করোনায় থমকে গেছে নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের জীবন
বাংলাদেশে করোনাভাইরাস বিস্তার রোধে শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে সারাদেশ ব্যাপী চলাচলে ওপর যে কড়াকড়ি বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বিপাকে পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষগুলো। তাদের অবস্থা এখন সংকটময়। সীমাহীন কষ্টে আছেন। ক্ষুধার জ্বালায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন এমন অনেকেই। বাধ্য হয়ে কাজের সন্ধানে রাস্তায় নামছেন তারা।
ঢাকার কেরানীগঞ্জে রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন মুহম্মদ মামুন। সকাল থেকে ফাঁকা রাস্তায় ঘুরছে রিকশা নিয়ে। মামুন বলেন, রিকশা চালিয়ে ভাত খেতে পারছিনা। জায়গায় জায়গায় পুলিশ চেকপোস্ট। পুলিশ রিকশা দেখলেই উল্টো করে দেয়। এইতো একশো পঞ্চাশ টাকার খেপ মারছি। পোলাপাইনের মুখে আজ ইফতার দিতে পারব না। একশো টাকা আজকের বাজারে কি পাওয়া যায়। মালিককে নামে মাত্র জমা দিই। এই সময় বেঁচে থেকে অনেক বিপদে আছি।

কেরানীগঞ্জে হাজারো নিম্ন আয়ের মানুষগুলো আজ হতাশ। এমনই আরেক ভুক্তভোগী রিকশা চালক রাশেদ বলেন, সকাল আটটায় গাড়ি নিয়ে বের হইছি। এখন পর্যন্ত ভাড়া মারতে পারিনি এক টাকাও। পুলিশ ধরে গাড়ি ফাঁড়িতে নিয়ে গেছে। কান্নাকাটি করছি তারপরও গাড়ি ছাড়েনি। টাকা চায় তিন হাজার, ওই জায়গায় মোবাইলে টাকা এনে পনেরো’শ টাকা দিয়ে গাড়ি আনছি। সারাদিন আয় পঞ্চাশ টাকা জরিমানা পনেরো’শ টাকা।
রাজেন্দ্রপুর এলাকায় টিনের ঘরে ভাড়া থাকেন দিন আনে দিন খাওয়া শফিকুল মিয়া। লকডাউনের আগে রিকশা চালাতেন। তার দু’টি পা নেই। এখন তার বৌ মাঠে কাজ করে সংসার চালান। তিনি জানান, রোদে কাজ করে বৌ। আলু পিঁয়াজ, ডাল আছে ঘরে কয়েকদিনের। ঘর ভাড়া বাকি ২ মাসের, কিন্তু ভাড়া দিমু ক্যামনে যেখানে বাঁচা কষ্ট। কিস্তি তোলেছিলাম চিকিৎসার জন্য তারা লকডাউনেও কিস্তি চায়।

বাসাবাড়িতে কাজ করেন বয়স্ক নাছরিন বেগম করোনায় থমকে গেছে তারও জীবন। নাছরিন বলেন, কাজে যেতে পারিনা করোনা রোগের কারণে। আজ আমি ভিক্ষা করে চলি। আমি খুব অসুস্থ, আমার শরীরটা ভালো না। থাকা খাওয়ার জন্য ভিক্ষা করি বাপজান। সারাদিন ভিক্ষা করে এই একশো টাকা পাইছি।
কদমতলি চৌরাস্তায় ভ্যানগাড়িতে করে ফল বিক্রি করা বেসরকারি স্কুল শিক্ষক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বলেন, ভ্যানগাড়িতে করে ফল বিক্রি করতে শুরু করেছি। জমানো যা টাকা ছিল, এর কিছু টাকা দিয়ে ফলের ব্যবসা করতে নেমেছি। আর কোনো কাজ খুঁজে পাচ্ছি না। খেয়ে পড়ে বেঁচে থাকতে তো হবে। আমার পরিবারে পাঁচজন সদস্য। মা-বাবা, ভাই-বোন সবাইকে নিয়েই বেঁচে থাকার চেষ্টা। পরিবারের সদস্যদের খাবারের যোগান দিতে রাস্তায় ফল বিক্রি করতে নামা। কষ্টের কথা না পারি কাউকে বলতে, না পারি সইতে। আগামী দিনগুলোতে পরিবার নিয়ে কীভাবে চলব, তা এখন বড় চিন্তার বিষয়।
রানা আহমেদ/বার্তাবাজার/পি