রাজধানীর গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালের করোনা ইউনিটে লাগা আগুনে পুড়ে মারা যাওয়া ৪ জনের প্রত্যেকের পরিবারকে ২৫ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্টের আপিল বিভাগ। আদেশের কপি হাতে পাওয়ার এক মাসের মধ্যে এই টাকা বুঝিয়ে দিতে ইউনাইটেড হাসপাতালকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের ৬ বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ থেকে বৃহস্পতিবার (২৯ এপ্রিল) এই আদেশ দেওয়া হয়।
এর আগে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে করা ইউনাইটেড হাসপাতাল সংশ্লিষ্টদের এক আবেদনের ওপর শুনানি শেষে এই আদেশ সংশোধন করা হয়। পরে এই আদেশ দেন আপিল বিভাগ।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন ব্যারিস্টার তানজিব-উল আলম ও ব্যারিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান খান। ক্ষতিগ্রস্থদের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার হাসান এমএস আজিম ও ব্যারিস্টার অনীক আর হক।
হাইকোর্ট গত ১১ জানুয়ারি এক আদেশে ইউনাইটেড হাসপাতালে আগুনে পুড়ে মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ চারজনের প্রত্যেকের পরিবারকে আদেশের কপি পাবার ১৫ দিনের মধ্যে ৩০ লাখ টাকা করে দিতে নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে প্রত্যেক পরিবারকে ১৫ কোটি টাকা করে দিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন।
এই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতির আদালতে আবেদন করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আদালত স্থগিতাদেশ দিয়ে তাদের আবেদন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠিয়ে দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় এ আবেদনের ওপর শুনানি হয়। শুনানি শেষে আপিল বিভাগ ৩০ লাখ টাকার পরিবর্তে ২৫ লাখ টাকা করে দিতে নির্দেশ দেন। ১৫ দিনের পরিবর্তে একমাসের মধ্যে এই টাকা দিতে বলা হয়েছে।
গতবছর ২৭ মে রাতে রাজধানীর গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন ইউনিটে এসি বিস্ফোরণের আগুনের সূত্রপাট ঘটে। ফায়ার সার্ভিস আগুণ নিয়ন্ত্রণে আনে।
পরে ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মৃতদের মধ্যে ছিলেন চারজন পুরুষ এবং একজন নারী। মৃত ব্যক্তিরা হলেন মো. মাহবুব (৫৭), মো. মনির হোসেন (৭৫), ভেরুন এ্যান্থনী পল (৭৪), খাদেজা বেগম (৭০) এবং রিয়াজুল আলম লিটন(৪৫)।
অগ্নিকাণ্ডের এই ঘটনার ৩ দিন পর হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন ব্যারিস্টার নিয়াজ মুহাম্মদ মাহবুব ও ব্যারিস্টার শাহিদা সুলতানা শিলা।
বার্তা বাজার/এসজে