সিরাজগঞ্জে পরিত্যক্ত পুকুর পুনঃখনন, ফিরে পাচ্ছে হারানো গৌরব

মৎস্য প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্পের আওতায় ২০২০-২০২১ অর্থবছরে সিরাজগঞ্জে পরিত্যক্ত ৪০টি পুকুর সরকারিভাবে পুনঃখননের ফলে মাছ উৎপাদনের হারানো গৌরব ফিরে পাবে বলে আশার আলো দেখছেন সুফলভোগীরা।

জেলা মৎস্য দপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলার সিরাজগঞ্জ সদর, উল্লাপাড়া, তাড়াশ ও রায়গঞ্জ উপজেলায় প্রায় ৪ কোটি টাকা ব্যায়ে ৩৮হেক্টর আয়তনের ৪০ টি সরকারি পুকুর পুনঃখনন করা হচ্ছে। যার প্রায় ৭০ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে স্থানীয় সুফলভোগীদের মাধ্যমে সম্পন্ন করেছে জেলা মৎস্য দপ্তর। অবশিষ্ট ৩০ শতাংশ কাজ চলমান রয়েছে। যা আগামী ৩০ জুনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

বুধবার (২৮ এপ্রিল ২১) ওই সকল উপজেলা ঘুরে জানা যায় বছরের পর বছর ধরে পুকুরগুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়েছিল।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে পুকুরগুলো পুনঃখনন করায় সহজেই পুকুরপাড়েও এর আশপাশে বসবাসকারী হতদরিদ্ররা মাছ চাষ করে নিজেদের জীবনমান পরিবর্তন করতে সক্ষম হবেন। এ থেকে আর্থিকভাবে সচ্ছল হবেন জেলার ৫১১ জন সদস্য। পাশাপাশি আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়ে বৃদ্ধি পাবে তাঁদের সামাজিক মর্যাদা।

উল্লাপাড়া উপজেলার কাটানী দিঘী পুকুরের সুফলভোগীদের দলনেতা মো. রাসেল আহম্মেদ জানান, কাটানী দিঘী পুকুরে ঠিকভাবে পানি থাকতো না। ফলে মাছ চাষ করা যেতো না। এখন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা শেখ হাসিনা মাছ উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষে এ বছর আমাদের এ পুকুর খনন করে দিয়েছে। আমরা এখন ভালো ভাবে মাছ চাষ করে নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে বাজারে বিক্রি করতে পারবো।

রায়গঞ্জ উপজেলার জোরপূর্ব পুকুর পুনঃখনন প্রকল্পের সভাপতি মো. রহমত আলী বলেন, মাছে-ভাতে বাঙালি- কথাটি এমনি এমনি আসেনি। এমন বাঙালিও আছেন, যিনি কিনা খেতে বসে মাছ রান্না হয়নি জেনে উঠে গিয়ে বাড়ির পুকুর কিংবা পাশের জলাশয় থেকে ছিপ অথবা জাল দিয়ে মাছ ধরে কেটে-ধুয়ে ভেজে নিয়ে তবে ভাত খাওয়া শুরু করেন! সেই হারানো দিন গুলো এখন আমরা ফিরে পাবো এই খননের মাধ্যমে। তাছাড়া পারিবারিক প্রয়োজনে মাছ চাষের ধারণা এখন বদলে গেছে। ভোক্তাদের এখন নিজের পুকুরের মাছ খাওয়ার পাশাপাশি বাজার থেকে কেনার প্রবণতাও বেড়েছে।

এ দিকে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. সাহেদ আলী জানান, জেলায় মাছের চাহিদা রয়েছে ৬৪ হাজার ৪’শ ৭৫ মেট্রিকটন। আর এর বিপরীতে উৎপাদিত হয় ৬৭ হাজার ৫’শ ৮৪ মেট্রিকটন। পূর্বে এ জেলায় মাছ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ১ দশমিক ২০ থেকে ১ দশমিক ৫০ মেট্রিকটন। তবে এ বছরে পরিত্যক্ত জলাশয় গুলো পুনঃখননে লক্ষ্যমাত্রা দাঁড়াবে ৫ দশমিক থেকে ৫ দশমিক ৫০ মেট্রিকটন পর্যন্ত। মৎস্য অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (রাজশাহী) মো. তোফাজউদ্দিন মুঠোফোনে বলেন, সিরাজগঞ্জে জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্পের আওতায় ৪০ টি প্রকল্পের কার্যক্রম বাস্তবায়ন হচ্ছে। এতে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। সেই সাথে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ আরও বেড়ে যাবে।

এম এ মালেক/বার্তাবাজার/পি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর