সেচের বিপরীতে কৃষকের ধান জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

বগুড়ার শেরপুরে উপজেলা সেচ কমিটির সিদ্ধান্তের বাইরে সেচ মালিকেরা জোরপূর্বক কৃষকের কাছ থেকে বোরো মৌসুমের ধান চাষে সেচের বিপরীতে বিঘা প্রতি ৪ থেকে ৫ মণ ধান নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা মঙ্গলবার (২৭ এপ্রিল) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার(ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ করেছে।

উপজেলার গাড়িদহ ইউনিয়নের কাফুড়া পূর্বপাড়া গ্রামের অন্তত ৭০ জন কৃষক বলেন, তাদের এলাকায় কৃষি জমি সেচ প্রকল্পের আওতায় একটি সেচ মালিকের কাছ থেকে পানি নিয়ে জমিতে ধান চাষ করেন। উপজেলা সেচ কমিটির সিদ্ধান্তের আলোকে বিঘা প্রতি ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা সেচের বিপরীতে টাকা নেওয়ার নির্দেশনা থাকলেও জোরপূর্বক বিঘা প্রতি উৎপাদিত ধানের ৪ ভাগের এক ভাগ ধান সেচ মালিকরা ছিনিয়ে নিচ্ছে। বাধা দিতে গিয়েও সেচ মালিকের ভাড়াটিয়া লোকজনের কাছে নাজেহাল হচ্ছে কৃষকেরা।

মঙ্গলবার কাফুড়া পূর্বপাড়া গ্রামে সরেজমিনে গেলে কৃষক এরশাদ আলী (৩৫) বলেন, প্রায় ৩৬ হাজার টাকা ব্যয় করে তিনি এ বছর ৩ বিঘা জমিতে বোরো ধানের চাষ করেছেন। গতকাল মঙ্গলবার তিনি ১ বিঘা জমিতে ধান কাটেন। ধান কাটার পরই সেচ স্কীমের মালিক আশরাফ আলীসহ তাদের সঙ্গীয় ১০/১২ জন জমিতে এসে জোরপূর্বক কাটা ধানের আটিসহ ৪ ভাগের ১ ভাগ কেড়ে নিয়ে যায়। কেড়ে নিয়ে যাওয়া ধানের পরিমান প্রায় ৫ মণ।

বর্তমান বাজার অনুযায়ী এই ৫ মণ ধানের মূল্য অন্তত ৪ হাজার ৮০০ টাকা। সেচ মালিক এই বিঘা জমিতে চাষের সময় পানি দেওয়ার বিপরীতে তার প্রাপ্য ১ হাজার ৬০০ টাকা। জমি থেকে কাটা ধানের আটি কেড়ে নিয়ে যাওয়ার সময় তার উপর (কৃষক এরশাদ আলী) ধান কাটার কাচি দিয়ে আক্রমন করে। এ সময় তিনি কাটা ধানের আটি জমিতে ফেলে পালিয়ে জীবন রক্ষা করেন।

একই গ্রামের কৃষক রমজান আলী বলেন, তিনি এবছর ১ বিঘা জমিতে বোরো ধানের চাষ করেছেন। তার কাছেও সেচ পাম্পের মালিকরা ৪ ভাগের ১ ভাগ কাটা ধানের আটি ছিনিয়ে নেয়।

সরেজমিনে গেলে জানা যায়, কাফুড়া পূর্বপাড়ায় অন্তত ১৩ বছর আগে জমি চাষাবাদের জন্য একটি সেচ পাম্প বসানো হয়। এই সেচ পাম্পের আওতায় রয়েছে গ্রামের ৭০ জন কৃষকের অন্তত ১৬০ বিঘা জমি। এই সেচ স্কীমের মালিক শ্যামল বসাক, আবদুর রহমান, আবদুর রাজ্জাক, আশরাফ আলী ও নজরুল ইসলাম। কৃষক আব্দুল আলিম বলেন, সেচ পাম্প বসানোর পর থেকেই তারা গ্রামের কৃষকদের কাছ থেকে প্রত্যেক বছর জুলুম করে কৃষকের উৎপাদিত ধান কাটার পর কেড়ে নিয়ে যাচ্ছে।

সরেজমিনে গেলে ওই ৭০ কৃষক পরিবারের নারী সদস্যরা বলেন, তারা জমিতে কষ্ট করে ফসল ফলান আর পানি দেয়ার নাম করে সেচ মালিকরা তাদের কাছ থেকে ফসল ছিনিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এতে তাদের পরিবার সারা বছর আর্থিক সংকটে পড়ে থাকে।

ওই সেচ পাম্পের আওতায় থাকা কৃষক মো. রব্বানী, জাহিদুল ইসলাম, এনামুল হক, ও সুমন হাসান বলেন, তাদের উপর সেচ পাম্পের মালিকরা দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে চাষের জমিতে পানি দেয়ার বিপরীতে জোরপূর্বক ধান কেড়ে নিচ্ছে। এ নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পরিত্রান চেয়ে লিখিতভাবে অভিযোগ করেছেন।

প্রসঙ্গ নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ময়নুল ইসলাম বলেন, কাফুড়া পূর্বপাড়া গ্রামের সেচ পাম্পের আওতায় থাকা কৃষকদের অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের আলোকে দ্রুত আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাশেদুল হক/বার্তাবাজার/পি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর