শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে টিকিটের মূল্য দ্বিগুণ
যশোরের শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে আউটডোরে ও জরুরী বিভাগে সাধারণ রোগীদের কাছ থেকে মাথাপিছু টিকিটের মুল্য দ্বিগুণ আদায় করা হচ্ছে। কিন্তু রোগীরা কাঙ্খিত সেবা না পেয়েই বাড়ি ফিরছে। দীর্ঘ সময়ের ব্যবধাণে ও সাধারণ জনগনের এই উপজেলা স্বাস্থ্য সেবার কোন উন্নয়ন হচ্ছে না।
চলতি বছরের জানুয়ারী মাস থেকে আউটডোরে ও জরুরী বিভাগে সাধারণ রোগীদের কাছ থেকে মাথাপিছু টিকিটের মূল্য ৫ টাকার স্থলে ১০ টাকা আদায় শুরু হওয়ার পরপরই অভিজ্ঞ চিকিৎসক অন্যত্র বদলির নোটিশ পেয়ে চলে গেছে। বর্তমানে স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যে সব চিকিৎসক আছে তা অধিকাংশ নতুন যোগদানকৃত। চিকিৎসা জগতে একেবারেই নতুন।
চিকিৎসা নিতে আশা রোগীরা প্রতি নিয়ত নানা ধরনের প্রতারণার শিকার হচ্ছে। স্বাস্থ্য কেন্দ্রের অভ্যন্তরে রোগীদের চিকিৎসা সেবার জন্য কম খরচে এক্স-রে, আল্ট্রাসনো, ইসিজি, রক্ত ইত্যাদি পরীক্ষা-নিরীক্ষার সু-ব্যবস্থা থাকার কথা থাকলে ও স্বাস্থ্য কেন্দ্র চলাকালীন সময়ে চিকিৎসকরা নিজেদের কমিশন বাণিজ্যের জন্য বেশিরভাগ রোগীদের স্বাস্থ্য কেন্দ্রের বাইরে পছন্দের বিভিন্ন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠাতে দেখা যায়। রোগীদের স্বাস্থ্য কেন্দ্রের বাইরে পাঠালে যেমন রোগীর ব্যপক অর্থদন্ড হচ্ছে অন্যদিকে সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব।
স্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্যাথলজিক্যাল বিভাগে বার্তা বাজারের অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রতিদিন ১৫-২০ জন রোগী ছাড়া বাকি রোগীদের স্বাস্থ্য কেন্দ্রের বাইরে পছন্দের বিভিন্ন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠাচ্ছেন চিকিৎসরা । অথচ মার্চ মাসের হিসাব অনুযায়ী ২১ কর্ম দিবসে স্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্যাথলজিক্যাল বিভাগে রোগীদের কাছ থেকে বিবিধ পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য আয় হয়েছে ৪৬ হাজার ৫শত ৬০ টাকা। মার্চ মাসের ২১ কর্ম দিবসে স্বাস্থ্য কেন্দ্রের আউটডোরে রোগীর উপস্থিতি ছিল ৭ হাজার ৩ জন এবং টিকিটি বিক্রি হয়েছে ৭০ হাজার ৩০ টাকা। আর জরুরী বিভাগে সাধারণ রোগীদের কোন তালিকায় তৈরী হয়না। জরুরী বিভাগে রুগী ভর্তি দেখানো হয়েছে ৭ শত ৩৫ জন এবং ভর্তি ফ্রী আদায় হয়েছে ১৪ হাজার ৭শত টাকা। ১শত ২২ জন রুগীর এক্স-রে পরীক্ষার জন্য আদায় হয়েছে ৮ হাজার ৯ শত ১০ টাকা। ৩৮ জন রোগীর ইসিজি পরীক্ষায় ৩ হাজর ৪০ এবং ১শত ৩ জন রোগীর আল্ট্রাসনোগ্রাম পরীক্ষায় ১৩ হাজার ৯ শত ৭০ টাকা আদায় করা হয়েছে। জরুরী রোগী পরিবহনে এ্যাম্বুলেন্স থেকে আয় হয়েছে ৩১ হাজার ২শত টাকা। স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ১ জন হোমিও মেডিকেল অফিসার থাকলেও সপ্তাহে ২দিন বাইরে ডিউটি থাকার কারণে রোগীরা চিকিৎসা সেবা নিতে এসে ফিরে যেতে দেখা যায়।
চিকিৎসা সেবা নিতে আসা সাধারণ অসহায় ও গরীব রোগীদের কষ্টার্জিত অর্থদণ্ড দিয়ে বাইরের কোন বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিকে দৌড়াতে হয়। এভাবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবা নিতে আসা সাধারণ অসহায় ও অসচ্ছল রোগীরা প্রতিনিয়ত আর্থিক ক্ষতি ও হয়রানির স্বীকার হচ্ছে।
চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের সাথে কথা বললে বার্তা বাজারকে জানান, সরকারি হাসপাতাল রোগীর প্রতি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তেমন কোনো নজর নাই। আমরা কোথা থেকে ওষুধ কিনবো এর দালালের অভাব নাই এখানে। টিকিটের মূল্য তো ১০ টাকা দিতে হয়। আবার আমরা জানি টিকিটের মূল্য ৫ টাকা।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার ইউসুফ আলী রোগী সেবার বিষয় নিয়ে বলেন, ৫০ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডাক্তারের চাহিদা ২১ জন, আছে ১৪ জন। নার্সের চাহিদা ৩৫ জন, আছে ২৬ জন। অন্যান্য গ্রুপে চাহিদা অনুযায়ী আমাদের হাসপাতালে জনবল খুবই কম । তবে ডাক্তারদের কমিশন বাণিজ্যের জন্য বিবিধ পরীক্ষা-নিরীক্ষার ক্ষেত্রে রোগীদের বাইরে পাঠানোর বিষয়টি আমার জানা ছিল না। প্রমাণ পেলে অপরাধীর বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বার্তাবাজার/ভিএস