করোনাকালে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার জনসাধারণের উপকারে আসছে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৪ হাজার গভীর নলকূপ, ৩ হাজার ৬০০ স্বাস্থ্য সম্মত স্যানিটারী লেট্রিন ও ৪ টি হাত ধোয়ার বেসিন।
ফলে উপজেলার প্রতিটি গ্রামের হতদরিদ্র মানুষ এখন বিশুদ্ধ পানি পান করতে পারছেন। সেই সাথে ব্যবহার করছেন স্বাস্থ্য সম্মত স্যানিটারী লেট্রিন। অন্যদিকে করোনার প্রাদুর্ভাব থেকে উপজেলাবাসীকে রক্ষা করতে উপজেলার ৪টি জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানে বসানো হয়েছে হাত ধোয়ার বেসিন। এই বেসিনগুলো ব্যাপকভাবে করোনাকালে উপজেলার মানুষজন ব্যবহার করছেন।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, পরিকল্পনামন্ত্রী এম.এ মান্নান এমপির ঐকান্তিক প্রচেষ্ঠায় দক্ষিণ সুনামগঞ্জ ও জগন্নাথপুর উপজেলার প্রতিটি গ্রামের হতদরিদ্র পরিবারের জন্য বিশুদ্ধ পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটারী লেট্রিন নিমার্ণের জন্য ১ শত কোটি টাকার বরাদ্দ অনুমোদন করে সরকার। এরমধ্যে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলায় ৫০ কোটি ও জগন্নাথপুর উপজেলায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে।
সরেজমিনে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার সবক’টি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের ঘুরে দেখা যায়, গ্রামের হতদরিদ্র মানুষের উঠানে উঠানে বসানো হয়েছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলের গভীর নলকূপ, সেই সাথে বসানো হয়েছে স্বাস্থ্য সম্মত স্যানিটারী লেট্টিন। এসব নলকুপের পানি ও সেনিটেশন ব্যবহারের ফলে পানিবাহিত ও অন্যান্য রোগ থেকে রক্ষা পাচ্ছেন সাধারণ মানুষরা।
পশ্চিম পাগলার আনোয়ার মিয়া বলেন, আগে অন্যের বাড়িতে পানি আনতে অনেক বেগ পোহাতে হতো। ফলে অনেক সময় নদীর পানিই পান করতে হতো। ফলে বিভিন্ন ধরনের পানিবাহিত রোগবালাই দেখা দিতো। এখন সরকারি নলকূপ পাওয়ায় আর নদীর পানি পান করতে হয় না।
আস্তমা গ্রামের কোষ্ঠ রোগে আক্রান্ত হতদরিদ্র খোয়াজ আলী জানান, আমি কারো বাড়ির নলকূপে যেতে পারতাম না। আমি সহ আমার পরিবারের কারও কাছে কোন মানুষ আসতো না, তাই বাধ্য হয়ে খালের পানি পান ও ব্যবহার করতে হতো। এখন সরকারি নলকূপ পাওয়াই বিশুদ্ধ পানি পান করতে পারছি।
অন্যদিকে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চত্বরে মঙ্গলবার দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, করোনাকালে উপজেলা পরিষদ ও প্রশাসনিক ভবনে সেবা নিতে আসা লোকজন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলের নির্মিত হাত ধোয়ার বেসিন ব্যাপক ভাবে ব্যবহার করছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানসহ মানুষকে হাত ধোয়া ও মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিতে মানুষকে প্রতিনিয়তই উদ্বুদ্ধ করে আসছেন।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানা ভবন চত্বরে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশনের নির্মিত হাত ধুয়ার বেসিন সেবা নিতে আসা লোকজন ব্যাপক ভাবেই ব্যবহার করছেন। এছাড়া প্রশাসনিক কর্মকর্তারা বেসিনে সাবান ও পানির ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণে নজরধারী করছেন। যাতে করে মানুষজন জীবানু মুক্ত হয়ে প্রশাসনিক ভবনে প্রবেশ করে।
দক্ষিণ সুনামাগঞ্জ উপজেলার পাথারিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. আমিনুর রশিদ জানান, আমার ইউনিয়নে মানুষ আজ অনেক আনন্দিত, মাননীয় পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এমপির একান্ত প্রচেষ্ঠায় আজ ইউনিয়নের বিভিন্ন প্রামের হতদরিদ্র মানুষের বিশুদ্ধ পানি পানে ব্যবস্থা হয়েছে।
উপজেলার পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নুর কালাম জানান, আগে আমার ইউনিয়নের হতদরিদ্র মানুষজন খালের পানি পান করতো ও খোলা জায়গায় পায়খানা করতো। এখন সরকারি নলকূপ ও স্বাস্থ্য সম্মত স্যানিটারী লেট্টিন পাওয়ায় বিশুদ্ধ পানি পান করতে পারছেন, সেই সাথে স্বাস্থ্য সম্মত ভাবে স্যানিটারী লেট্টিন ব্যবহার করছেন।
দক্ষিণ সুনামসগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নুর হোসেন জানান, পরিকল্পনামন্ত্রী মহোদয়ের ঐকান্তিক প্রচেষ্ঠায় আমাদের উপজেলায় হতদরিদ্র মানুষের যে পরিমান উপকার হয়েছে তা এক সময় ছিল কল্পানাতিত। মন্ত্রী মহোদয়ের প্রচেষ্ঠায় দরিদ্র পরিবারের মানুষজন বিশুদ্ধ পানি পান ও স্বাস্থ্য সম্মত স্যানিটারী লেট্রিন ব্যবহার করছেন। সেই সাথে আমাদের উপজেলা পরিষদ চত্বরে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলের নির্মিত হাত ধোয়ার বেসিন করোনা কালে পরিষদে সেবা নিতে আসা লোকজন ব্যাপক ভাবে ব্যবহার করছেন। আমরা প্রতিনিয়তই সাবান ও পানি নিশ্চিত করছি যাতে করে এলাকার মানুষজন জীবানুমুক্ত হয়ে উপজেলা ভবনে প্রবেশ করতে পারেন।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ফারুক আহমেদ জানান, আমাদের উপজেলায় মাননীয় পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এমপি’র একান্ত প্রচেষ্ঠায় বৃহৎ জনগোষ্ঠিকে বিশুদ্ধ পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটারীর আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। আমরা উপজেলাবাসী মাননীয় পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এমপি’কে আন্তরিক ভাবে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই। তিনি যেনো এভাবে দরিদ্র জনগোষ্ঠির উন্নয়নের আরো বড় বড় প্রকল্প নিয়ে আসেন।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা জেবুন নাহার শাম্মী জানান, উপজেলা প্রশাসনিক ভবনে সেবা নিতে আসা লোকজন পরিষদ চত্বরে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশনের নির্মিত হাত ধোয়ার বেসিনে সাবান দিয়েহাত ধুয়ে জীবানুমুক্ত হয়ে মূখে মাস্ক নিশ্চিত করে প্রবেশ করতে হয়। আমি নিজেও এই বেসিনে হাত মূখ ধুয়ে অফিসে প্রবেশ করি। এখাসে সাবান পানির ব্যবস্থা সার্বক্ষণিক ভাবে রাখা হয়েছে। মাঝে মধ্যে কিছু দুষ্ঠু প্রকৃতির লোকজন সাবান নিয়ে যায়। এই উপজেলার দরিদ্র জনগোষ্ঠির জন্য এলাকার পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান মহোদয়ের ভাগিয়ে আনা বিশুদ্ধ পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটারী লেট্রিন এলাকার মানুষের অনেক উপকারে এসেছে।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী (অ.দা) আব্দুর রব সরকার জানান, মাননীয় পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এমপি স্যারের একান্ত প্রচেষ্ঠায় দক্ষিণ সুনামগঞ্জ ও জগন্নাথপুর উপজেলায় ১শত কোটি টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্প চলমান রয়েছে। আমার মাঠ পর্যয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এমপি স্যারের প্রতিনিধিদের নিয়ে প্রতিটি গ্রামে গ্রামে গিয়ে উপকার ভোগী বাচাই করেছি। প্রকৃত হতদরিদ্র লোকজনই এই প্রকল্পের আওতায় এসেছেন। সেই সাথে করোনা প্রদুভাব রুখতে আমরা জনগুরোত্বপূর্ণ স্থানে হাত ধুয়ার বেসিন নির্মাণ করেছি। এই বেসিন গুলো করোনাকালে ব্যাপকভাবে মানুষের উপকারে আসছে। প্রতিনিয়তই এই বেসিন গুলোতে সাবান পানি নিশ্চিত করা হচ্ছে।
নোহান আরেফিন নেওয়াজ/বার্তাবাজার/পি