আড়াইশ বছরের পুরোনো মসজিদ ভাঙ্গনের কবলে
নোয়াখালী দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার চরঈশ্বর ইউনিয়নের তালুকদার গ্রামের বুড়ির মসজিদ। দেখলে কোন ভাবে বুঝার উপায় নাই যে এর বয়স আড়াইশত বছর। নদী ভাঙ্গনের ফলে এটি দ্বিতীয় বার স্থাপন করা হয় তাও ১৮৮৮ সালে। কিন্তু মানুষ এই মসজিদকে বিশ্বাস করে অন্যান্য মসজিদের চেয়েও একটু ভিন্ন ভাবে।
গ্রামের অনেক সহজ সরল মানুষ মনে করে এই মসজিদে আধ্যাত্বিক কোন শক্তি আছে। এই জন্য গ্রামের অন্যান্য মসজিদ থেকেও এই মসজিদে দান অনুদানের পরিমান অনেক বেশি।
মসজিদের প্রতিষ্ঠার ইতিহাস সম্পর্কে জানতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মসজিদের দেওয়ালে বিশাল সাইনবোর্ডে লেখা বুড়ির মসজিদ নামে। সাইনবোর্ডে লেখা প্রতিষ্ঠার তারিখ দেখে বুঝা যায় এর বয়স হবে প্রায় আড়াইশত শত বছর। বর্তমানে মসজিদটি উপজেলার চরঈশ্বর ইউনিয়নের মুডা হাফেজেগো বাড়ীর দরজায় অবস্থিত। পূর্বের জায়গায় মসজিদটি নদী গর্ভে বিলিন হয়ে যাওয়ার উপক্রম হলে আলীম উদ্দিন ছাফরাসি নামে এক লোক মসজিদটি নিয়ে হাতিয়া চলে আসে। পরে আলীম উদ্দিন ছাফরাসি তাদের পারিবারিক ভাবে বসবাসের জন্য তৈরী করা বাড়ীর দরজায় এই মসজিদটি ১৮৮৮ সালে দ্বিতীয়বার স্থাপন করে।
মসজিদটির প্রতিষ্ঠার ইতিহাস সম্পর্কে আলাপ কালে আলীম উদ্দিন ছাপরাসির নাতি ও বর্তমান বুড়ির মসজিদের পরিচালনা কমিঠির সভাপতি জাকারিয়া ডিপটি বলেন, এই মসজিদটি আমাদের বাড়ীর দরজায় পুন:স্থাপিত হয় ১৮৮৮ সালে। এরপর থেকে আমাদের পরিবারের লোকজন বংশানুক্রমে মসজিদিটি পরিচালনা করে আসতেছে। একসময় এলাকার লোকজন মসজিদটিকে আধ্যাত্বিক কোন শক্তি আছে মনে করে অনেক কিছু দিয়ে যেত। কেউ কেউ প্রথম সন্তান জন্ম দিলে তাকে মসজিদে নিয়ে আসত। কেউ কেউ শুক্রবার জুমার নামাজে বিভিন্ন উপলক্ষ্যেকে উদ্দেশ্য করে দান অনুদান ও বাহারি আইটেমের নাস্তা তৈরি করে মুসল্লিদের জন্য নিয়ে আসত।
পূর্বপুরুষদের বরাত দিয়ে তিনি আরো জানান, ১৭৭৮ সালে এই মসজিদটি স্থাপিত হয় তৎকালিন ত্রিপুরা রাজ্যের ভুলুয়া নামক স্থানে। নি:সন্তান একজন বুড়ি মারা যাওয়ার আগে তার সকল সম্পত্তি এলাকার লোকজনের মধ্যে বিভাজন করে দিয়ে যান। বুড়ি মারা যাওয়ার পর এলাকার লোকজন বুড়ির দেওয়া ওয়াদা পালন করতে গিয়ে এই মসজিদটি তৈরী করেন। সে থেকে এই মসজিদের নাম দেওয়া হয়েছে বুড়ির মসজিদ হিসাবে।
হাতিয়া একটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপ। এই দ্বীপের চেয়েও মসজিদের বয়স অনেক বেশী হওয়ায় কৌতহল নিয়ে অনেকে এখনও দেখতে আসে এই মসজিদটি। কিন্তু হাতিয়াতে যে ভাবে নদী ভাঙ্গন অব্যাহত আছে তাতে যে কোন সময় মসজিদটি আবার নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়তে পারে। তাই ইসলাম ধর্মের অনুসারীরা মনে করেন প্রাচীন এই মসজিদের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে দরতে এর রক্ষণাবেক্ষণ ও নদী ভাঙ্গন রোধ করা দরকার।
জিল্লুর রহমান রাসেল/বার্তাবাজার/পি