বাঘ বড় হচ্ছে মানুষের কোলে! চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার জো বাইডেনের গল্প
চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার জো বাইডেনে হলেন, ব্যাঘ্র শাবক।গত বছরের ১৪ই নভেম্বর চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার বাঘ দম্পতি রাজ-জয়ার কোল আলো করে জন্ম নেয় তিনটি শাবক। জন্মের পরপরই বাচ্চাদের দুধ পান করানো বন্ধ করে দেয় বাঘিনী জয়া। দুটি শাবক মারা গেলে একটিকে বাঁচানোর দায়িত্ব নেয় চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। শাবকটিকে বাঘিনীর হিংস্রতা থেকে বাঁচিয়ে আলাদা করে রাখা হয়৷ কেমন ছিল শাবকটিকে বড় করার প্রক্রিয়া? কেন তার নাম রাখা হলো জো বাইডেন !জানতে চেয়েছিলাম জো বাইডেনের প্রধান তত্বাবধায়ক ডাঃ শুভর কাছে।তিনি অপরাজেয় বাংলাকে জানান,”সাধারণত চিড়িয়াখানায় জন্ম নেওয়ার এক মাস পর আমরা প্রাণীর নাম দিয়ে থাকি। বাঘ শাবকটির জন্ম হয় নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে। আর ডিসেম্বরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জো বাইডেনের জয় নিশ্চিত হয়। তার নির্বাচনে একটি ওয়াদা ছিল নির্বাচনে জয়লাভ করলে প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে ফিরে আসবেন তিনি এবং ফিরেও এসেছেন। এছাড়া জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণে বাঘের সংখ্যা দিন-দিন কমে আসছে। তাই তার প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বাঘটির নাম ‘জো বাইডেন’ রাখা হয়েছে”।
বড় করা প্রক্রিয়া সর্ম্পকে তিনি বলেন,”মায়ের কাছ থেকে আলাদা রেখে বাঘের শাবকটিকে লালন পালন করা মোটেও সহজ ছিল না। ছোট শিশুর মতই ফিডারে দুধ খাওয়ানো হতো। বাজারে পাওয়া বিড়ালের দুধ দিয়ে শুরু হলেও পরে ছাগলের দুধের সাথে অন্যান্য উপকরণ মিশিয়ে খাওয়ানো হতো। ঠিক মানব শিশুর মতই মানুষের সংস্পর্শে থেকে তাকে বড় করা হয়েছে। ঘড়ির কাটা ধরে দুধ খাওয়ানো, তার সাথে খেলাধুলা করা এই সব কিছু মিলেই একটা নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বড় করা হয়েছে। একপর্যায়ে মাংস খাওয়ানোর অভ্যাস করা হয় শাবকটিকে। যার ফলে দ্রতই শারীরিক পরিবর্তন আসতে শুরু করে শাবকটির। এভাবেই আস্তে আস্তে সব বিপদের আশংকা থেকে মুক্ত হয়ে এখন সুস্থ, স্বাভাবিক, সজীব ও চঞ্চল জীবন পেয়েছে সে”।জো বাইডেনের বর্তমান বয়স পাঁচ মাসের কিছু বেশী। ওজন প্রায় ২২ কেজি। দিনে ৬০০ মিলিলিটার দুধের পাশাপাশি এখন খাওয়ানো হচ্ছে দেড় কেজি মাংস।

চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে বাঘের খাঁচাটি সম্প্রসারণ করে সাড়ে সাত হাজার বর্গফুট করা হয়েছে। এতে বাঘ যেমন ভালো পরিবেশ পাবে, তেমনি দর্শনার্থীরাও খোলামেলা জায়গা পাবে। এই সম্প্রসারিত খাঁচায় বর্তমানে রাখা হয়েছে জো বাইডেনকে। কেন তাকে খাঁচায় স্থানান্তরিত করা হলো এমন প্রশ্নের জবাবে ডাঃ শুভ বলেন, “বাইডেনের বয়স এখন পাঁচ মাসের কিছুটা বেশী। এতদিন সে মানুষের সংস্পর্শে থেকে মানুষকে আপন করে নিচ্ছিলো। তাকে এখন তার সহজাত প্রবৃত্তিতে ফিরে যেতে হবে। খাঁচায় থাকা অন্যান্য বাঘদের সাথে থেকে তার ভেতর যেন প্রকৃতিগত স্বাভাবিক আচরণে পরিবর্তন আসে, সেই লক্ষ্যে তাকে খাঁচায় রাখা হয়েছে। মে মাসের ১৪ তারিখ তার ৬ মাস বয়স পূর্ণ হবে, তখন তাকে দুধ খাওয়ানো বন্ধ করে অন্যান্য বাঘদের ন্যায় খাবার দেয়া হবে। একই সাথে তখন থেকে তাকে খাঁচার বাইরে বের করা বা মানুষের সংস্পর্শে আনা যাবে না”। ৬ মাস বয়স থেকে তার স্বাভাবিক আচরণগত পরিবর্তনের ফলে হিংস্রতা বেড়ে গিয়ে যে কোন দূর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা থাকবে বলে মনে করেন ডাঃ শুভ। করোনা মহামারী শেষ হলে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় আগত দর্শনার্থীরা মুগ্ধতা নিয়ে দেখবে মানুষের কোলে পিঠে বড় হওয়া এক বাঘ। দেখবে অন্যান্য বাঘের মতই খাঁচায় বন্দী ‘জো বাইডেন’।
লেখা- কমল দাশ
সুমন শাহ্/বার্তাবাজর/ভিএস