জীবন ধারণের মত কর্মের অভাব দেখা দেয়ায় কঠোর লকডাউন শুরু হওয়ার ১/২ দিন আগে থেকেই ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছিলো ২১ জেলার সাধারণ মানুষ। সে সময় শিবচরের বাংলাবাজার ঘাটে দেখা যায় যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। লঞ্চ আর স্পিড বোট বন্ধ থাকার কারণে ট্রলারে ঝুঁকি নিয়েই পদ্মা পার হয়েছে তারা।
লকডাউনের দ্বিতীয় সপ্তাহের তৃতীয় দিন শুক্রবার সকাল থেকেই ঢাকামুখী যাত্রীদের ভিড় দেখা গেছে বাংলাবাজার ঘাটে। যাত্রীদের বেশির ভাগই লকডাউনের আগে বাড়ি ফিরেছিলেন।
সরেজমিনে বাংলাবাজার ঘাট ঘুরে যাত্রীদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, লকডাউনের পূর্বে বাড়িতে আসলেও বসে বসে খেতে হয়েছে। হঠাৎ করে বাড়িতে এসে তেমন কোনো কাজও পাচ্ছেন না। জমানো টাকা প্রায় শেষের পথে। সামনে আবার ঈদ। তখন বাড়তি খরচের ধাক্কা। সব মিলিয়ে বাড়িতে থাকা সমীচীন মনে করছেন না তারা। ফলে ঢাকামুখী হচ্ছেন আবার।
এদিকে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় থ্রি হুইলার, মোটরসাইকেলে চেপে ভেঙে ভেঙে বাংলাবাজার ঘাটে এসেছেন। গুনতে হয়েছে বাড়ি ফেরার মতো বাড়তি ভাড়া।
জানতে চাইলে সোলায়মান আকন নামের এক ব্যক্তি বলেন, কোম্পানি থেকে ফোন দিয়ে ঢাকায় যেতে বলেছে। তাই যাচ্ছি। গিয়ে কাজে লেগে যেতে হবে।
হাসান ফকির নামের এক যুবকের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, সামনে ঈদ। লকডাউনে বাড়িতে এসে টাকা পয়সা সব শেষ হয়ে গেছে। ঢাকায় গিয়ে কাজ শুরু করতে হবে। ঈদের খরচ লাগবে।
বাংলাবাজার ঘাট সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার ভোর থেকেই ঢাকাগামী যাত্রীদের ভিড় রয়েছে এই ঘাটে। লঞ্চ ও স্পিড বোট বন্ধ থাকায় ফেরিতে পদ্মা পার হচ্ছেন তারা।
বিআইডব্লিউটিসির বাংলাবাজার ঘাট সূত্র জানিয়েছে, ঘাটে পণ্যবাহী ট্রাক ও অন্যান্য ছোট গাড়ি তেমন নেই। পাঁচটি ফেরি চলাচল করছে। সকাল থেকে ফেরিতে ঢাকামুখী যাত্রীদের চাপ বেশি রয়েছে।
বিআইডব্লিউটিসির বাংলাবাজার ফেরিঘাটের ব্যবস্থাপক মো. সালাহউদ্দিন জানান, ঘাটে গাড়ির তেমন চাপ নেই। ফেরি চলাচল স্বাভাবিক আছে। তবে ঢাকাগামী যাত্রীদের কিছুটা রয়েছে।
বার্তাবাজার/ভিএস