প্রধান শিক্ষকের অবহেলায় জমা হয়নি টাকা, দুশ্চিন্তায় ২৮ এসএসসি শিক্ষার্থী
ফরম পূরণের টাকা জমা দেওয়ার পরও প্রধান শিক্ষকের অবহেলায় নির্ধারিত তারিখের মধ্যে ফরম পূরণ না হওয়ায় কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার গুনাইগাছ ইউনিয়নের নন্দুনেফরা আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০২১ শিক্ষাবর্ষের সকল শিক্ষার্থীর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীদের দাবি, তারা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে নির্ধারিত সময়ে ফরম পূরণের টাকা জমা দিলেও প্রধান শিক্ষকের অবহেলায় তাদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে নিজেদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর আবেদন করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা।
প্রসঙ্গত, নন্দুনেফরা আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় একটি এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এবছর ওই বিদ্যালয় থেকে ২৮ শিক্ষার্থীর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এদের মধ্যে ৩ শিক্ষার্থী বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এবং অপর ২৫ শিক্ষার্থী মানবিক বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিলম্ব ফিসহ গত ১৫ এপ্রিল তাদের ফরম পূরণের শেষ দিন ছিল।
এদিকে ইউএনও নূর-এ-জান্নাত রুমি জানিয়েছেন, তিনি মঙ্গলবার দুুপুরে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অভিযোগপত্র পাওয়ার পরপরই উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন। এ ব্যাপারে তদন্তপূর্বক যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ারও আশ্বাস দেন ইউএনও।
অভিযোগপত্র সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে যথাসময়ে ফরম পুরনের এর টাকা জমা দিলেও তিনি শিক্ষাবোর্ড কর্তৃক র্নিধারিত সময়ের মধ্যে ফরম পূরণের ব্যবস্থা করেননি। বিষয়টি জানার পর শিক্ষার্থীরা প্রধান শিক্ষকের সাথে দেখা করলে তিনি (প্রধান শিক্ষক) জানিয়েছেন, কীভাবে ফরম পূরণ করবেন সেটি তার বিষয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফরম পূরণ না হওয়ার পরও তারা কীভাবে পরীক্ষায় অংশ নেবে এ নিয়ে মারাত্মক মানসিক চাপে তাদের পড়াশোনা বিঘিœত হচ্ছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করে ওই ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা।
অভিযোগপত্রে শিক্ষার্থীরা আরও দাবি করেন, প্রধান শিক্ষকের একই ধরণের অবহেলার কারণে ২০০০ সালে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি। এবছরও একই ঘটনার যাতে পূণরাবৃত্তি না ঘটে সেজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন ভুক্তভোগীরা।
এ ব্যাপারে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক ফিরোজ শাহ আলম বার্তাবাজারকে বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতিতে ফরম পূরণ স্থগিত সংক্রান্ত গণমাধ্যমে প্রকাশিত একটি সংবাদ পড়ে আমি শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণ স্থগিত রেখেছিলাম। তবে বিষয়ে কোনও দাপ্তরিক চিঠি পাইনি। পরে নির্ধারিত তারিখ শেষে বোর্ডে যোগাযোগ করলে আমাকে বোর্ড থেকে ফরম পূরণের বিষয়ে আশ্বস্ত করা হয়েছে। আগামী সপ্তাহে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানা যাবে।’
চলতি বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে যাওয়া কোনও শিক্ষার্থীরই ফরম পূরণ করা সম্ভব হয়নি জানিয়ে এই প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনও কারণ নেই। তাদের ফরম পূরণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং তারা পরীক্ষায় অংশও নিতে পারবে।’
উলিপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ্ মো. তারিকুল ইসলাম বার্তাবাজারকে জানান, ‘বিষয়টি নিয়ে আমি প্রধান শিক্ষককে সাথে কথা বলেছি। তিনি দাবি করেছেন যে বোর্ডে কথা বলে তিনি আগামী সপ্তাহে শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণের ব্যবস্থা করবেন। বোর্ডে যোগাযোগ করে যেকোনও উপায়েই ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে বলা হয়েছে।’
এক প্রশ্নের জবাবে এই শিক্ষা কর্মকর্তা বার্তাবাজারকে বলেন,‘ কোনও বিদ্যালয়ে এ ধরণের ঘটনা না ঘটলেও ওই প্রধান শিক্ষক কেন এটা করলেন তা বোধগম্য নয়। আমি মনে করি তিনি বড় ধরনের অপরাধ করে ফেলেছেন। পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা কিংবা অটো পাশ দুটো প্রক্রিয়ার জন্যই শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণ জরুরী।’
সুজন মোহন্ত/বার্তাবাজার/ভিএস