তেঁতুলিয়ায় প্রতিটি বাজারে বিষাক্ত কলা দেদারসে বিক্রি

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় শহর ও গ্রাম জুড়ে এবং কি প্রতিটি বাজারে দোকানে দোকানে ঝুলছে কাঁচা-পাকা কলার কাঁদি। পাকা কলা গুলো দেখতে হলুদ রঙের হলেও কোন প্রকার গন্ধ নেই। সারি সারি থাকা দোকান গুলোতে গিয়ে দেখা গেলা, মেঝের এক কোণে মোটা পলিথিন ঢেকে রাখা কলার স্তুপে আগুন জ্বালিয়ে তাপ দেওয়া হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই দোকানের এক কর্মচারি জানান, পোড়ানোর আগে কাঁচা কলার ছড়া রাইপেন বা ক্যালসিয়াম কার্বাইড-মিশ্রিত পানিতে ডোবানো হয়। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পাকানো হয় কলা।

মঙ্গলবার (২৭ এপ্রিল) বিকাল ৪ ঘটিকার সময়ে তেঁতুলিয়া উপজেলার শিলাইকুঠি বাজারে এই দৃশ্যগুলো চোখে পড়ে। এই কলাগুলো বিভিন্ন এলাকা থেকে সরবারাহ করা হয়। মুসলমানদের পবিত্র রমজান মাস আসায় বেড়েছে কলার চাহিদা। ক্ষতিকর রাসায়নিক দিয়ে পাকানো হচ্ছে কলাগুলো। আর এই কলাগুলো রোজাদার ব্যক্তিরা সেহরী ও ইফতারের সময় খাচ্ছেন।

বাজারের কিছু কলা বিক্রেতার সাথে কথা বলা হলে তারা বলেন, আমরা বিভিন্ন জায়গায় থেকে কলা কিনে নিয়ে আসি। এক সঙ্গে কলা বিপুল পরিমান কলা পাকানোর জন্য পলিথিন দিয়ে ঢেকে নিচে আগুনের তাপ দিয়ে থাকি। কিন্তু কার্বাইড ব্যবহার করি না। কলা বিক্রেতা তিনি এভাবে নিজে কলা পাকানোর কথা অস্বীকার করলেও অন্য আড়তগুলোতে রাসায়নিক ব্যবহার হচ্ছে বলে তিনি স্বীকার করেন।

তেঁতুলিয়ার বিভিন্ন বাজারের বিক্রেতাদের সাথে কথা বলা হলে তারা বলেন,আমরা সাগর কলা বিক্রি প্রতিপিস ৫ টাকায়। সকালে কিনে সন্ধ্যার মধ্যে বিক্রি না হলে নর্দমায় ফেলে দিতে হয়। এতে গুনতে হয় লোকাসান।

তেঁতুলিয়া কৃষি অফিসারের সাথে আলোচনা করা হলে তিনি বলেন, ক্যালসিয়াম, কার্বাইড, ও প্রপিট দিয়ে কলাসহ বিভিন্ন ফল পাকানো হচ্ছে,কিন্তু কাজটি অতি গোপনে করেন বলে তাদেরকে ধরা সম্ভব হচ্ছে না।

স্থানীয় কিছু লোকজন বলেন, দ্রুত ফল পাকানোর জন্য অসাধু ব্যবসায়ীরা রাসায়নিক ব্যবহার করেন।

শিশু বিশেষজ্ঞদের সাথে কথা বলা হলে তারা বলেন, অতিরিক্ত রাসায়নিক প্রয়োগ করলে ফলের স্বাদ নষ্ট হয়। বিষাক্ত বিষ মিশানো ফল পেটে গেলে, লিভার সমস্যা,কিডনি সমস্যা ও ক্যানসারও হতে পারে।

এ বিষয়ে তেঁতুলিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ বলেন,কলাতে রাসায়নিক ব্যবহার হচ্ছে এমন তথ্য পেলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বার্তাবাজার/পি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর