রমজান আর বৈশাখের খরতাপকে কেন্দ্র করে আগুন লেগেছে সবুজ তরমুজেও। যে আগুনে নিম্মমধ্যবিত্ত তো দূরের কথা, মধ্যবিত্তরাই পুড়ে ছারখার।
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় রসালো ফল তরমুজ এখন কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতিটি বড় সাইজের একেকটি তরমুজ এখন বিক্রেতা কেজি দরে বিক্রি করছেন। এতে তরমুজ বিক্রেতারা লাভবান হলেও ঠকছেন গ্রাহকরা।
সোমবার (২৬ এপ্রিল) বিকালে সরেজমিনে আলফাডাঙ্গা সদর বাজার, জাটিগ্রাম বাজার, গোপালপুর বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিপ্রতি তরমুজের দাম ১৫ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে। গত সপ্তাহে যেই তরমুজ বিক্রি হয়েছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি। এখন সেই তরমুজ বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা কেজি। প্রতিটি বড় সাইজের তরমুজ ওজনে ৮ থেকে ১০ কেজি ও মাঝারী সাইজের তরমুজ ওজনে ৪ থেকে ৫ কেজি পর্যন্ত হচ্ছে। কোন বিক্রেতা ওজন ছাড়া তরমুজ বিক্রি করতে চাচ্ছেন না।
এদিকে গত কয়েক দিনের প্রচণ্ড গরমে হাঁসফাঁস করছে মানুষ। দাবদাহ থেকে সামান্য পরিত্রাণ পেতে ইফতারে ধর্মপ্রাণ রোজাদাররা তরমুজই বেশি পছন্দ করেন। কিন্তু আকাশ ছোঁয়া দামের কারণে এখন আর তরমুজের স্বাদ নিতে পারছেন না নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষেররা। এরইমধ্যে তরমুজের দাম সাধারণ ক্রেতাদের হাতের নাগালের বাইরে চলে গেছে।

আলফাডাঙ্গা উপজেলার গোপালপুর বাজারে তরমুজ ক্রয় করতে আসা সোলাইমান হোসেন নামে এক ক্রেতা বার্তাবাজারকে জানান, প্রচন্ড গরমে বাসায় বাচ্চারা তরমুজ খাবে। তাই বাজারে তরমুজ কিনতে এসে দেখি বিক্রেতা কেজিতে তা বিক্রি করছে। মাঝারী সাইজের একটি তরমুজ ২০০ টাকা বলেছি কিন্তু দিচ্ছে না। বিক্রেতার সাফ কথা কেজি মাপে যে দাম হয় সেই টাকা দিয়ে কিনতে হবে। তাই তরমুজ না কিনেই বাসায় ফেরৎ যাচ্ছি।
আলফাডাঙ্গা সদর বাজারের তরমুজ ব্যবসায়ী মিন্টু শেখ ও লাল্টু শেখ বার্তাবাজারকে জানান, ‘আমি একশো পিস তরমুজ ২৮ হাজার টাকা দিয়ে পাইকারি কিনে এনেছি। এখন ৬০ টাকা কেজি হিসেবে না বিক্রি করলে চালান বাঁচবে না।’
আলফাডাঙ্গা উপজেলার জাটিগ্রাম বাজারের তরমুজ ব্যবসায়ী ফিরোজ হোসেন বার্তাবাজারকে জানান, ‘দাম না বেড়ে তো উপায় নেই। লোকডাউনের মাঝে মহাজনদের নিকট গিয়ে তরমুজ আগের থেকে বেশি দামে কিনতে হয়েছে। এছাড়া তীব্র গরম ও রোজার কারণে তরমুজের ব্যাপক চাহিদা থাকায় দামও বেড়েছে।’
তবে সাধারণ মানুষের দাবী তরমুজ ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারণে অতিরিক্ত মূল্য দরে কেজিতে তরমুজ বিক্রি হচ্ছে। বাজার মনিটরিং করলে কেজি কাহিনি উন্মোচন হবে বলে মনে করছেন তারা।
মিয়া রাকিবুল/বার্তাবাজার/ভিএস