তরমুজ-কাঁঠালের পর বেলও কেজি দরে বিক্রি

রমজান ও গরমে বেলের শরবতের চাহিদা বেড়ে যায়, চাহিদা বাড়ে এই ফলটিরও। যার ফলে বাজারে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকে বেল। আর এ সময়ে বেলের চাহিদাটাকে পুঁজি করে একটা বিশেষ সিন্ডিকেটে বেশি মুনাফার আশায় বেছে নিয়েছে অসাধু পন্থা।

সম্প্রতি দেশের বহু এলাকায় কেজি দরে তরমুজ ও কাঁঠাল বিক্রি হতে দেখা গেছে। যার জন্য প্রশাসনের অভিযানও ছিল চোখে পড়ার মত। এবার বরগুনায় কেজি দরে বেল বিক্রি শুরু হয়েছে। কৃষক ও পাইকারি পর্যায় থেকে পিস দরে কিনে তা কেজি দরে বিক্রি করায় ঠকছেন সাধারণ ক্রেতারা।

তবে নতুন উদ্ভাবিত এই পন্থায় বেল বেঁচতে গিয়ে খুচরা বিক্রেতারাও পাচ্ছেন না সুবিধা। তাদের ধারণা, কেজি দরে বেল বিক্রি করাতে খুচরা পর্যায়ের বিক্রেতা ও সাধারণ ক্রেতারাই ঠকছেন। আর লাভবান হচ্ছে কেবল মধ্যস্বত্বভোগী সিন্ডিকেট।

তারা বলছেন, পিস হিসেবেই বিক্রি হতো বেল। কিন্তু এখন তা কেজি দরে বিক্রি হয়। আর ক্রেতারা বলছেন, সিন্ডিকেটের কারণে নিরুপায় হয়ে কেজি দরে কিনতে হচ্ছে পুষ্টিগুণে ভরপুর এই ফলটি। এতে দাম বেশি পড়লেও নিরুপায় তারা।

বরগুনা শহরের রাস্তার পাশের ফল বিক্রেতা খোরশেদ আলম জানান, কখনো বেল কেজি দরে বিক্রি হতে পারে তা সে নিজেও কোনো দিন ভাবতে পারেননি। অথচ এ বছর রমজানেই তরমুজ আর কাঁঠালের দেখাদেখি বেলও কেজি দরে বিক্রি শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, এখন বেল পিস হিসেবে বিক্রি হয় না। এখন বেল বিক্রি হচ্ছে কেজি দরে। আমিও তো সারাজীবন দেখেছি- বেল পিস হিসেবে বিক্রি হয়। কিন্তু এখন তা আর হয় না। এখন কেজি দরেই বেল বিক্রি হচ্ছে।

একই বাজার থেকে তিনটি বেল কেজি দরে ৮৫ টাকায় কেনা আবুল হোসেন হাওলাদার বলেন, এই তিনটা বেল সর্বোচ্চ ৪৫-৫০ টাকায় পিস হিসেবে কিনতে পারতাম। কিন্তু এখন তা দ্বিগুণ দামে কিনতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে বরগুনার ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ সেলিম বলেন, সম্প্রতি বরগুনায় বেল কেজি দরে বিক্রি শুরু হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে আমরা ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন মানুষের সাথে কথা বলা শুরু করেছি। শিগগিরই আমরা এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

বার্তা বাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর