ময়মনসিংহ থেকে ভালুকা মহাসড়ক ও ময়মনসিংহ নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েণ্টে ক্লোজ সার্কিট (সিসিটিভি) ক্যামেরা স্থাপনে মহাসড়ক কেন্দ্রিক অপরাধ অনেকাংশে কমে গেছে। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে জেলার ঈশ্বরগঞ্জ পৌর এলাকায় স্থাপন করা হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা।
ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের মধ্যবর্তী স্থানের এই উপজেলায় সিসি টিভি ক্যামেরা স্থাপনের পর ঈর্ষণীয় হারে কমেছে অপরাধ প্রবণতা।
ঈশ্বরগঞ্জ পৌর বাজারে বিভিন্ন দোকানে চুরি, সড়কে অসাধু চক্রের চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধ প্রায়ই সংগঠিত হতো। চোর চক্রের তৎপরতায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেন পৌর সভার ব্যবসায়ীরা। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে পৌর এলাকাকে সিসি টিভি ক্যামেরার আওতায় আনার উদ্যোগ নেয় স্থানীয় পুলিশ। ময়মনসিংহ পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় ঈশ্বরগঞ্জ থানা পুলিশ ও স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. ফখরুল ইমামের অর্থায়নে স্থাপন করা হয় সিসি টিভি ক্যামেরা। পৌর এলাকার প্রধান সড়কসহ বিভিন্ন গলি ৩২টি সিসিটিভি ক্যামেরা আওতায় আনা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ১১টি ক্যামেরা স্থাপন করে মহাসড়ক কেন্দ্রিক অপরাধ প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে পুলিশ। গত ২৬ মার্চ চালু হয় সিসিটিভি ক্যামেরা।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি কক্ষ থেকে পুরো এলাকা মনিটরিং করা হয় সার্বক্ষণিক। সিসিটিভি দেখে অ্যাকশনও নেওয়া হচ্ছে দ্রুত। সম্প্রতি ঈশ্বরগঞ্জ কলেজের সামনের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের গোডাউন থেকে ব্যাটারি চুরি করে নিয়ে যায় দুই চোর। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে চোর চক্রকে শনাক্ত করে দুই চোরকে প্রেপ্তার ও চোরাই ব্যাটারি উদ্ধার করে পুলিশ। পৌর এলাকার মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সংলগ্ন বিজয় চত্বরকে ঘিরে মহাসড়কে চলাচলকারী মহাসড়কে চাঁদাবাজি বন্ধ হয়ে গেছে।
কমিউনিটি পুলিশিং ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর রহমান আকন্দ হলুদ বলেন, সিসি টিভি ক্যামেরা স্থাপনের পর থেকে কোনো চুরি সংগঠিত হয়নি। অন্য অপরাধীরাও সিসিটিভি ফুটেজে আটকা পড়তে পারেন এই ভয়ে অপরাধ প্রবণতা বন্ধ করে দিয়েছে।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি মো. আবদুল কাদির মিয়া বলেন, অপরাধ দমনে পৌর এলাকাকে সিসিটিভির আওতায় আনা হচ্ছে। প্রাথমিক পর্যায়েই তারা সাফল্য পেতে শুরু করেছেন। সিসিটিভি স্থাপনের পর পূর্বের তুলনায় অপরাধ নেই বললেই চলে। চলমান লকডাউন সফল ভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না তাও সিসি টিভিতে মনিটরিং করে প্রদক্ষেপ নিতে পারছেন।
বার্তাবাজার/পি