রাজধানীর গুলশানে ফ্ল্যাট থেকে মোসারাত জাহান মুনিয়া নামের তরুণীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় একের পর এক নতুন তথ্য সামনে আসছে।
এ ঘটনায় রাত ৩টার দিকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ এনে বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীরকে দায়ী করে মামলা দায়ের করেছেন ঐ তরুণীর বোন নুসরাত জাহান।
পুলিশের গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) সুদীপ কুমার চক্রবর্তী বলেন, ‘মেয়েটির সঙ্গে বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীরের সম্পর্ক দুই বছরের। আনভীর এক বছর মেয়েটিকে বনানীর ফ্লাটে রাখেন। পরে আনভীরের সঙ্গে মনোমালিন্য হলে তিনি কুমিল্লায় চলে যান। তবে মার্চ মাসে ঢাকায় এসে গুলশানের ওই ফ্লাটে থাকা শুরু করেন।’
তিনি বলেন, ‘২৩ এপ্রিল একটি ইফতার পার্টি হয় ওই বাসায়। ওই পার্টির ছবি ফেসবুকে আপলোড করা হলে মেয়েটির সঙ্গে আনভীরের মনোমালিন্য হয়। পরে মেয়েটি তার বোনকে ফোন করে জানান, যে কোনো মুহূর্তে তার যে কোনো ঘটনা ঘটতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যদি সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া যায় যে, অভিযুক্ত দোষী, তাহলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের দণ্ডবিধিতে যে ব্যবস্থা সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ চলছে।’
মামলার তদন্ত নিয়ে ওসি বলেন, ‘আমরা মামলাটিকে সবিশেষ গুরুত্ব দিয়েছি। থানার যে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তিনিই এই তদন্তের ভার নিয়েছেন। সুষ্ঠু তদন্তের জন্য যে পদক্ষেপ নেওয়া দরকার সেটাই করা হবে।’
এর আগে সোমবার সন্ধ্যায় গুলশান ২-এর ১২০ নম্বর সড়কে ওই ফ্ল্যাটে গিয়ে মুনিয়ার বড় বোন দরজা বন্ধ পান। পরে তালা ভেঙে ঘরে ঢুকে মুনিয়াকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলতে দেখেন। বিষয়টি বাড়িওয়ালাকে জানালে তিনি পুলিশে খবর দেন।
মুনিয়ার বাড়ি কুমিল্লা সদরের দক্ষিণপাড়া উজির দিঘী এলাকায়। তার বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিকুর রহমান। মুনিয়া রাজধানীর একটি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার পরিবার গ্রামেই থাকে। তিনি ওই ফ্ল্যাটে একা থাকতেন।
বার্তাবাজার/নব