মহামারি করোনা ভাইরাসের লকডাউনের স্তব্ধতায় অপরাধের হার বাড়ছে পঞ্চগড়ে। খুন-ধর্ষণ-রাহাজানি থেকে বোমাবাজি এমনকি নিত্যকার বোমার মহড়াতেও লাগাম টেনেছে অপরাধ জগৎ। কিন্তু সেই নির্বিঘ্নতার সুযোগ নিয়েই চুপিসারে যে অন্য সামাজিক অপরাধের হার বেড়েছে। বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস আসার পর থেকে বাংলাদেশ সরকার করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য একাধিকবার লকডাউন দেন। আর এই লকডাউন সিথিল হওয়ার পর খোঁজ মিলেছে অসংখ্য বাল্যবিবাহের। উপজেলা প্রশাসনের কাছে বাল্য বিবাহের নির্দিষ্ট কোনও পরিসংখ্যান নেই।
তবে এলাকা সুত্রে জানা যায়, তেঁতুলিয়া উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় স্কুলপড়ুয়া ছাত্রীর বিয়ে হয়েছে। করোনা ভাইরাসের কারনে সকল স্কুল প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় অসামাজিক কাজে লিপ্ত হয়েছেন ছাত্রছাত্রীরা। ফলে বাধ্য হচ্ছেন পিতামাতা বিয়ে দিতে। বাল্য বিবাহের অনেক ক্ষেত্রে মেয়ের আপত্তিতে বিয়ে দিয়ে দেওয়া হলেও তার হদিশও করতে পারেনি কন্যাশ্রী যোদ্ধারা। পুলিশেও তা ঘুণাক্ষরে টের পায়নি। স্থানীয় গ্রামবাসীদের কাছে খোঁজ নিয়ে দেখা গিয়েছে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অত্যন্ত অনাড়ম্বরে, রাতের অন্ধকারে বাড়িতে মৌলবি ডেকে বা স্থানীয় কোনও মন্দিরে নিয়ে গিয়ে বিয়ে দেওয়া হয়েছে। তেঁতুলিয়া উপজেলায় বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের কালদাস পাড়া,কাটা পাড়া,সর্দারগছ, নাওয়াগছসহ বেশ কয়েকটি স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থী বিয়ে হয়েছে চুপিসারে।
স্থানীয় মসজিদের ইমাম বিয়ে দিতে সম্মত না হওয়ায় দূরের মৌলবি ডেকে সেই নিকাহ হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কমবেশি সব জায়গায় বাল্য বিবাহ হয়েছে। যে কয়টি বিয়ে হয়েছে তাদের বয়স চৌদ্দ পনের এর মধ্যে। অনেক পাত্রের বয়স একুশ পেরোয়নি। আর এ ব্যাপারে প্রচ্ছ্ন্ন সুযোগ দিয়ে বাড়তি মুনাফা লুটছে এক শ্রেণির রেজিস্ট্রার।
তেঁতুলিয়ার এক বাসিন্দা বলছেন, ‘‘স্থানীয় রেজিস্ট্রারেরা ছাপানো কাগজ নিয়ে এই সময়ে এ গ্রাম থেকে ও গ্রামে ঘুরেছেন আর পয়সা লুটেছেন।
সর্দারগছ গ্রামের ওমর ফারুক বলেন, স্কুল-টিউশন বন্ধ থাকায় অসামাজিক কাজে ছাত্রছাত্রীরা লিপ্ত হচ্ছে বিধায় পিতামাতা বাল্য বিবাহ দিতে বাধ্য হচ্ছেন।তেঁতুলিয়া উপজেলার নির্বাহী অফিসার সোহাগ চন্দ্র সাহা বলেন, আমরা বাল্য বিবাহের তথ্য পেলে সাথ সাথে আইনগত ব্যবস্থা নিয়েছি। বাল্যবিবাহের তথ্য প্রশাসনের কোন ব্যক্তি খবর পাইনি এই সুযোগটাকে কাজে লাগিয়ে গোপনে নাবালিকা বিয়ে হচ্ছে।
এস এম আল আমিন/বার্তাবাজার/ভিএস