কারো হাতে কিছু সবজি কেউ বা সামান্য ফল আবার কেউ বা গ্রাম থেকে দুধ কিনে শহরে এনে বিক্রি করতে দেখা গেছে। আবার কেউ বা একটু বাড়তি আয়ের আশায় রিকশা নিয়ে বেরোতে দেখা গেছে অনেককেই। শুক্রবার এমনই দৃশ্য দেখা গেছে নেত্রকোনার দুর্গাপুর পৌর শহরের অলিগলিতে।
এ নিয়ে শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, চড়মোক্তারপাড়া, মুজিবনগর আবাসন থেকে বর্তমান করোনা ইস্যুতে সরকার ঘোষিত লকডাউন চলাকালীন সময়ে ১০ থেকে ১২ বয়সের বিভিন্ন শিশু-কিশোর দিনে ২শত থেকে ৩শত টাকা আয় করার কারণে রাস্তায় নেমেছে। পুলিশি ধর-পাকরের কারণে শঙ্কিত থাকছে তারা। লকডাউন এর কারণে স্কুল বন্ধ থাকায় অনেকেই পড়াশোনার পাঠ চুকিয়ে এভাবেই শ্রমিকের কাজে নেমেছে। তাদের কারও কারও কথায়, “সংসারে টানাটানি চলছে। কী আর করব।”
এবারে মাধ্যমিক পাশ করে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছিল রবিউল মিয়া। ছয় মাসে নতুন করে পড়াশোনা তার কিছুই এগোয়নি। বাড়ির কাজকর্ম করে সময় কাটিয়ে দিচ্ছে সে। তার বাবার কথায়, “আমি কাঠমিস্ত্রির কাজ করে সংসার চালাই। সামান্য কিছু কৃষি জমি থাকলেও খুব কষ্টে চলতে হয়। ছেলেকে তার মধ্যেও পড়িয়েছি। করোনায় আমাদের স্বপ্ন ভেঙ্গে গেছে, কিছুই করার নেই। অপরদিকে নবম শ্রেণির পড়াশোনার পাট চুকিয়ে দিয়েছে শাকিল।
তাঁর বাবা রাজমিস্ত্রির কাজের সঙ্গে যুক্ত। সে বলে, আমি পৌরশহরের একটি স্কুলে নবম শ্রেণিতে পড়াশুনা করছি, “কী করব? বাড়িতে খুব টাকার প্রয়োজন, তাই বাধ্য হয়ে রিক্সা চালাতে হচ্ছে।
এক অভিভাবক জানান, তাঁর দুই ছেলের মধ্যে বড়ছেলে অষ্টম শ্রেণিতেই পড়া শেষ করে নবম শ্রেণিতে ভর্তির পরই শুরু হলো করোনা, এ যেন আমার সংসারের সব কিছু কেড়ে নিলো। আর একজন নবম শ্রেণিতে উঠে পড়া ছেড়ে দিয়েছে। তাঁর কথায়, আমরা নিম্ন আয়ের মানুষ, করোনার কারণে আমাদের সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। সাধুপাড়ার বউ বাজারে সামান্য সবজি বিক্রি করেই কোন রকম সংসার চালাচ্ছি।
এ বিষয়ে উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, শিশুরা যাতে ঝুকিপুর্ন কাজ করানো রাষ্ট্রীয় অপরাধ। এ নিয়ে আমাদের তদারকি রয়েছে। কোভিড এর কারণে স্কুল কলেজ বন্ধ থাকায় চারদিকে শিশু শ্রম কিছুটা বেড়ে গেছে। উপজেলা শিশু কল্যাণ বোর্ডের মাধ্যমে করোনা পরবর্তী সময়ে সরকারিভাবে তাদের পুনর্বাসন করার ব্যবস্থা নেয়ার কথা ভাবছি আমরা।
বার্তাবাজার/পি