ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অর্ধশতাধিক হাসপাতাল; নেই কোন আইসিইউ বেড
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে নেই নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্র বা আইসিইউ বেড। এমন কি জেলার ৯ উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নেই আইসিইউ বেড।
জেলায় গড়ে উঠেছে অর্ধশতাধিক বেসরকারি হাসপাতাল। কিন্তু সে গুলোতে নেই আইসিইউ বেড। এ কারণে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় করোনায় আক্রান্ত রোগীসহ অন্যান্য গুরুতর রোগীদের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে যেতে হচ্ছে ঢাকায়। এতে করে নিম্নমধ্যবিত্ত রোগীদের খরচ বেড়ে যায়,তাদের কষ্টসাধ্য বেপার হয়ে দাঁড়ায়। অনেকে সময় আবার পথেই মারা যায় রোগীরা।
জেলায় এখন পর্যন্ত ৩৫০২ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। জেনারেল হাসপাতালে প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে করোনা রোগী ভর্তি রয়েছেন ৮ জন এবং নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে আছেন ৪৭৮ জন। করোনায় এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৫২ জন।
জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় ৩৩ লাখ মানুষের বাস। আর করোনা মহামারি প্রাদুর্ভাবের শেষ ভরসাস্থল ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতাল। তবে সেখানে আইসিইউ না থাকায় সাধারণ অক্সিজেনের মাধ্যমে চলছে চিকিৎসাসেবা। গুরুতর অসুস্থ ব্যক্তিদের জেলা শহর ও উপজেলার হাসপাতালগুলো থেকে পাঠানো হচ্ছে ঢাকায়। জেলায় এখনও আইসিইউর ব্যবস্থা না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রোগীর স্বজনসহ সচেতন নাগরিকরা। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় থেকে ঢাকায় যেতে সময় লাগে প্রায় তিন ঘণ্টা। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর রোগীদের ভর্তিপ্রক্রিয়া শেষ হতে লাগে আরও ঘণ্টাখানেক। এ সময়ের মধ্যে অনেক রোগীর অবস্থা আরও খারাপ হযয়ে যায়। এসময় আবার অনেকে মৃত্যু কোলে ঢলে পড়েন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জেনারেল হাসপাতালের একাধিক চিকিৎসক জানিয়েছেন, এ হাসপাতালে আইসিইউ ওয়ার্ড না থাকায় ন্যাজাল ক্যানোলা অক্সিজেনের মাধ্যমে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে করোনায় আক্রান্ত রোগীদের।
রেড ক্রিসেন্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ইউনিটের সাবেক কার্যকরী কমিটির সদস্য মেজবাহ উদ্দিন ইকু বলেন, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মতো একটি জেলায় আইসিইউ বেড নেই, এটি আশ্চর্যজনক। এই আইসিইউর অভাবটা পূরণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়র সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের আহ্বায়ক সাংবাদিক আব্দুন নূর বলেন, উপজেলা থেকে একজন গুরুতর রোগীকে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতে আনা হয়। তারপর আবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতাল থেকে ঢাকায় পাঠানো হয়। এসব করতে করতেই রোগী এক সময় মৃত্যুর দিকে ঢলে পড়েন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আইসিইউ বেড এখন সময়ের দাবি। আইসিইউর অভাবে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। জেলা শহরের আইসিইউ বেড থাকলে দ্রুত চিকিৎসার অভাবে যে রোগীগুলোর মৃত্যু হয়, তা থেকে একটু নিস্তার পাওয়া যাবে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের তত্বাবধায়ক,ডাক্তার মোঃ শওকত হোসেন বলেন, আমাদের ধারণ ক্ষমতার বাইরে রোগীর সংখ্যা বাড়লে সেবা দিতে হিমশিম খেতে হবে। হাসপাতে যে লোকবল আছে তা দিয়ে আমরা চিকিৎসা সেবা দিতে পারব না। সে ক্ষেত্রে আমাদের সংত্রুমণের হার কমাতে হবে। তা না হলে আমাদের বিপদের দিকে পড়তে হবে। তাই তিনি সকলকে সচেতন হওয়া আহ্বান জানান।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন মোহাম্মদ একরামুল্লাহ বলেন, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আইসিইউর বেডের জন্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে। তবে কবে নাগাদ আসবে তা বলা যাচ্ছে না বলে তিনি জানান।
জেলা প্রশাসক হায়াত উদ দৌলা খাঁন বলেন, ‘স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে আমরা আবেদন করেছি। দ্রুত সময়ে মধ্যে আমরা পাঁচটি আইসিইউ বেড পাব বলে আশা করছি। এদিকে চিকিৎসার পাশাপাশি সচেতনতাই রোধ করতে পারে করোনার প্রকোপ এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।
মোঃ রাসেল আহমেদ/বার্তাবাজার/পি