করোনা: বাংলাদেশেও ছড়াতে পারে ভারতীয় ধরণ

কাঁটাতারের ওপাড়ের দেশ ভারত এখন করোনায় কাবু। ভয়াবহ পরিস্থিতিতে টাল সামলাতে পারছে না দেশটি। প্রতিদিনই মৃতের সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে প্রায় ৩ হাজার। আক্রান্তও ৩ লাখ ছাড়াচ্ছে রেকর্ড গড়ে।

আইসিইউ নয় দেশটির হাসপাতালে একটা বেড পাওয়াই এখন কঠিন হয়ে পড়েছে। অক্সিজেন মিলছে না। বিজ্ঞানীদের মতে, দেশটিতে ডাবল ও ট্রিপল মিউট্যান্ট করোনাভাইরাস ছড়ীয়ে পড়ায় এমন হচ্ছে। নতুন এই ভেরিয়্যান্টে খুব কম সম্যে মারা যাচ্ছে রোগীরা।

বাংলাদেশে এখনো এই ধরনটির সন্ধান পাওয়া যায়নি। কিন্তু ভারতীয় এই ধরনটি যাতে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পারে সে জন্য ভারতের সঙ্গে থাকা সব স্থলবন্দর দিয়ে মানুষের যাতায়াত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পণ্যবাহী ট্রাকগুলোকেও জীবাণুমুক্ত করে প্রবেশ করানোর কথা বলা হয়েছে। আকাশপথে চলাচল ১৪ এপ্রিল থেকেই বন্ধ রয়েছে।

গত দুই মাসে বাংলাদেশেও বেড়েছে করোনার প্রকোপ। প্রথম দফায় দেশে যেখানে একদিনে মৃতের সংখ্যার রেকর্ড ছিল ৬৪, সেখানে দ্বিতীয় দফায় তা হয়েছে ১১২। হাসপাতালে রোগী যেন আর ধরছিল না, আইসিইউ বেডের সংকট দেখা দিয়েছিল। লকডাউন ও কঠোর বিধি-নিষেধের কারণে অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। দৈনিক শনাক্তের হার ২৩ থেকে কমে ১৩ হয়েছে।

কিন্তু আবার যে ঢিলেঢালা অবস্থা দেখা যাচ্ছে, তাতে আশঙ্কা করা হচ্ছে আবারও শনাক্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে যেতে পারে। লকডাউন বাস্তবে নেই বললেই চলে। দোকানপাট, শপিং মল, মার্কেট সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা রাখা হচ্ছে। বাস ছাড়া রাস্তায় সব ধরনের যানবাহনই প্রচুর পরিমাণে চলছে।

লকডাউনের আগে আগে লাখ লাখ মানুষ ঢাকা ছেড়েছিল, তারা আবার দলে দলে ফিরে আসছে। বেশির ভাগ মানুষই স্বাস্থ্যবিধি মানে না। এমনকি মাস্কও পরে না। এ অবস্থায় সংক্রমণ আবার ছড়িয়ে পড়ার যথেষ্ট আশঙ্কা রয়েছে। তার ওপর যদি ট্রিপল মিউট্যান্ট ভারতীয় ধরনটি ব্যাপকভাবে প্রবেশ করে, তাহলে পরিণতি কী হবে, ভাবতেও কষ্ট হয়। তাই যেকোনো মূল্যেই হোক, ভারতীয় ধরনের প্রবেশ আটকানোর চেষ্টা করতেই হবে।

চলমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে জরুরি কাজ ছিল ব্যাপক হারে করোনার টিকা দেওয়া। কিন্তু অপ্রতুলতার কারণে সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে প্রথম ডোজ টিকা দান। ইতোমধ্যে সাড়ে ৫৮ লাখ মানুষ প্রথম ডোজের টিকা নিলেও দ্বিতীয় ডোজের ঘাটতি রয়েছে আরও প্রায় ১৪ লাখ। অথচ ১২ সপ্তাহের মধ্যে একই টিকার দ্বিতীয় ডোজ নেওয়াটা জরুরি। এই মুহুর্তে ভারতের কাছ থেকে টিকা নেওয়া ছাড়া কোনো বিকল্প নেই বলে বিশেষজ্ঞরা মতামত দিয়েছেন।

বার্তা বাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর