ময়মনসিংহের সীমান্তবর্তী উপজেলা ধোবাউড়া। স্বাধীনতার ৫০ বছরেও ভাগ্য বদলায়নি উপজেলার সুবিধাবঞ্চিত চরেরভিটা গ্রামের মানুষের। উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত গ্রামটি দেখতে অনেকটা দ্বীপের মত। চর্তুদিকে রয়েছে খাল বিলের বেষ্টনি। মাঝখানে অবস্থিত এই অবহেলিত গ্রাম।
উপজেলার পোড়াকান্দুলিয়া, গোয়াতলা এবং ধোবাউড়া সদর এই তিনটি ইউনিয়নের সীমান্ত এলাকায় অবস্থিত থাকার কারণে এই গ্রামটিতে উন্নয়ন কাজ করেন না জনপ্রতিনিধিরা।
স্থানীয় রহিমা খাতুন বলেন, নির্বাচন এলে প্রার্থীরা মা খালাম্মা ডেকে ভোট চাইতে আসেন কিন্তু পরের ৫ বছরে কারও দেখা মিলেনা। বর্ষাকালে গ্রামের চতুর্দিকে থাকে পানি। কিন্তু পান করার মত বিশুদ্ধ পানির রয়েছে চরম সংকট। সরকারী সুবিধা বয়স্ক, বিধবা, প্রতিবন্দ্বী, ভিজিএফ, ভিজিডি সুবিধাও পান না এই গ্রামের বাসিন্দারা।
সরেজমিনে গ্রামটিতে ঘুরে এমন নানান সমস্যার চিত্র উঠে এসেছে। এই গ্রামে রয়েছে চন্দ্রনাথ নামে একটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। বর্ষাকালে বছরে অন্তত ৪ মাস কার্যক্রম প্রায় বন্ধ থাকে। আশেপাশে কোন উচ্চ বিদ্যালয় নেই। ৩ কিলোমিটার দূরে একটি বতিহালা উচ্চ বিদ্যালয় অপরদিকে ধোবাউড়া সদরের প্রতিষ্ঠান। যাতায়াতের ব্যবস্থা না থাকায় কোনটিতেই ছেলেমেয়েদের স্কুলে পাঠাতে পারেন না অভিভাবকরা।
স্থানীয় মোফাজ্জল হোসেন বার্তা বাজার কে জানান, বর্তমান ডিজিটাল যুগেও উপজেলার অবহেলিত এই গ্রামটিতে কারও নজর পড়েনা। চরেরভিটা গ্রাম থেকে সদরে আসার রাস্তাটি অত্যন্ত নাজুক। বর্ষাকালে অনেকাংশ পানির নিচে থাকে। কেউ অসুস্থ্য হলে হাসপাতালে আনার কোন সুযোগ থাকে না। একটি রাস্তা গজারিয়া গ্রাম হয়ে গোয়াতলা ইউনিয়নের সংযোগ। এটি শুধু নামেই রাস্তা, দেখতে ধান ক্ষেতের আইল। অপর একটি রাস্তা বতিহালা, দুধনই হয়ে পোড়াকান্দুলিয়া ইউনিয়নের সংযোগ।
তবে মাঝখানে রয়েছে রুহালা নামক একটি বড় খাল। খালটিতে কোন ব্রীজ কালভার্ট না থাকায় কেউ বের হতে পারেন না। স্থানীয় শহর আলী নামে একজন বলেন, রুহালা খালে একটি কালভার্ট ব্রীজের জন্য দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তিতে বসবাস করছেন এলাকাবাসী।
এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান স্বপন তালুকদার জানান, আমি কিছু কাজ ঐ করেছি, সামনে আরও কিছু কাজ করে দিবো।
সম্প্রতি সরকারি উদ্যোগে সম্পন্ন হওয়া দুস্থদের জন্য ভিজিডি কর্মসূচির একটি কার্ডও পাননি এই গ্রামের কোন বাসিন্দা। এ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে রয়েছে চরম ক্ষোভ।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাফিকুজ্জামান জানান, এ বিষয়ে আমি ইতোমধ্যে ইউপি চেয়ারম্যানকে বলেছি যেন সরকারী সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়।
আনিসুর রহমান/বার্তাবাজার/পি