহার নিয়ে ছুটে চলতে।’
শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন। এই দিনটিতেও ৩৩৩’তে অনেকে কল করে খাদ্য সহায়তা চেয়েছেন। সাভারে সদ্য যোগদানকৃত মোঃ মাজহারুল ইসলাম সহায়তা প্রার্থীদের নাম ও ঠিকানার তালিকা ধরে ছুটির দিনেই তাদের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন। এসব এলাকার মধ্যে ছিলো সাভার থানা স্ট্যান্ড, রাজাশন ,আকরান হয়ে সাভারের গোলাপ গ্রাম।
এপ্রসঙ্গে ইউএনও মোঃ মাজহারুল ইসলাম আরও উল্লেখ করেন, গোলাপ গ্রামের পাশেই সাদুল্ল্যাপুর গ্রামে হালিমার বাস। হালিমার নামে খাদ্য সহায়তার জন্য পাঠানো মেসেজে দেয়া নাম্বারে ফোন করা মাত্রই জনৈক মোহর আলী জানালেন, ‘হালিমা তার পাশের বাড়ির বাক প্রতিবন্ধী মেয়ে। তার বাবা মারা গেছেন বছর ছয়েক আগে। অভাবের সংসারে ওর মা বিভিন্ন বাসা বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করতো। কিন্তু এখন আর কেউ তাকে কাজেও ডাকে না। করোনা মহামারীর এই সময়ে কাজ হারিয়ে বাকপ্রতিবন্ধী হালিমার পরিবার খাদ্যাভাবে ক্ষুধার কষ্টে দিন যাপন করছে। কিন্তু হালিমারা তো এখনো জানে না সরকার যে এত এত সুযোগ সুবিধা তাদের জন্য রেখেছে। তাই তিনি হালিমার হয়ে ফোন করেছিলেন ৩৩৩ তে।’
মোহর আলীর সাথে কথা শেষে সাভারের ইউএনও সরকারের সহায়তা নিয়ে ছুটে চলে যান হালিমার বাড়িতে। সেখানে এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের অবতারণা ঘটে। এক আনন্দ-মধুর ও বেদনা-বিদুঁর দৃশ্যপটে ক্ষুধার জ্বালাময় দিনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহার পাওয়ার আনন্দে বাকপ্রতিবন্ধী হালিমা বাকরুদ্ধ হয়ে থাকে। অনুভূতি প্রকাশ না করতে পারার আক্ষেপ তার চোখে-মুখে ।
মোঃ মাজহারুল ইসলাম তাঁর স্ট্যাটাসে আবেগাপ্লুত হয়ে লিখেন, হালিমারা জানালেন তাদের দুঃখ কষ্টের কথা; একই সাথে সরকারের উপহার পেয়ে তাদের খুশির কথাও বললেন ছলছল চোখে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতেও ভুলেনি হালিমার পরিবার। ধন্যবাদ ‘৩৩৩’, কৃতজ্ঞতা ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকার, জাতির পিতার জ্যেষ্ঠ কন্যা, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি।
প্রয়োজনীয় খাদ্য সহায়তা দিতে তাদের বিষয়ে তথ্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের নিকট প্রেরণ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে সরকারের ত্রান-সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছেন সহায়তাপ্রার্থীর নিকট।
প্রসঙ্গত, চলমান করোনাজনিত সংকটে অসহায় হয়ে পড়া অনেক ব্যক্তিই খাদ্য সহায়তার প্রয়োজন হলে অন্যকে তা বলতে সংকোচ বোধ করে থাকেন। তাদের অনেকেই ৩৩৩-তে ফোনকল করে অসহায়ত্বের কথা জানাচ্ছেন। কিন্তু দেখা যাচ্ছে ৩৩৩-তে অনেকেই অযথা কল করছেন, অথবা কল করে মিথ্যা তথ্য প্রদান করছেন। ৩৩৩-এর সেবা আরো নাগরিক-বান্ধব করে তোলার ক্ষেত্রে অন্যতম বাধা হচ্ছে ‘প্র্যাংক কল’ বা অপ্রয়োজনীয় কল। এর ফলে প্রকৃত অসহায় ব্যক্তিদের সেবা পেতে হয়রানির শিকার হতে হয়। সুতরাং, ৩৩৩-তে অযথা কল করলে অথবা কলে মিথ্যা তথ্য প্রদান করলে কলারের বিরুদ্ধে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
মোঃ আল মামুন খান/বার্তাবাজার/ভিএস