বাংলাদেশের বুকে আরেকটি দাগ লাগার ঘটনা ঘটে চকবাজারে। এখনো অনেকে স্বজন হারিয়ে ভুলতে পারেনি সেই দিনের কথা। ওইদিন চকবাজার যেন এক জ্যান্ত শশানে পরিণত হয়েছিলো।
২০১৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর ঢাকায় চকবাজারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। সেখানে একটি গ্যাস সিলিন্ডারের বিস্ফোরণ হয়ে সৃষ্ট আগুন পার্শ্ববর্তী ভবনসমূহে ছড়িয়ে পড়ে এবং বৈদ্যুতিক ট্রান্সমিটার বিস্ফোরিত হয়ে সম্পূর্ণ এলাকা বিদ্যুৎ-সংযোগবিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। দমকল বাহিনী পাঁচ ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হলেও (সরকারি হিসাব মতে) ততক্ষণে ঘটনাস্থলে অগ্নিদগ্ধ হয়ে ৭৮ জন মারা যান। আর এমন ঘটনার ঘটার কারণ জেনেও যেন ভয় হয়নি যশোরের বড়বাজারের হাটখোলা রোডে আলু পট্টিতে অবস্থিত কয়েকটি হোটেল মালিকদের।
যশোরের বড় বাজার হাটখোলা রোডের আলু পট্টিতে দেখা মিলে চিত্রের ন্যায় এমন হোটেলের। সামনে কাপড় বা বেড়া দিয়ে ঢাকা। দেখলে বোঝাই যাবে না যে এটা কোন খাবার হোটেল নাকি অন্য কোন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।
বড় বাজার যশোরের সব থেকে বড় পাইকারী বাজার। আর এই হাটখোলা ও আলু পট্টিতে প্রায়ই সবই পাইকারী মালামালের দোকান এবং কাচামালের আড়ৎ আর এরি ফাঁকে লুকিয়ে ব্যবসা করছে দু-একটি খাবারের হোটেল। বেচাকেনা ভালো হয় তাই ঝুকির কথা তুচ্ছ করে এই ঝুকিপূর্ণ জায়গায় হোটেল ব্যবসা করেন এই হোটেল ব্যবসায়ীরা।
হাটখোলা ও আলু পট্টি রোডে দু-পাশে দুই সারির দোকান মাঝে গলি দিয়ে যাতায়াতের জন্য মাত্র ৩ ফুট দূরত্ব। আর এই অলিগলিতে কম করে হলেও সব সময় ৩০-১০০ জন লোকের আসা যাওয়া। আর এই অসাধু হোটেল গুলো এই ঝুকিপূর্ণ জায়গায় রান্নাবান্নার কাজে ব্যবহার করছে গ্যাস সিলিন্ডার বা কেরসিন বা গ্যাসের চুলা। যা কি না কতটুকু ভয়াবহ তা চকবাজারের দৃশ্য আমাদের মনে করিয়ে দেয়। একটি মাত্র গ্যাস সিলিন্ডার মুহুর্তে কেড়ে নিতে পারে কয়েকশত প্রাণ। আগুন লাগলে এই আলু পট্টি থেকে বের হবার কোন রাস্তাই থাকবে না।
আলু পট্টি মার্কেটে একটি দোকানের সাথে আরেকটি দোকানের চাল আাটা। আবার ইলেক্ট্রিক লাইনের তারের তো অভাবই নাই। এমন ঝুকিপূর্ণ জায়গায় যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা। এ ধরনের কোন কিছু ঘটলে এখানে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি বা সরঞ্জাম ঢোকাও অসম্ভব।
গতবছর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানারকম লেখা ও ভিডিও প্রকাশ হলেও এখনো পর্যন্ত প্রশাসনকে এই সকল ঝুকিপূর্ণ হোটেল অপসারণে কোন পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। এতে মার্কেট কতৃপক্ষকেও নিরব ভুমিকা পালন করতে দেখা গেছে।
দৈনন্দিন বাজার সদাই করতে আসা ক্রেতাদের দাবী দ্রুত এই সকল ঝুকিপূর্ণ হোটেল এখান থেকে সরিয়ে খোলা জায়গায় নিয়ে যাওয়া হোক। নতুবা যেকোন সময় খারাপ ঘটনা ঘটতে পারে। হারাতে হতে পারে কারো স্বজনদের।
এ্যান্টনি দাস(অপু)/বার্তবাজার/পি