বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসকে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে কোভিশিল্ড টিকা আনার জন্য টাকা দেওয়া হচ্ছে, তাদেরকেই টিকা আনতে হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। রোববার (২৫ এপ্রিল) তিনি গণমাধ্যমকে এই কথা বলেন।
গত বছরের নভেম্বরে করোনার টিকা আনার জন্য ত্রিপক্ষীয় চুক্তি হয়। চুক্তিমতে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট বেক্সিমকো ফার্মার মাধ্যমে বাংলাদেশকে এই টিকা দেওয়ার কথা। একইসাথে প্রতি মাসে আসার কথা ৫০ লাখ ডোজ। কিন্তু চুক্তিমত বাংলাদেশ সেই টিকা পাচ্ছে না। ইতোমধ্যে ভারত টিকা রফতানিতে দিয়েছে নিষেধাজ্ঞা। এখন বাংলাদেশের হাতে যে টিকা আছে তা দিয়ে আর সর্বোচ্চ দুই সপ্তাহ চলতে পারে।
এ বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এটা ত্রিপক্ষীয় চুক্তি হয়েছিল। এখানে বেক্সিমকো এজেন্ট। এজেন্ট হিসেবে তাদের দায়িত্ব হচ্ছে—তারা ভ্যাকসিন ওখান (সেরাম) থেকে প্রকিউর (কিনে) করে আমাদের হ্যান্ডওভার করবে। তারা এজেন্ট হিসেবে সেরামকে প্রেসার করবে। এই দায়িত্ব তাদের ওপরেও বর্তায়। আমরা তো যখনই কোনও চিঠি লিখি, বেক্সিমকোকেই লিখি। কারণ, বেক্সিমকো এখানে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান। তারা সেরামের সঙ্গে যোগাযোগ করে।
তিনি আরও বলেন, সরাসরি সেরামের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ তেমন কখনও হয়নি। তারপরও আমরা সরকারের পক্ষ থেকে চাপ সৃষ্টি করার জন্য সেরামকে সরাসরি চিঠি দিয়েছি এবং বাংলাদেশে ভারতের রাষ্ট্রদূতকে রেগুলার নক করা হয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কেও নক করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের প্রধানমন্ত্রীকেও নক করেছেন, যখন তিনি এখানে এসেছিলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বেক্সিমকোর দায়িত্ব টিকা এনে দেওয়া। তাদের দায়িত্ব আছে এবং সেজন্য সে চুক্তিবদ্ধ। সেজন্য দে আর পেইড ফর। টিকা এনে দেওয়ার জন্য তাদের চার্জেজও দেওয়া হচ্ছে। আমরা তাকে যৌথভাবে ফেস করছি। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, বেক্সিমকোর দায়িত্ব শেষ হয়ে গেলো।
তবে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের ব্যাপস্থাপনা পরিচালক নাজমুল হাসান পাপন বলেছেন, সেরাম টিকা রেডি করে রেখেছে, এখন সরকারকে ‘শক্ত স্টেপ’ নিতে হবে।
এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘এটাই তো সরকারি চাপ, এর বাইরে আর তো কোনও চাপের বিষয় আমার জানা নেই। আমরা কন্টিনিউয়াস এই চাপটা রাখি আমাদের পক্ষ থেকে।’
বার্তা বাজার/এসজে