তৃতীয় লিঙ্গের পরিবারকে এক মাসের মধ্যে ভিটে ছাড়ার রায়
সিরাজগঞ্জে তৃতীয় লিঙ্গ (হিজড়া) মনিরুল ইসলাম (২৭) ও তাঁর পরিবারকে এক মাসের মধ্যে গ্রাম ছাড়তে সময় বেধে দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠেছে গ্রাম্য প্রধানদের বিরুদ্ধে।
ঘটনাটি ঘটেছে জেলার উল্লাপাড়া পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের চরঘাটিনা গ্রামে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায় ওই গ্রামের মো. হাফেজ মিস্ত্রীর ছেলে মো. মনিরুল ইসলাম প্রথমে পুরুষ হিসেবে জন্ম গ্রহণ করলেও ১৫ বছর বয়স হওয়ার পর থেকে তার হরমোনের পরিবর্তনের ফলে সে তৃতীয় লিঙ্গে রুপান্তরিত হয়।
এদিকে মনিরুলের এমন পরিবর্তন গ্রামের কেউ মেনে নিতে পারছিলোনা। এবং বিষয়টি জানাজানির পর সমাজের কেউ ভালো ব্যবহার করতো না ওই পরিবারের সাথে।
মঙ্গলবার (২৭ এপ্রিল) সরেজমিনে গেলে তৃতীয় লিঙ্গের মো. মনিরুল ইসলাম কান্নাকন্ঠে বলেন, সে সকলের মতো স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে চেয়েছিলো। কিন্তু সমাজ ব্যবস্থা তাকে সেই পরিবেশ দেয়নি। তাই তিনি বাধ্য হয়ে তৃতীয় লিঙ্গের লোকজনের সাথে চলাচল এবং তাদের সাথে থাকার সিন্ধান্ত নেয়।
তিনি আরও জানান, সে তৃতীয় লিঙ্গের লোকজনের সাথে থাকায় গ্রামের মুরুব্বিরা বৃহস্পতিবার (১৩ এপ্রিল ২১) একটি সালিসি বৈঠকে এক মাসের মধ্যে ভিটেমাটি বিক্রি করে গ্রাম ছাড়ার আদেশ দিয়েছে। এখন প্রতিদিন আশংকায় থাকতে হচ্ছে তাঁর পরিবার নিয়ে।
গ্রাম্য মাতব্বর মো. শাহেদ হাজী এমন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বার্তাবাজারকে জানান, ওই পরিবারকে আমরা চাপে রাখার জন্য সালিসি বৈঠকের মাধ্যমে ১ মাসের মধ্যে বসতভিটা বিক্রি করে গ্রাম ছাড়তে বলেছি৷ যাতে তার ছেলে হিজড়া পেশা বাদ দেয়।
এ প্রসঙ্গে উল্লাপাড়া মডেল থানার এস আই জাহাঙ্গীর আলম মুঠোফোনে বার্তাবাজারকে বলেন, এ বিষয়ে ওই পরিবার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এম এ মালেক/বার্তাবাজার/ভিএস