পাচার হওয়া শঙ্খিনী সাপের ঠাঁই হলো শীতলপুর বিটে

বৈচিত্র্যময় প্রাণীজগৎ নিয়ে মানুষের আগ্রহ যেমন আছে তেমনি নির্বিচারে বন্যপ্রাণী হত্যাও অনেক মানুষের কাছে বেশ আনন্দের। আর এসবের মধ্যে সাপ মারতে একটু বেশিই উৎসাহ পায় সাধারণ মানুষ। কোথাও সাপ দেখা গেলে মানুষ লাঠিসোটা নিয়ে ছুটে যায়। রীতিমত প্রতিযোগিতা শুরু হয় আগে কে পিটিয়ে মারবে সাপটিকে। এ যেন জন্ম জন্মান্তরের শত্রুতা। এর ফলে দ্রুত বিলুপ্ত হচ্ছে সাপ। সঠিক জ্ঞানের অভাবে নির্বিচারে সাপ মারা এবং এদের আবাসস্থল নষ্ট করায় অনেক প্রজাতির সাপই আজ বিলুপ্তির পথে।

চট্টগ্রামেন সীতাকুণ্ডের শীতলপুর এলাকা থেকে পাচার হচ্ছিল বিরল প্রজাতির শঙ্খিনী সাপ। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার (২৯ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১১টার দিকে সাপটিকে উদ্ধার করেছে চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগ।

অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া বন বিভাগের ফৌজদার হাট চেক স্টেশন কর্মকর্তা মো. শাহানশাহ নওশাদ জানান, শঙ্খিনী সাপটি উদ্ধারে শীতলপুর এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে বিরল প্রজাতির এই সাপটি উদ্ধার সম্ভব হয়।

তিনি জানান, উদ্ধারের পর গভীর রাতেই সাপটি স্থানীয় ইউপি সদস্য ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে শীতলপুর বিটের বন এলাকায় অবমুক্ত করা হয়।

শঙ্খিনী এমনি একটি সাপ যার ভয়ে অন্য সাপ পালিয়ে যায়। ইংরেজিতে ডাকা হয় Banded Krait, বৈজ্ঞানিক নাম Bungarus fasciatus। নিউরো টক্সিন বিষ সংবলিত শঙ্খিনী সাপকে এলাকা ভেদে আলাদা আলাদা নামে ডাকা হয়। যেমন; শাখামুটি, সানি সাপ, দুই মাথা সাপ প্রভৃতি।

বাংলাদেশের পরিবেশ উপযোগী অন্যতম সুন্দর সাপ শঙ্খিনী। যারা সাপ সম্পর্কে ধারণা রাখেন শান্ত স্বভাবের কারণে তাদের কাছে এটি বেশ প্রিয়। অতি সুন্দর ও চমৎকার রঙে সজ্জিত এই সাপের মাথা আকারে বেশ বড়, সারা শরীরজুড়ে কালো ও হলুদ ডোরা। দৈর্ঘ্য প্রায় সারে ৬ ফুট লম্বা।

সুমন শাহ/বার্তাবাজার/ভিএস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর