ইসলামপুরে ইউএনওর অভিযানে তরমুজ বিক্রি হচ্ছে কেজি থেকে পিসে
জামালপুরের ইসলামপুরে কেজি দরে ও বেশি দামে তরমুজ বিক্রি করায় অভিযান চালিয়ে এক ব্যবসায়ীকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। বুধবার(২৮ এপ্রিল) দুপুরে ইউএনও এস.এম. মাজহারুল ইসলাম ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।
এ সময় পৌর শহরের থানা মোড়স্থ একটি ফলের দোকানে কেজি দরে এবং বেশি দামে তরমুজ বিক্রির দায়ে এরশাদ শেখ নামে এক ব্যবসাীকে ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, মৌসুমের শেষের দিকে রমজান ও গরম থাকায় উপজেলার প্রতিটি হাট-বাজারে চাহিদা বেড়েছে তরমুজের। আর এই চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কেজি দরে বিক্রি করছেন তরমুজ। কেজি হিসেবে তরমুজ কিনতে গিয়ে অতিরিক্ত দাম গুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের।
উপজেলার নিত্য বাজার, থানা মোড়, দেনুয়ার মোড়, রেলগেট, ধর্মকুড়া বাজার,বঙ্গবন্ধু মোড় এলাকার বিক্রেতারা ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি ধরে তরমুজ বিক্রি করছেন। মাঝে মধ্যে ক্রেতা ও তরমুজ বিক্রেতাদের মধ্যে কথা কাটাকাটির ঘটনাও ঘটছে।এই গরমে মন চাইলেও অনেকে তরমুজের স্বাদ নিতে পারছেন না। তরমুজের দাম বেশী হওয়ায় অনেকেই তরমুজ না কিনে শুন্য হাতে বাড়ি ফিরছেন। তবে পাইকাররা বলছেন, পাইকারি বাজার থেকে পিস হিসাবে নেওয়া তরমুজ খুচরা বাজারে কেজিতে বিক্রি করার কারণেই ভোক্তা পর্যায়ে দাম বাড়ছে তরমুজের।
আর ক্রেতারা বলছেন, তরমুজের বাজার বড়ই চড়া।উপজেলার গুঠাইল বাজারের তরমুজ ব্যবসায়ী মোরাদ ফকির জানান, বড় পাইকাররা সরাসরি আড়ত থেকে তরমুজ কিনে আনেন। আবার অনেক চাষি তরমুজ নিয়ে বড় পাইকারদের কাছে আসেন। তবে যেভাবেই হোক না কেনো পিস হিসেবেই তরমুজের ক্রয়-বিক্রিয় করা হয়। আবার পাইকাররাও এনে খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে পিস হিসেবেই বিক্রি করে থাকেন এসব তরমুজ। রামভ্রদ্রা বাজারের তরমুজ ব্যবসায়ী আকবর আলী জানান, এবার বাজারে চাহিদা বেড়ে যাওয়ার কারণে কেজি দরে বিক্রি করছি তরমুজ।
কেজিতে বিক্রি করলে লাভ ভালো হয়। তাই আমরা যতো খুরচা ব্যবসায়ী আছি সবাই মিলে কেজিতেই বিক্রি করছি। তরমুজ ক্রেতা মিসেস সামাদ জানান, পাইকারি বাজার থেকে একসঙ্গে অনেক তরমুজ কিনতে হয়, কিন্তু খুচরা বাজারে ভোক্তা তার প্রয়োজন অনুসারে কিনতে পারেন। এ সুযোগটাকে কাজে লাগিয়ে খুচরা বাজারের ব্যবসায়ীরা তরমুজ বাজারে সিন্ডিকেট বাণিজ্য চালিয়ে আসছেন। যে কারণে পিস হিসেবে কিনে কেজি হিসেবে সব খুচরা ব্যবসায়ীরাই জোট বেধে তরমুজ বিক্রি শুরু করেছেন।
গাইবান্ধা ইউপির বলিদাপাড়া গ্রামের সমাজ সেবক কালা মানিক জানান, ‘তরমুজের ভেতরের রসালো লাল অংশ টুকুই খাওয়া হয়ে থাকে। সেখানে যে ওজন থাকে তার সমপরিমাণ ওজন থাকে বাকল বা ছোলাতে। আর ছোলা ফেলে দেয়া হয়। কিন্তু যখন তরমুজ কিনেছি তখন সেই ফেলে দেয়া অংশসহ ওজন দিয়েই নিয়েছি। তিনি আরো জানান, ‘আমার বয়সেও কেজি ধরে তরমুজ কিনি নি। সময় পিস হিসেবেই কিনেছি। কিন্তু এবার সব দোকানেই ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। যদি প্রশাসনের পক্ষ থেকে নজরদারি বা তদারকির অভিযান চলমান থাকে, তাবে ব্যবসায়ীরা যে সিন্ডিকেট করেছে তা বন্ধ হতো।
ইউএনও এস এম মাজহারুল ইসলাম জানান, তরমুজের বাজার নিয়ন্ত্রণে অভিযান চলমান থাকবে। যদি কেউ কেজিতে তরমুজ বিক্রি করে থাকে, তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ইয়ামিন মিয়া/বার্তা বাজার/এসজে