১৯৯১ সালের বয়ে যাওয়া সেদিনের ঘূর্ণিঝড়ের থাবায় আশ্রয়হীন হয়ে পড়া চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপকূলীয় বাসীর কাছে ঐতিহাসিক এক ভয়াল প্রলয়ংকরী দিন ২৯ এপ্রিল। সে থেকে উপকূলবাসীর দাবী ছিল টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার উপকূলবাসীর সুরক্ষায় স্থানীয় সাংসদ ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ এমপির প্রচেষ্টায় বেড়িবাঁধের নির্মাণের ৫শত ৭৭ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
পানি উন্নয়ন বোর্ডর নির্বাহী প্রকৌশলী দয়াল কুমার ত্রিপুরা জানান, আনোয়ারা উপকূলের তিনটি প্যাকেজের বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজ চলছে। এছাড়া খালের বেড়িবাঁধও নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। বর্তমানে বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য ৫শত ৭৭ কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ হচ্ছে। করোনা ভাইরাসেও থেমে ছিল না উন্নয়ন কাজ। ইতিমধ্যে পুরো প্রকল্পের ৬৬% কাজ শেষ হয়েছে। আগামী একমাসের মধ্যে উন্নয়ন কাজ শেষ হবে বলে আশা করছি।
সরোজমিনে (বুধবার ২৮ এপ্রিল) দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের বাইন্নার দিঘী, ফকির হাট, ঘাটকূল, বার আউলিয়া, উত্তর গহিরা, দক্ষিণ গহিরা, মধ্যম গহিরা, পরুয়াপাড়া ফুলতলী এলাকাসহ উপকূলে চলছে বেড়িবাঁধ নির্মানের কর্মযজ্ঞ। এ বেড়িবাঁধের কাজ শেষ হলে পাল্টে যাবে উপকূলবাসীর জীবনযাপনের চিত্র। স্থানীয় বিদ্যালয়ে প্রবীণ শিক্ষক মৌলানা আবদুর রহিম বলেন, আমাদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন একটি টেকসই বেঁড়িবাঁধের। আজ এ এলাকায় বেঁড়িবাঁধ নির্মাণ হচ্ছে। এতে আমরা খুবই আনন্দিত। এখন ঘুর্ণিঝড় আসলে আমাদের আর পানি উঠার ভয়ে বাড়ি ছেড়ে দৌঁড়াতে হবে না। ধন্যবাদ জানায় বর্তমান সরকারকে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও রায়পুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি আমিন শরীফ জানান, ২৯ এপ্রিল দিনটি আসলেই আমরা শিউরে উঠি। এ দিনে বঙ্গোপসাগরের তীরবর্তী এলাকায় বসবাসরত মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। আমার পরিবারের ভাই-বোনসহ নিহত হন আত্মীয় স্বজন অনেকেই। সে আঘাতে বিলীন হয়ে যায় আমাদের বসতভিটা ও কবরস্থান। সেদিন থেকে এলাকার মানুষের দাবী টেকসই বেঁড়িবাঁধের। আজ ভূমিমন্ত্রীর প্রচেষ্ঠায় বর্তমান শেখ হাসিনা সরকার এটি বাস্তবে রূপ দিয়েছে। এখন আমরা রায়পুরবাসী সুরক্ষিত। রায়পুরের মানুষ এখন আর ঘুর্ণিঝড়কে ভয় করে না। বেঁড়িবাঁধ পুরোপুরি নির্মিত হলে পাল্টে যাবে রায়পুরের চিত্রও।
রায়পুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জানে আলম বলেন, উপকূল রক্ষায় ভূমিমন্ত্রী মহোদয়ের প্রচেষ্টায় সরকারের বরাদ্দকৃত কাজ যথাযথ বাস্তবায়ন ও সম্পন্ন হলে ইউনিয়নের অর্ধলক্ষ মানুষের সঙ্কা দূর হবে। যে সব এলাকায় এখনো ব্লক বসানো হয়নি আগামী বর্ষার আগেই ব্লক বসানোর কাজ শেষ না করলে মানুষের সঙ্কা কাটবেনা।
১৯৯১ সালের এইদিনকে স্মরণ করে ঘূর্ণিঝড়ে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় প্রতি বছর ২৯ এপ্রিল ঘরে-ঘরে মিলাদ মাহফিল, কোরআনখানি, দোয়া কামনা, দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণসহ বিভিন্ন আয়োজনে দিনটি পালন করে আনোয়ারা উপকূলীবাসী।
সুমন শাহ্/বার্তাবাজার/পি