যশোরে সাপ্লাই লাইন দিয়ে ১ লিটারের বোতল ভরতে সময় লাগে ৩০ মিনিট
যশোরের টিউবওয়েলগুলো প্রায়ই পানিশূন্য। যার ফলে পানির তীব্র সংকটে পড়েছে যশোর জেলার মানুষ। যশোর পৌরসভার সাপ্লাই পানির লাইন দিয়ে পানি আসছে না বললেই চলে। এতে খাবার পানি তো দূরের কথা ও গৃহস্থলীর ধোয়া মোছারও পানি পাওয়া কঠিন। এদিকে যারা সারাবছর পৌরসভার সরবরাহকৃত পানির উপর নির্ভরশীল তারাও এই খরা মৌসুমে এসে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। আবার যারা টিউবওয়েল ব্যাবহার করতো তারাও টিউবওয়েলে পানি না পেয়ে সাপ্লাই পানির লাইনে পানি নেওয়ার জন্য সিরিয়াল দিয়ে দাড়িয়ে থাকছেন। তারা এ বিষয়ে জরুরি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
যশোর পৌরসভার সুত্র জানায়, এই পৌরসভায় ২৩ হাজার ৫০৬টি বাড়িতে পানি সংযোগ রয়েছে। এসব সংযোগে দৈনিক পানির চাহিদা ২৬ হাজার ৩৩০ ঘন মিটার। অতিরিক্ত গরমের সময় এই চাহিদা প্রতিবছর আরও বাড়ে। তবে উত্তোলন হচ্ছে ২৩ হাজার ৬৬০ ঘনমিটার। আর এর ফলে গত কয়েক মাস ধরে পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ পানির লাইনে ধীর গতির খবর পাওয়া গেছে।
যশোর শহরের রেলগেট, ষষ্ঠিতলা, বেজপাড়ার কয়েকটি অংশ, লোনঅফিস পাড়া, সার্কিট হাউজ এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে পানির সংকটে দুর্ভোগে আছেন মানুষ।
শহরের ষষ্ঠিতলা এলাকার গৃহীনিরা বার্তা বাজারকে বলেন, কয়েক মাস ধরে খাবার পানি পরিমানমতো পাচ্ছেন না। তারা পাশের বাড়ি থেকে পানি নিয়ে এসে বাড়ির কাজ করছেন। তবে পাশের বাড়িতেও পানি সংকট রয়েছে। বেশ কিছুদিন ধরে সরবরাহের পানি আসছে না বললেই চলে। আর যেটুকু আসছে তাতে বালি ও ময়লা রয়েছে। ফলে খাওয়ার জন্য, গোসল, কাপড়-চোপড় ধোয়া, বাসন-কোসন ধোয়া, ঘর মোছার কাজে সমস্যা হচ্ছে। এতে আমরা সাস্থ্য ঝুকিতেও রয়েছি।
ষষ্ঠিতলা এলাকার আলামিন শেখ বলেন, চলতি রমজান মাসে পানির কষ্ট বেশি মনে হচ্ছে। এসময় সকাল ও বিকেলে বেশি পানির প্রযোজন হয়। তবে দুঃখের বিষয় সেই সময়ই পানি পাওয়া যায় না। আমরা খুব পানির কষ্টে আছি। সাপ্লাই লাইনের পানি দিয়ে ১ লিটারের বতল ভরতে ১ ঘন্টা সময় লাগে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পৌরসভা পানি সরবরাহ করতে না পারলেও নিয়মিত পানির বিল নিয়ে যাচ্ছেন পৌর কর্তৃপক্ষ।
যশোর পৌরসভার সচিব আজমল হোসেন বার্তা বাজারকে মুঠোফোনে বলেন, প্রয়োজনের তুলনায় পানি উত্তলোনের কারণে কিছু এলাকায় পানি সংকট রয়েছে। এছাড়া পাম্পে পানি কম উঠার কারণে বালি উঠতে পারে। সব বিষয়ে আমরা নজর রেখেছি। তিনি বলেন, ইতিমধ্যে চারটি পাম্প নষ্ট ছিল। তার মধ্যে তিনটি ঠিক করা হয়েছে। সবগুলো ঠিকঠাক চললে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে পানির সমস্যার সমাধান হবে।
এ্যান্টনি দাস/বার্তাবাজার/ভিএস