উঠানের কাজ মহাসড়কে!

মহাসড়কের দুই পাশে নারী-পুরুষ ব্যস্ত ধান ও খড় শুকানোর কাজে। দেখে বুঝার উপায় নেই এটি মহাসড়ক না গৃহস্থ বাড়ির উঠান। নারী-পুরষদের পাশাপাশি নানা বয়সী শিশুরাও ব্যস্ততম মহাসড়কে ধান শুকানোর কাজে অংশ নিচ্ছে। এতে সড়কের দুই পাশের প্রশস্ত কমে যাওয়া ব্যস্ত যানবাহনে দুর্ঘটনার শঙ্কা থাকলেও সড়কে থামছে না উঠোনের কাজ। এ অবস্থা ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ সড়কের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার।

গৃহস্থলির কাজের একটি অংশ ধান ও খড়। মাঠের সোনালী ফসল কৃষক গোলায় তোলার আগে বাড়ির আঙিনায় তা শুকিয়ে নেন। কিন্তু গৃহস্থ বাড়ির উঠোন ক্রমশ ছোট হতে থাকায় উঠোনের বদলে ধান মারাই ও শুকানোর কাজ কতে হচ্ছে মহাসড়কে। ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার অংশ ঘুরে দেখা গেছে ধান শুকানোর কাজ কৃষকের উঠানে নয় চলছে ব্যস্ততম মহাসড়কে। মহাসড়কে এমন ভাবে ধান শুকানোতে ব্যস্ত নারী-পুরুষ দেখে মনে হয় এ যেনো চাতাল। মহাসড়কের ঈশ্বরগঞ্জের মাইজবাগ, হারুয়া, লক্ষ্মীগঞ্জ, বটতলাসহ সড়কের বিভিন্ন অংশে চলছে দু’পাশে ধান শুকানোর কাজ। দুপুরের প্রচন্ড খরতাপে নারী-পুরুষ ব্যস্ত ধান শুকানোর কাজে।

মহাসড়কে শুকানো হচ্ছে খরও। মহাসড়কে শুধু ধান বা খর শুকানোই নয় সড়কের পাশেই কৃষক পরিবার ধান সেদ্ধ করার কাজও সারছেন। প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত চলে সড়কে ধান ও খড় শুকানোর কাজ। পরিবারের বড় সদস্যদের সাথে এ কাজে অংশ নেয় অনেক শিশুরা। ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কটি দিয়ে হরদম গাড়ি চলাচল করায় সড়কে ধান শুকানোর কাজ চলায় যানচলাচল কারী যানবাহনকে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। সড়কের দুই পাশে ধান ও খড় শুকানোয় সড়কের প্রশস্ত কমে যায়।

মাইজবাগ এলাকার রাহেলা বেগম বলেন, বাড়িতে ধান শুকানোর মতো রোদ নেই। উঠানে গাছের ছায়া। আর যখন তখন বৃষ্টি এসে পড়ে। তাই সড়কে ধান শুকানোর কাজ করতে তারা বাধ্য হয়েছেন। তিনি বলেন, একটু পরপর গাড়ি চলাচল করায় তারা দুর্ঘটনার শঙ্কা নিয়েই কাজ করে যান।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন- ব্যস্ত মহাসড়কটির দুই পাশে ধান মাড়াই ও শুকানোর কাজ না করতে এলাকাবাসীকে অনেকবার অনুরোধ করা হয়েছে। কিন্তু তা মানেনা এলাকাবাসী। নিয়মিত সড়ক বিভাগের পক্ষ থেকে সড়কের দুই পাশে গৃস্থালির কাজ করা এলাকা গুলোতে সতর্কতা সৃষ্টি করা হচ্ছে।

বার্তাবাজার/পি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর