সামনে ঈদ, সাড়ে ৩শ জনের মতো ৮ থেকে ১৫ বছরের শিশু। থরে থরে সাজাচ্ছে শাড়ি কাপড়। কিছু শিশু আবার ট্রাকে ভরছে। আবার কিছু শিশু শাড়ীর পরিবহন আসবে কখন সেই অপেক্ষার প্রহর গুনছে। কাজ আর কাজ। কাজের জন্য কথা বলা বারণ। একজন আরেকজনের সঙ্গে কথা বললে মজুরি কর্তন। মহাজনের কঠোর নির্দেশ রয়েছে কারও সঙ্গে কথা বলা যাবে না।
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌরসভার দারিয়াপুর কাপড়ের হাটের চিত্র এটি। এখানে সপ্তাহে ৪ দিন শাড়ী কাপড়ের হাট লাগে। দোকানও রয়েছে প্রায় ৫ শতাধিক। এসব দোকানের মালামাল সাজানো ও পরিবহন থেকে নামানো ওঠানোর কাজ করানো হয় কোমলমতি শিশুদের দিয়েই। মহামারি করোনার মধ্যে দোকান মালিকরা এসব শিশুর লেখাপড়া বাদ দিয়ে শ্রমিক হিসেবে কাজ করাচ্ছে। তবে শিশুদের দিয়ে কঠোর পরিশ্রম করালেও সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছে। এ যেন কোমলমতি শিশুদের স্বপ্ন পুড়ছে কাপড়ের ঘাট্টিতে।
ওই সব শিশু শ্রমিকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কেউ কেউ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিভিন্ন শ্রেণিতে পড়ে। কিন্তু করোনায় বন্ধ। আবার কেউ কেউ এখন আর বিদ্যালয়ে যায় না। কেউ নিজে থেকেই, আবার কেউ মা-বাবার অভাব অনাটনে মালিকের পরামশ্রে কাজে এসেছে। প্রতিদিন শাড়ী কাপড়ের ঘাট্রি পরিবহন থেকে নামিয়ে মাথায় নিয়ে দোকানে পৌঁছানো, আবার পরিবহনে তোলাসহ সব কাজেই নিয়োজিত এসব শিশু। কাজ করা কয়েকজন শিশুর সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তারা সরাসরি বলেন, দোকান মালিকের বারণ আছে।
মজুরি কত জানতে চাইলে কাজ করা শিশুরা বলেন, কাজের ওপর কেউ ৪০ টাকা দেয় আবার কেউ ৫০ টাকা দেয়। দিন সব মিলে ১শ থেকে ১শ ৫০ টাকা হয়।
দারিয়াপুর কাপড়ের হাটের পাইকারি কাপড় ব্যবসায়ী মো. হাসান বলেন, স্কুল বন্ধ থাকায় ওরা পিতা-মাতার অভাবের কারণে হাটে এসে এসব কাজ করে। আমরা না করলেও মানেনা।
এদিকে শিশু শ্রম বন্ধ করতে সরকার কঠোরভাবে নির্দেশ দিলেও প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে শাড়ী তৈরির কারখানা থেকে শুরু করে দোকান মালিকরা। শুধু তাই নয় জেলার ইটভাটা, হোটেল রেস্তেরা ছাড়াও বিভিন্ন কর্মে স্বল্প মজুরিতে কাজ করছে শিশুরা। তবে প্রশাসনের নীরব ভূমিকাও সন্দেহের চোখে দেখছে সমাজের সচেতন মহল।
এ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহাম্মদ বলেন, শিশু শ্রম সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তারপরও যদি কোথাও শিশু শ্রম ব্যবহার হয়। তাহলে খোজ নিয়ে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এম এ মালেক/বার্তাবাজার/পি