হেফাজতের আরও যারা প্রশাসনের নজরদারিতে

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশে আগমনকে কেন্দ্র করে সহিংস আন্দোলনে জড়িয়ে পড়ে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় সংগঠনটির নেতাকর্মীদের নামে ৭৭টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

দায়ের করা এসব মামলায় অনেক আসামিকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। এঁদের মধ্যে আছেন কেন্দ্রীয় যুগ্ম-মহাসচিব জুনায়েদ আল হাবীব, যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল ইসলামাবাদী, সহকারী মহাসচিব সাখাওয়াত হোসাইন রাজীসহ শীর্ষ কয়েকজন নেতা।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, এখনও হেফাজতে ইসলামের ২৫ জন নেতা নজরদারিতে আছেন। যাদের প্রায় সবাই ২০১৩ সালে শাপলা চত্ত্বরে সহিঙ্গস্তার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার আসামি।

সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের পর গ্রেফতার সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। তাই নজরদারিতে রাখা হয়েছে বেশ কয়েকজন নেতাকে।

এঁদের মধ্যে রয়েছেন- হেফাজতে ইসলামের আমীর আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী, মহাসচিব নুরুল ইসলাম জেহাদী, নায়েবে আমীর মাওলানা আব্দুল হামীদ (পীর সাহেব মধুপুর), মাওলানা মাহফুজুল হক, ড. আহমদ আব্দুল কাদের, মাওলানা বাহাউদ্দীন যাকারিয়া (আরজাবাদ), ড. আ ফ ম খালেদ হোসেন (চট্টগ্রাম), মাওলানা নুরুল ইসলাম খান (সুনামগঞ্জ), মাওলানা উবায়দুর রহমান মাহবুব (বরিশাল), যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা নাসির উদ্দিন মুনির, সহকারী মহাসচিব মাওলানা মূসা বিন ইজহার, মাওলানা হাসান জামিল, অর্থ সম্পাদক মুফতি মুনির হোসাইন কাসেমী, প্রচার সম্পাদক মাওলানা জাকারিয়া নোমান ফয়জী, শিক্ষা ও সংস্কৃতি সম্পাদক মুফতি হারুন ইজহার, সমাজ কল্যাণ সম্পাদক মুফতি কুতুবুদ্দিন নানুপুরী, সহকারী ত্রাণ ও পুনর্বাসন সম্পাদক মাওলানা জাকারিয়া মাদানী, মাওলানা গাজী ইয়াকুব, আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাওলানা শাহিদুল পাশা চৌধুরী (সাবেক এমপি), সহকারী দাওয়াহ সম্পাদক মাওলানা মুশতাকুন্নবী, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মাওলানা ওবায়দুর রহামান খান নদভী, ছাত্র ও যুব বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা হাফেজ মুহাম্মদ খুবায়েব, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক মাওলানা ড. নুরুল আবছার আজহারী, সহকারী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক মুফতি হুমায়ুন কবির, দফতর সম্পাদক মাওলানা হাফেজ মুহাম্মদ তৈয়ব।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম গণমাধ্যমকে বলেন, যারা ‘ওয়াচ লিস্ট’–এ রয়েছেন পর্যায়ক্রমে তাঁদের সবাইকে গ্রেফতার করা হবে। এছাড়া যাঁদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে তাঁদের বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত আছে। ইতোমধ্যে যাঁদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে অন্য যাঁরা জড়িত রয়েছেন তাঁদেরও গ্রেফতার করা হবে।

হেফাজত সুত্রে জানা গেছে, সরকারের সাথে দফায় দফায় বৈঠকে বসে সমঝোতা করতে না পেরে বেশ বেকায়দায় আছেন সংগঠনের নেতাকর্মীরা। অনেক নেতা আছেন গ্রেফতার আতংকে। এঁদের মধ্যে অনেকে রাতের বেলা বাসায় না থেকে অবস্থান করেন বিভিন্ন মাদ্রাসা বা আত্মীয়ের বাসায়।

বার্তা বাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর