ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় এবার তরমুজের বাজার চড়া; ক্রেতারা কয়েকদিন ধরেই এমন অভিযোগ করে আসছিলেন। রমজান ও ধারাবাহিক অধিক দাবদাহের কারণে একটু স্বস্তি পেতে এবার ক্রেতাদের কাছে তরমুজের চাহিদাও বেশি। এই চাহিদাকে কেন্দ্র করে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন।
ক্রেতারা বলছেন, আগে আলফাডাঙ্গা উপজেলার বিভিন্ন বাজারে তরমুজ বিক্রি হতো পিস হিসেবে। কিন্তু এবারই প্রথম ব্যবসায়ীরা তা কেজি হিসেবে বিক্রি করছেন। প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা করে হওয়ায় ৪০০-৫০০ টাকার নিচে কোনো তরমুজ কিনতে পারছিলেন না ক্রেতারা।
ক্রেতাদের এ নিয়ে ক্ষোভ আর নানা প্রশ্ন তৈরী হলে তরমুজ বাজারে অভিযান চালিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
মঙ্গলবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে আলফাডাঙ্গা সদর বাজারের বিভিন্ন স্থানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নেতৃত্ব দেন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহবুবুল ইসলাম।
এসময় বাজারে অবস্থানরত ক্রেতাদের অভিযোগের ভিত্তিতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রত্যক্ষ করেন তরমুজ ব্যবসায়ীরা পিস হিসেবে আড়ত থেকে তরমুজ কিনে ক্রেতাদের কাছে কেজি হিসেবে তা অধিক মূল্যে বিক্রি করছেন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. একলাচ মিয়া নামে এক তরমুজ ব্যবসায়ীকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন। পরে বাজারের অন্য সকল ব্যবসায়ীকে সতর্ক করেন।
এদিকে বারবার সতর্ক করার পরেও দোকানে মূল্য তালিকা না টানানোর অপরাধে বাজারের কাঁচামাল ব্যবসায়ী মো. জুদ্দু শেখকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহবুবুল ইসলাম বার্তা বাজারকে জানান, গরমের সুস্বাদু ফল তরমুজ খেটে-খাওয়া মানুষের নাগালের বাইরে বিক্রি করছিল। তরমুজ ব্যবসায়ীরা তরমুজ কম দামে পিস হিসেবে ক্রয় করে সাধারণ মানুষের কাছে খুচরা কেজি দরে বিক্রি করে আসছিল। সিন্ডিকেট করে প্রতি কেজি তরমুজ ৫০-৬০ টাকায় বিক্রি করছিল। এতে একটি তরমুজ ক্রেতাদের কিনতে হয় ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায়। যা সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে। তিনি আরো জানান, বাজারে দ্রব্যমূল্যের দাম স্বাভাবিক রাখতে এধরণের অভিযান সবসময় অব্যাহত থাকবে।
মিয়া রাকিবুল/বার্তাবাজার/পি