যশোরে সাধারণ জনগণের ক্রয় ক্ষমতার বাহিরে চলে গেছে তরমুজের দাম

গ্রীষ্মকালের রসালো এবং ঠান্ডা ফল তরমুজ। অতিরিক্ত তাপমাত্রায় তরমুজ খেলে যেমন তৃষ্ণা মেটে তমনি এক ঠান্ডা অনুভূতি হয় শরীরে। তাই তরমুজ মৌসুমি ফল হিসেবে সকলের কাছে অত্যান্ত পছন্দের। কিন্তু এই পছন্দকে পুঁজি করে পিস হিসেবে কিনে এনে কেজি দরে বিক্র করে ক্রেতাদের থেকে পকেট ঝেড়ে নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। যা কিনতে গেলে হিমশিম খাচ্ছেন দরিদ্র ও মধ্যেম আয়ের মানুষেরা।

সরজমিনে বাজারে ক্রেতাদের সাথে কথা বললে তারা বিষয়টি নিয়ে অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। যশোর শহরের পাইকারি ও খুচরা বাজারে তরমুজ কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা যায় তারা এই তরমুজ পিস হিসেবে কিনে আনছেন আর তাতে দেখা নেই ছোট বড় আকার। কেজি হিসেবে বিক্রি করে অধিক লাভবান হচ্ছেন বিক্রেতারা।

ব্যাবসায়ীরা বার্তা বাজার কে বলেন, সদর উপজেলার রূপদিয়া বাজার থেকে তরমুজ কিনে এনে শহরের বাজারে বিক্রি করছেন তারা। সেখান থেকে ব্যবসায়ীরা ছোট ও মাঝারি সাইজের পিস প্রতি ৫০ টাকা থেকে ৮০ টাকা দামে তরমুজ কিনে এনে তা খুচরা বাজারে ২৫ টাকা থেকে ৩৫ টাকা কেজি দামে তরমুজ বিক্রি করছেন এই অসাধু ব্যাবসায়ীরা। আবার অন্যদিকে কেজি হিসেবে একটি তরমুজ ১২০ টাকা থেকে শুরু ২০০ টাকা দামে কিনতে হচ্ছে একজন ক্রেতাকে। এক কথায় যা সুযোগে ফায়দা লুটছেন ব্যাবসায়ীরা।

ক্রেতারা হতাশাগ্রস্থ হয়ে বলেন, একটি তরমুজ ওজন করলে হচ্ছে ৪কেজি থেকে ৫কেজি। আবার অনেক তরমুজের ওজন হচ্ছে ছয় কেজি পর্যন্ত। ৩০ টাকা কেজি দামে তরমুজ বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা থেকে ২শ’ টাকায়। এতে বিক্রেতারা লাভ করছেন ৭০ টাকা থেকে ১শ’ টাকা পর্যন্ত।

যশোর শহরের দড়াটানা মোড়ে এক তরমুজ বিক্রেতা মোহাম্মদ আলী বার্তাবাজারকে বলেন, দুইবছর ধরে তরমুজ কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। অন্য ব্যবসায়ীরাও এভাবে বিক্রি করছেন। তাই আমিও বিক্রি করছি। তরমুজ কেন কেজিতে বিক্রি হচ্ছে সেটা বলতে পারেননি তিনি।

আরেক বিক্রেতা হাসান ব্যাপারি বার্তাবাজারকে জানান পিস হিসেবে তরমুজ কিনলে তার মধ্যে পাঁচ থেকে ছয়টা তরমুজ বাদ পড়ে। বিক্রি করতে গেলে ক্রেতাদের সাথে দামে ঝামেলা হয়। কিন্তু ওজন করে তরমুজ বিক্রি করলে ক্রেতাদের সাথে ঝামেলা হয় না। ক্রেতা যে তরমুজ পছন্দ করেন সেটা ওজন করে ক্রেতাদের কাছ থেকে দাম নেয়া হয়। সেই সাথে এতে কিছুটা লাভ হয়।

শহরের চৌরাস্তার তরমুজ ব্যবসায়ী মনির হোসেন, আব্দুল কাদের জানান একই কথা। তবে কি কারণে তরমুজ কেজিতে বিক্রি করছে সেটা অনেক ব্যবসায়ী জানলেও হয়তো প্রকাশ করতে চাননি। এবছর কেজি দরে যেমন চড়া দাম তেমনি এভাবে মৌসুমি ফল সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাহিরে চলে যাবে এটা কোন দিন ভাবেনি বলে জানান ভুক্তভোগী ক্রেতারা।

এ্যান্টনি দাস/বার্তাবাজার/ভিএস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর