বিশ্বের ১৩ কোটি ৬০ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছেন কোভিডের মারাত্মক ঝুঁকিতে: আইএলও

বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৩ কোটি ৬০ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী কোভিডে আক্রান্ত হওয়ার মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে আছেন। এদের অন্তত ৭ হাজার ইতিমধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন। শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই ৫ লাখ ৭০ হাজার স্বাস্থ্যকর্মী কোভিডে আক্রান্ত হয়েছেন। মারা গেছেন অন্তত আড়াই হাজার। ইউরোপের দেশগুলোতে মোট কভিড আক্রান্তদের মধ্যে ২৫ শতাংশই স্বাস্থ্যকর্মী। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা আইএলওর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

‘অনুমান, প্রস্তুতি এবং সংকটে সাড়া: পেশাগত স্বাস্থ্য নিরাপত্তায় বিনিয়োগ’ শিরোনামে এই প্রতিবেদন জেনেভায় আইএলওর সদর দপ্তর থেকে গতকাল মঙ্গলবার প্রকাশ করা হয়। পেশাগত নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষ্যে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হলো।

বাংলাদেশ সম্পর্কে প্রতিবেদনে বলা হয়, কভিডকালে অপ্রত্যাশিত চাকরিচ্যুতি এবং লকডাউনে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান অচল হয়ে যাওয়ায় শ্রমিকদের মধ্যে আত্মহত্যা করার উদাহরণ তৈরি হয়েছে। আগের প্রকাশিত গবেষণা থেকে এই তথ্য উদ্ধৃত করা হয়। এর বাইরে বাংলাদেশ সম্পর্কে আলাদা করে আর কিছু বলা হয়নি প্রতিবেদনে। তবে আগামীতে জরুরি দুর্যোগে পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তায় এখনই প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বাংলাদেশসহ সংস্থার অন্যান্য সদস্য দেশগুলোর প্রতি আহবান জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, নিরাপদ জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তায় জাতীয় একটি নীতিমালা গ্রহণ এবং যে কোন দুর্যোগকালে সহায়ক হবে- এরকম একটি প্রাতিষ্ঠানিক নীতিকাঠামো গঠন আহবান জানিয়ে বলা হয়, শক্তিশালী নীতি কাঠামোর মাধ্যমে যাতে আগামীতে কভিডের মত অন্য যেকোনো দুর্যোগে ঝুঁকি হ্রাস এবং প্রশমন করা যায়। এ উদ্দেশ্যে এ খাতে বিনিয়োগে বাংলাদেশসহ সদস্য দেশগুলোর প্রতি আহবান জানানো হয়েছে।

অতিমারি কভিডের প্রকোপ সম্পর্কে আইএলওর প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্ব কর্মপরিবেশের সর্বত্র এখন কভিডের প্রভাব। তবে তাৎক্ষণিকভাবে সব চেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে লকডাউন। ব্যবসা- বাণিজ্য বন্ধ। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা যাচ্ছে না। কর্মসংস্থানের প্রধান প্রধান খাতগুলোতে চাকরি হারানোদের সংখ্যা বেড়ে চলছে।

পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা দিবস উপলক্ষ্যে প্রতিবেদনে আইএলর মহাপরিচালক গাই রাইডার বলেন, কভিড থেকে পুনরুদ্ধার, প্রতিরোধে সব দেশে এ সংক্রান্ত একটি জাতীয় অর্থবহ নীতিমালা থাকা প্রয়োজন। যাতে প্রাতিষ্ঠানিক এবং নিয়ন্ত্রণমূলক কাঠামোর মাধ্যমে সমন্বিতভাবে আগামীতে কভিডের মতো যেকোনো দুযোর্গ সফলভাবে মোকাবেলা করা যায়।

এ উপলক্ষ্যে বাংলাদেশে আইএলওর কান্ট্রি ডিরেক্টর টুমো পুটিআইনেন বলেন, পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা এবং জনস্বাস্থ্যের বিষয়টি কতটা গুরুত্বপূর্ণ কভিড সে বিষয়ে খুব পরিষ্কার বার্তা দিয়েছে। সব শিল্প কারখানায় পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা অবশ্যই জাতীয় অগ্রাধিকারে থাকতে হবে।

তিনি বলেন, জাতীয় আন্তর্জাতিকবাবে পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা দিবস যখন পালন করা হচ্ছে তখন গোটা বাংলাদেশে কভিডের দ্বিতীয় ঢেউয়ে সংক্রামণ বাড়ছে। সমাজকে আর্থিকভাবে কার্যকর রাখতে লাখো শ্রমিক জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কভিডের মধ্যেও কাজ করছেন।

সারা বিশ্বের মত বাংলাদেশেও প্রতিবছর ২৮ এপ্রিল পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। কভিডের কারণে এবার দিবস উপলক্ষ্যে বড় কোনো কর্মসূচি নেই। তবে অনলাইনে কিছু কর্মসূচি পালন করছে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। দিবস উপলক্ষ্যে বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ উপলক্ষ্যে জাতীয় দৈনিক পত্রিকাগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করেছে।

বার্তাবাজার/ভিএস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর