মাঠের স্বপ্ন ঘরে তুলতে ব্যস্ত কৃষকরা

দেশের প্রায় সব অঞ্চলে বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। তবে যশোর জেলার শার্শা উপজেলা জুড়ে ও বোরো ধান কাটা চলছে পুরোদমে। মাঠের যেদিকে চোখ যায় শুধু ধান আর ধান।

এ অঞ্চলের কৃষকরা পাকা ধান কেটে গোলায় তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। নাওয়া-খাওয়া ভুলে নারী-পুরুষ সবাই ধান কাটা- মাড়াইয়ের কাজ করছে। কারণ সারা বছরের খোরাক তাদের স্বপ্নের এই ফসল যে দ্রুত ঘরে তুলতে হবে। তা হলে যে কোনো সময় প্রাকৃতিক দুর্যোগে সব তছনছ হয়ে যেতে পারে।

এরই মধ্যে হিটশকে অনেক জমির ধান পুড়ে গেছে। অবশিষ্ট যা আছে তাও ঠিক মতো ঘরে তুলতে পারবে কি না তা নিয়ে চিন্তার শেষ নেই। যে কোনো সময় কালবৈশাখী ঝড়ের সঙ্গে শিলাবৃষ্টি এসে ক্ষেতের ফসল তছনছ করে দিতে পারে। আবহাওয়া পূর্বভাসে বলা হয়েছে, তাপমাত্রা বাড়লেও দেশের কোথাও কোথাও বজ্রবৃষ্টিসহ ঝড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া বন্যা পূর্বাভাসা সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে আগামী ২৪ এপ্রিলের মধ্যে দেশের উত্তরাঞ্চল ও উত্তর পূর্বাঞ্চলে বৃষ্টি হতে পারে।

এ ছাড়া করোনা মহামারি রোধে সারা দেশে কঠোর লকডাউন চলছে। এতে কৃষি শ্রমিকের সঙ্কট দেখা দিয়েছে। ফলে ধান মাঠেই নষ্ট হওয়ার শঙ্কায় দিন কাটছে কৃষকের। গত বছরও লকডাউন থাকায় একমাত্র ফসল বোরো ধান কাটতে কৃষি শ্রমিকের পাশাপাশি শিক্ষার্থীরাও ধান কেটে সহায়তা করেছিল। প্রয়োজনে এবারও পাকা ধান ঘরে তোলার যুদ্ধে সবাই অংশ নেবে। এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলের নেতাকর্মীদের কৃষকের ধান কেটে সহযোগিতা করার নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু শার্শা উপজেলায় এখনো কৃৃৃষকের পাশে এখনো দলীয় কোনো সংগঠন বা সেচ্ছাসেবী সংগঠন দেখা যায় নি।

উপজেলার নিজামপুর গ্রামের কৃষক সাইফুল ইসলাম শুকুর বলেন, অন্য বছরের তুলনায় জমিতে ফলন বেশি হয়েছে। তবে লকডাউনে বাইরে থেকে শ্রমিক না আশায় স্থানীয় শ্রমিক দিয়ে কাজ করেছি যা বিঘা প্রতি ৫শ থেকে ৭শ টাকা বেশি মজুরি দিতে হয়েছে।

অন্যদিকে লক্ষণপুর ইউনিয়নের কৃষক আমিরুল ইসলাম বলেন, ধানের বাজার কেমন যাবে এটা আমার জানা নাই। তবে বাজারে ধান কেনা-বেচার উপর ধানের লাভ ক্ষতির হিসাব।

উপজেলার কৃষি অফিসার সৌতম কুমার শীল বার্তা বাজারকে জানান, এ চলতি মৌসুমে শার্শা উপজেলায় ২৩ হাজার ৬৭০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। যা গত মৌসুমে থেকে বেশী। উপজেলায় এ বছর সব থেকে বেশী বোরো আবাদ হয়েছে বাহাদুর ইউনিয়নে।

তিনি আরো বলেন, বাজারে ধানের মূল্য চলছে মণ প্রতি শুরু ১১শ টাকা থেকে। তবে বাজারে ধানের চাহিদা আছে।

বার্তাবাজার/পি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর