দশমিনা উপজেলা সদরের একমাত্র জ্ঞানর্চ্চচা কেন্দ্র গণ উন্নয়ন গ্রন্থাগারটি ধুকে ধুকে শেষ হয়ে যাচ্ছে। গ্রন্থাগারের সামনের টিনের বেড়া খুলে পড়েছে, উই পোকায় কেটে নষ্ট করছে ১০ লক্ষাধিক টাকার মহা মূল্যবান প্রায় পাচ হাজার বই। নষ্ট হয়ে যাচ্ছে টেবিল চেয়ার। গ্রন্থাগারের মূল্যবান জমি বেদখল হয়ে যাচ্ছে নিরবে। কিছুদিন আগে দশমিনা মানব উন্নয়ন সংসদ নামে একটি সংগঠন গ্রন্থাগারের সামনে ব্যানার টাঙিয়ে লিখে দিয়েছেন আমি আপনাদেরই আমি শেষ হয়ে যাচ্ছি আছে কি কেউ আমাকে বাচাঁবে? এক সময়ের জনপ্রিয় এই গ্রন্থাগারে দশমিনা উপজেলার শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা,স্কুল কলেজের শিক্ষক ছাত্রছাত্রী,সাংবাদিক চাকুরীজীবী সহ শিক্ষিত জ্ঞান পিপাসু মানুষের পদ চারনায় মূখরিত ছিল।
স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ইউনিসেফ এর অর্থয়নে দশমিনা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পাশে একটি ভাড়া করা ঘরে ১৯৮৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় গন উন্নয়ন গ্রন্থাগারটি। গ্রন্থাগারটির প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত দশমিনা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গাজী ইসমাইল সংগঠক হিসেবে দ্বায়িত্ব পালন করেন এর পরে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত সৈয়দ মাসুম এবং ২০১০ সালের ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দ্বায়িত্ব পালন করেন দশমিনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মিজানুর রহমান তিতাস। এর আগে ১৯৯৫ সালে দশমিনা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় সড়কে তিন শতাংশ জমি ক্রয় করে একটি টিনসেট সেমিপাকা নিজস্ব ঘরে শুরু হয় গ্রন্থাগারের কার্যক্রম।
মিজানুর রহমান তিতাস বার্তাবাজারকে জানান, ইউনিসেফ,ফ্রিডম ফাউন্ডেশন সহ তিনটি সংস্থার অর্থয়নে পরিচালিত গ্রন্থাগারের উদ্দ্যেগে নিয়মিত সমাজ সচেতনতা মূলক সভা, সেমিনার, স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে রচনা প্রতিযোগিতা, বিতর্ক প্রতিযোগীতা, নারী নির্যাতন, যেীতুক,বাল্য বিয়ে সহ পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা মূলক সভা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হত।
তিনি আরো জানান, ২০১০ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে অর্থ বরাদ্দ না থাকায় গ্রন্থাগারের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। গ্রন্থাগারটিতে নিয়মিত দুইটি জাতীয় দৈনিক, দুইটি সাপ্তাহিক ও একটি পাক্ষিক পত্রিকা রাখা হতো এছাড়াও গ্রন্থাগারে বাংলা পিডিয়ার ১০ খন্ড, রাজনীতি, অর্থনীতি. স্কুল কলেজ ও রাষ্ট্রীয় আইন, বিভিন্ন ধর্মীয় ও গল্প উপন্যাস ও কবিতার ১০ লক্ষ টাকার পাচ হাজার বই রয়েছে। মহা মুল্যবান বইগুলো বর্তমানে উই পোকায় কেটে নষ্ট করে ফেলছে। গ্রন্থাগারের সাইনবোর্ডটি খুলে পড়ে রয়েছে নোংরা ধুলো ময়লায়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আল আমিন বার্তাবাজারকে জানান, খোজ খবর নিয়ে গন উন্নয়ন গ্রন্থাগারটি চালু করার উদ্দ্যেগ নেওয়া হবে।
দশমিনা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল আজীজ জানান, আমার রাজনৈতিক জীবনের অনেক স্মৃতি জড়িত গ্রন্থাগারটি সংস্কার করে পুনরায় কার্যক্রম চালু করার উদ্দ্যোগ নেওয়া হবে।
বার্তাবাজার/ভিএস