পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার সারেংকাঠি ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শেখ আব্দুর রহিম (আবির) এর বিরুদ্ধে ঘুষ দুর্নীতিসহ নানা অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গৃহহীনদের ঘর দেওয়া, ভিবিন্ন জনকে টিউবওয়েল দেয়ার আশ্বাস দিয়ে মোটা অংকের টাকা হাতানোই তার বড় কাজ। কেবল ঘর, টিওবয়েলই নয়; তিনি উৎকোচ নিতে ছাড় দেননি ওয়ার্ডের দরিদ্রদের ভাতা দেয়ার ক্ষেত্রেও। মোট কথা তিনি টাকা ছাড়া কিছুই বোঝেননা জনসেবার ক্ষেত্রে। এ অভিযোগ তার থেকে ক্ষতিগ্রস্থ ওয়ার্ডের একাধিক বাসিন্দাদের। তার এতসব দুর্নীতিতে কেউ সহসা মুখ না খোলায় সীমাহীন দুুর্নীতি করে পার পেয়ে যাচ্ছেন ওই ইউপি সদস্য আবির।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, সংখ্যালঘু অধ্যুষিত করফা ঠাকুরবাড়ি এলাকায় আবির একটি সন্ত্রাসী চাদাবাজ গ্রুপ নিয়ন্ত্রণ করায় সাধারণ মানুষ জিম্মি হয়ে পড়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ ইউপি চেয়ারম্যান সায়েম শেখের বিশ্বস্ত লোক ইউপি সদস্য আবির। আর চেয়ারম্যানের একনিষ্ট লোক হওয়ায় তার বিরুদ্ধে মানুষ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না।
জানা গেছে, শেখ আব্দুর রহিম আবির ইউপি সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর গত পাঁচ বছরে দরিদ্রদের ভাতা প্রদানে ঘুষ গ্রহণ, উন্নয়ন কাজ না করে টাকা আত্মসাত, সরকারি সাহায্য পাইয়ে দেয়ার কথা বলে অগ্রিম ঘুষ নিয়ে দরিদ্রদের টাকা আত্মসাত করার অভিযোগ রয়েছে ওই সদস্যের বিরুদ্ধে। দরিদ্র গনেশ মন্ডল ও মালতি রানিকে সরকারি ঘর পাইয়ে দেয়ার কথা বলে বিশ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন ওই দম্পত্তি।
মালতি নামে অপর এক মহিলা অভিযোগ করেন, ইউপি সদস্য আবিরের বিশ্বস্ত সহচর সুদেব সিংহ (দোকানদার) গত বছর শ্রাবন মাসে তার কাছ থেকে একটি ঘর দেয়ার কথা বলে ২০ হাজার টাকা নিয়েছে। তারপর ঘরের জন্য সুদেব সিংহ এবং আবিরের কাছে গেলেই তারা পরবর্তী বরাদ্ধ আসার পর দিবে বলে বার বার সময় ক্ষেপন করে এখন পর্যন্ত ঘর দেয়নি। এছাড়াও একই গ্রামের কবির নামে এক দরিদ্রকে ঘর দেয়ার কথা বলে আবির পাচ হাজার টাকা নিয়ে ঘর দেয়নি। এমনকি কবিরের টাকাও ফেরত দেয়নি। এদিকে স্কুল শিক্ষিকা লেখা মিস্ত্রী অভিযোগ করেন তাকে একটি গভীর নলকুপ দেয়ার কথা বলে আবির মেম্বর ২৩ হাজার টাকা নিয়েছে প্রায় দুই বছর আগে। এখন পর্যন্ত তার টিউবওয়েল দেয়নি ওই ইউপি সদস্য। হরশিত বৈদ্যেকে বয়স্ক ভাতা প্রদানে তিন হাজার টাকা নিয়েছেন আবির। এভাবে ওই ওয়ার্ডে তার সময়ে ভাতা প্রাপ্তদের প্রত্যেকেই তিন থেকে পাচ হাজার টাকার বিনিমিয় ভাতা পেয়েছেন বলে বিস্তর অভিযোগ আছে আবিরের বিরুদ্ধে।
টাকা পয়সা নেয়ার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি সদস্য আব্দুর রহিম আবির বলেন, গত ৫ বছরে তার বিরুদ্ধে কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। এবার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার পরে তার প্রতিদ্বন্দ্বিরা চক্রান্ত করে তাদের কিছু সমর্থক দিয়ে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে।
ওই ইউপি সদস্যের দুর্নীতির বিষয় সারেংকাঠি ইউপি চেয়ারম্যান সায়েম শেখ এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আবিরের এত দুর্নীতির কথা আগে কেউ তার কাছে অভিযোগ দেয়নি। ঘর এবং টিউবওয়েল দেয়ার কথা বলে কারো কাছ থেকে টাকা নিয়ে থাকলে তিনি বিষয়টি দেখবেন বলে জানান।
এ বিষয়ে নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মোশারেফ হোসেন বলেন, ক্ষতিগ্রস্তরা ওই ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
নাছরুল্লাহ আল কাফী/বার্তাবাজার/পি