অবৈধ ড্রেজার বসিয়ে অবাধে বালু উত্তোলনে মহোৎসব চলছে কুড়িগ্রামের রৌমারীতে। এমনকি রৌমারী-ঢাকা মহাসড়কটি সুড়ঙ্গ করে পাইপ বসিয়ে চলছে বালু বিক্রির কাজ।
বর্ষা, শীত, কিংবা বসন্ত সব মৌসুমে বিভিন্ন নদ-নদী, ফসলিতে অবৈধ ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবাধে বালু উত্তোলনের ফলে ভাঙনের শিকার হচ্ছে নদ-নদীর পাশ্ববর্তী বসতবাড়িসহ শতশত হেক্টর ফসলি জমি। হুমকিতে রয়েছে, ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শহর ও নদী রক্ষা বাঁধসহ হাজারও বসতবাড়ি।অবৈধ ড্রেজার মালিকদের বালুগ্রাসী ভূমিকায় অতিষ্ঠ এলাকার সাধারণ মানুষ।
অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় প্রশাসন ও ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীসহ সব মহলকে ম্যানেজ করে অনেকটা দাপটের সঙ্গেই লুটের এই মহোৎসবে মেতেছেন প্রভাবশালী বালুদস্যুরা। ফসলি জমির বুক চিরে অনেকটা নির্বিঘ্নেই দিনে-রাতে সমানতালে ড্রেজার দিয়ে চলছে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন।এভাবে বালু উত্তোলনের ফলে প্রতি বছর বন্যার সময় মানুষের ব্যাপক ক্ষতি হলেও তথাকথিত উন্নয়ন কাজের বুলি তুলে এসব অপকর্ম চালায় বালু খেকোরা।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদের বামতীরের ফুলুয়ারচর নৌকা ঘাট এলাকা, ধনারচর চরেরগ্রাম, ধনারচর নতুনগ্রাম, কর্তিমারী নৌকা ঘাট, কোমরভাঙ্গি পাখিউড়া, বলদমারা ঘাট, ঘুঘুমারী, জিঞ্জিরাম নদীর ইজলামারী ব্রীজ, খেওয়ারচর রাবারড্যাম ব্রীজ, লালকুড়া খেয়াঘাট, বাওয়াইরগ্রাম, সোনাভরী নদীর কান্দাপাড়া, চাক্তাবাড়ি এলাকাসহ শতাধিক পয়েন্টে অবৈধ ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবাধে বালু উত্তোলন করছে বালুদস্যুরা। কর্তিমারী বাজার এলাকায় রৌমারী-ঢাকা মহাসড়কটিতে সুড়ঙ্গ করে বালু উত্তোলনের পাইপ বসিয়ে অবাধে বালু বিক্রির কাজ চলছে।
ধনারচর নতুনগ্রামের আব্দুল্লাহ আল মামুন, যাদুরচর নতুনগ্রামের আব্দুল খালেক, বিক্রিবিলের রাকিবুল ইসলাম, খেওয়ারচরের তছলিম উদ্দিন, ফাতেমা বেগম, বলদমারা এলাকার আমিনুল ইসলামসহ অনেকে অভিযোগ করে বলেন, বালুদস্যুরা স্থানীয় প্রশাসন ও ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীসহ সব মহলকে ম্যানেজ করে নদ-নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় প্রতি বছর শত শত বসতবাড়ি নদ-নদীর গর্ভে বিলিন হয়ে গেলেও দেখার কেউ থাকে না। বালুদস্যু ও কথিত নেতারা নিজেদের স্বার্থকে বড় করে দেখে কিন্তু তারা সাধারণ মানুষের ভোগান্তির কথা কখনও চিন্তা করে না।
তারা আরও বলেন, মাঝে মাঝে প্রশাসন অভিযান চালিয়ে ড্রেজার বন্ধ করে যেতে না যেতেই আবারও ড্রেজার সচল করে প্রভাবশালী বালুখেকোরা।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) বগুড়া জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান বলেন, যত্রতত্র ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বিধিমালা অনুযায়ী ড্রেজিং না করায় পরিবেশের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়ে। ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনে আশপাশের মানুষের বসতবাড়ি ভেঙে যায়। জমির ওপর বালি মাটি পড়ে পলিমাটি ঢেকে যায়। এভাবে এক জায়গার মাটি অন্য জায়গায় সরে গিয়ে অভিযোজন ঘটে। ফলে ওইসব অঞ্চলে খাদ্য ঘাটতি দেখা দেয়।
রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল ইমরান বলেন, মহামারী করোনার কারণে মাঝে কিছু দিন অভিযান বন্ধ ছিল। এখন তথ্য পাওয়ার সাথে সাথে লোক পাঠিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। গত কয়েকদিনে সাতটি অবৈধ ড্রেজার বন্ধসহ একজনকে অর্থদন্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
ইয়াছির আরাফাত নাহিদ/বার্তাবাজার/পি