একজন মানবিক পুলিশ সুপার মুহম্মদ জাহাঙ্গীর মল্লিক

পুলিশ সুপার মুহম্মদ জাহাঙ্গীর মল্লিক এর কারনেই পরিবর্তন হয়েছে বরগুনার পুলিশি সেবা পুলিশ সুপার মুহম্মদ জাহাঙ্গীর মল্লিক এর কারনেই পরিবর্তন হয়েছে বরগুনার পুলিশি সেবা

বরগুনার পুলিশ বর্তমানে জনগণের পুলিশ। বরগুনা পুলিশ সুপার মুহম্মদ জাহাঙ্গীর মল্লিক জেলার মানুষকে পুলিশি সেবা শতভাগ নিশ্চিত করেছেন। জেলা জুড়ে প্রতিদিন কঠোর থেকে কঠোরতর আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছেন পুলিশ সুপার।

বাংলাদেশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রচলনে বিশ্বাস করে আসছিল এবং সেটি হরহামেশাই নিয়মে পরিণত হয়েছিল, যে পুলিশকে টাকা না দিলে পুলিশ কোন কাজ করেনা, খুব বেশি দিন আগের কথা নয় হয়তোবা কয়েক বছরের আগের কথা, এই জেলার বেশির ভাগ থানা পুলিশের বিরুদ্ধে ছিল ব্যাপক অভিযোগ, অনেক বার সংবাদের হেডলাইন হয়েছে নিরপরাধকে থানায় এনে নির্যাতনের অভিযোগ পরে অর্থের বিনিময়ে মুক্তি,থানায় অভিযোগ দিতে গেলে টাকা, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স এ টাকা, পাসপোর্ট ভেরিফিকেশন টাকা, ট্রাফিকে টাকা। যেমন নীল চাষের যুগে মানুষকে শায়েস্তা করার জন্য বাহিনীকে ব্যবহার করা হত, বর্তমান যুগে এমন একটি বাহিনী নিয়োজিত করা হয়েছিল এই জেলায়।

এই জেলায় এমন এক সময়ে দায়িত্বভার গ্রহণ করলেন পুলিশ সুপার মুহম্মদ জাহাঙ্গীর মল্লিক শহরজুড়ে জেলাজুড়ে একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিল সকলের মনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি চারিদিকে কেমন হবে এই পুলিশ সুপার, বরগুনা জেলার এবং বাইরের জেলার অনেক লোকেরা বলে এই এলাকায় সন্ত্রাসী চাষ হয়, তাদের কথাটা একেবারেই মিথ্যা না। সকলে অনেকটাই অবাক হয়েছিলো পুলিশ সুপারকে দেখে, কনফারেন্স রুমে উপস্থিত অনেকের কাছে মনে হয়েছিল না মানুষটা হয়তোবা ভালো হলেও হতে পারে, তার কথায় মনে হয়েছিল সে তার সামাজিক মূল্যবোধ এবং তার এই মহান পবিত্র পেশা ও দেশের এবং দেশের মানুষের জন্য নিজে দায়বদ্ধতা নিয়েই কথা বলছেন, তার কথায় বহিঃপ্রকাশে ছিল অত্যন্ত মেধা সম্পূর্ণ একজন পুলিশ অফিসার আন্তরিক, মিষ্টভাষী, বিনয়ী তাকে সকলেই বেশ পছন্দ করেছিল। পুলিশ সুপার মুহম্মদ জাহাঙ্গীর মল্লিক এই জেলায় কতটুকু সফলতা। বরগুনা পুলিশ সুপার হিসেবে যোগদানের পরে তিনি তার নিজ বাহিনীর ভিতরেই শুদ্ধি অভিযান চালায়। অনিয়ম ও দুর্নীতি বিরুদ্ধে ১০০% সফলতা।মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স এবং যুদ্ধ ঘোষণা একের পর এক অভিযানে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িতদের ধরাশায়ী করে ফেললেন পুলিশ সুপার ,তার কাছে মাদক ব্যবসায়ীরা স্যালেন্ডার করতে বাধ্য হল, এবং পুলিশ সুপার মুহম্মদ জাহাঙ্গীর মল্লিক এর কাছে অনেক মাদক ব্যবসায়ী আবেদন জানালেন মাদক ব্যবসা ছেড়ে সমাজে মানুষ হয়ে ফিরতে চাই।

সড়ক-মহাসড়কের চাঁদাবাজি বন্ধে শতভাগ সফলতা অর্জন করেছে পুলিশ সুপার, এই সফলতা অর্জনের জন্য অনেকটা পথ পাড়ি দিতে হয়েছে তাকে। প্রতিটা থানায় একজন নারী সাব-ইন্সপেক্টর নিয়োজিত করা ছিল তারা শুধু সাংসারিক কোলাহল মিটিয়ে সুষ্ঠুভাবে সমাধান করে দেওয়ার জন্য তার এমন উদ্যোগ জেলা জুড়ে ব্যাপক সাড়া ফেলে দেয়।

পুলিশ সুপার কার্যালয় ভিকটিম সার্পোট সেন্টার করা হয়েছে। সেখানে পারিবারিক কলহল, নারী নির্যাতন দুর করার জন্য নারী এস আই, জান্নাত ও এএস আই, সহ কনস্টোবল দেয়া হয়েছে। এতে কমে এসেছে নারী সংগঠিত মামলা। এই জেলার অনেক মেধাবী ছাত্র-ছাত্রী টাকার অভাবে লেখা পড়া করতে ও ভর্তি হতে পারছে না সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন খবর পেয়ে তৎক্ষণাৎ সেই পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন তিনি।

পৃথিবীজুড়ে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব এমন ভয়াবহ পরিবেশের সৃষ্টি হবে এমনটি কেউ কখনও কল্পনাও করতে পারেনি। এই মহামারীতে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় কঠোর লকডাউনে তিনি মানুষকে স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলার নির্দেশ দেন এবং জেলার প্রতিটি থানা এলাকায় বাজার ঘাট শপিংমলে মাক্স ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও লিফলেট বিতরণ করেন তিনি।

তাছাড়াও এই দুঃসময়ে অসহায় মানুষের পাশে সর্বদাই নিজেকে নিয়োজিত রেখে খাদ্য সামগ্রী ও মাহে রমজানে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করেন, এই মহামারিতে কারোনার প্রভাবে কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষদের খাবার পৌঁছে দিয়েছিল পুলিশ সুপার মুহম্মদ জাহাঙ্গীর মল্লিক , এই জেলার মানুষ পুলিশ সুপারকে “মানবতার ফেরিওয়ালা” উপাধি দিয়ে আখ্যায়িত করেছেন।

মোঃ মেহেদী হাসান

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর