এমপি’র ভুয়া পিএস পরিচয়ে প্রতারণা, প্রতারক গ্রেপ্তার

প্রথমেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ‘শিবলী সাদিক এমপি’ নামে একটি একাউন্ট চালু। এর পর নিজেকে দিনাজপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য শিবলী সাদিকের ভুয়া ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) পরিচয়ে প্রতারণার এক বিশাল জাল তৈরি করে জুয়েল নামে এক যুবক। ফেসবুকের ম্যাসেঞ্জারে বিভিন্ন ব্যক্তিকে চাকুরী নিয়ে দেওয়ার কথা বলে মোটা অঙ্কের টাকা গ্রহণ করত সে।

এমপি’র ভুয়া পিএস পরিচয়ে ম্যাসেঞ্জারে দিনাজপুরের ফুলবাড়ি উপজেলার প্রতিষ্ঠিত কাপড় ব্যবসায়ী আকবর আলী শাহের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলে প্রতারক জুয়েল। সখ্যতার এক পর্যায়ে গত বছরের ১০ মে জুয়েল আববর আলীর দোকান থেকে এমপি’র স্ত্রীর পরিধানের জন্য বাকিতে প্রায় ৭০ হাজার টাকার পোশাক ক্রয় করে সে। এর নয় দিন পর গত বছরের ১৯ মে প্রতারক জুয়েল ম্যাসেঞ্জারে আকবর আলীকে জানায় সাংসদ শিবলী সাদিক দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলায় ত্রাণ বিতরণ করছে এবং বাড়িতে মনের ভুলে টাকা রেখে আসায় এমপির জরুরী ভিত্তিতে কিছু টাকার প্রয়োজন। এমপি’র টাকার প্রয়োজন! এই কথা শুনে ব্যবসায়ী আকবার আলী দ্রুত সময়ে ভুয়া পিএস জুয়েলের দেওয়া বিকাশ নাম্বারে ৩০ হাজার টাকা পাঠায়।

পরে বিষয়টি জানাজানি হলে গত বছরের ২৩ মে ঘোড়াঘাট উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আশরাফুল ইসলাম বাদী হয়ে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে ঘোড়াঘাট থানায় একটি এজাহার দায়ের করে।

এর পরে ভুয়া পিএসকে শনাক্ত করতে মাঠে নামে দিনাজপুর জেলা পুলিশের বেশ কয়েকটি ইউনিট। পুলিশের তদন্তে বেড়িয়ে আসে ভুয়া পিএস পরিচয় দানকারী প্রতাকর জুয়েল মূলত ছদ্দনাম ব্যবহার করে প্রতারণা করত। তার আসল নাম বিকাশ রায় (২৬)। সে দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার দূর্গাপুর বানিয়াপাড়া গ্রামের দক্ষনাথ রায়ের ছেলে। বিকাশ রায় সহ তার আরো বেশ কয়েকজন সহযোগী দীর্ঘদিন থেকে এই প্রতারণা কাজে জড়িত।

দীর্ঘ ১ বছর পর গত মঙ্গলবার (২৭ এপ্রিল) রাতে ঘোড়াঘাট থানার ওসি আজিম উদ্দিনের নেতৃত্বে উপ- পরিদর্শক জিয়াউর রহমান এবং মতিউর রহমান প্রযুক্তির সহযোগীতায় চিরিরবন্দর থানা এলাকা থেকে প্রতারক বিকাশ রায়কে গ্রেপ্তার করে। এরপর বিকাশ রায়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী তার আরেক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করতে ঠাকুরগাঁও জেলায় অবস্থান নেয় পুলিশ। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বিকাশ রায়ের সহযোগী কৌশলে পালিয়ে যায়।

মামলার বাদী ঘোড়াঘাট উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আশরাফুল ইসলাম জানান, জুয়েল অথবা বিকাশ রায় নামে সাংসদ শিবলী সাদিকের কোন পিএস কোন দিনই ছিল না। প্রতারক চক্রটির সম্পর্কে আমাদের সাংসদ বিষয়টি অবহিত হলে, তার নির্দেশে আমি পুরো ঘটনার বিবরণ দিয়ে থানায় এজাহার দায়ের করি। পুলিশ তদন্ত করে প্রতারককে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়।

ঘোড়াঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আজিম উদ্দিন বলেন, বেশ কয়েকমাস আগেই আমরা বিকাশ রায়ের পরিচয় ও ঠিকানা শনাক্ত করেছি। তবে প্রতারক বিকাশ কৌশল অবলম্বন করে বার বার নিজের অবস্থান পরিবর্তন করে আসছিল। যার কারণে তাকে একাধিক বার গ্রেপ্তারের চেষ্ঠা করলেও, আমরা ব্যর্থ হয়েছি। তবে অবশেষে তাকে গ্রেপ্তার করে বুধবার (২৮ এপ্রিল) সকালে দিনাজপুরের বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। এই ঘটনায় আমরা এখনও পর্যন্ত ৩ জনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি। বাকি প্রতারকদেরকে গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে।

বার্তাবাজার/পি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর