ন্যায্য দাম পেয়ে খুশি মোকামে ধান নিয়ে আসা কৃষক-ব্যাপারীরা

দেশের বৃহত্তম ধানের বাজার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ মোকাম। প্রতি বছরের মত এবারও বিক্রেতা, ব্যাপারী ও ক্রেতাদের হাঁকডাকে মুখরিত হয়ে উঠছে বৃহৎ এ ধানের মোকাম। সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, সিলেট, হবিগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিস্তীর্ণ হাওর অঞ্চল থেকে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত নতুন ধান নিয়ে আসতে শুরু করেছে আশুগঞ্জ মোকামে। প্রতিদিন গড়ে এক লাখ টন ধান বিক্রি হয় এ মোকামে।

চলতি ইরি- বোরো মৌসুমের শুরুতে মোকামে আসতে শুরু করেছে নতুন বোরো ধান। চলতি মৌসুমে ফলন ভালো হওয়ায় ধানের আমদানিও বাড়ছে। মোকামে ধান নিয়ে আসা ব্যাপারী ও কৃষকরা ধানের ন্যায্য দাম পাওয়ায় খুশি তারা।

আশুগঞ্জ মোকামে ধান নিয়ে আসা ব্যাপারী চাঁন মিয়া জানান, চলতি মৌসুমে আমন ধানের ফলন ভালো হওয়ায় আমরা খুশি। প্রতিমণ নতুন বোরো ধান (বি-আর -২৮) চিকন (৯৫০-৯৮০) টাকা ও বোরো ধান (বি-আর-২৯) মোটা (৭০০-৭৫০) টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

তবে চাতালকল মালিকরা জানান, বাজারে চালের দাম বেশি হওয়ায় ধান বেশি দামে ধান ক্রয় করে তেমন সুবিধা হচ্ছে না। তবে মোকামে ধানের আমদানী আছে প্রচুর।

চাতাল ব্যবসায়ী সাদ্দামা হোসাইন জানান, এখন মোকামে আসা নতুন ইরি-বোরো ধান শুকনা নাওয়া হওয়ায় ধান ক্রয় করে তা চাতালে কাসিং (মাড়াই) করে তেমন আশানুরুপ চাল পাওয়া যাচ্ছে না। প্রতি মন ধান থেকে কাসিং (মাড়াই) করে ১৮-১৯ কেজি চাউল পাওয়া যাচ্ছে। তাই তেমন লাভ হচ্ছে না।

আশুগঞ্জ উপজেলা অটো মেজর এন্ড হাসকিং মিল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হেলাল শিকদার জানান, আশুগঞ্জ মোকামে নতুন বোরো ধান আসতে শুরু করেছে। প্রতিমণ নতুন বোরো ধান (বি-আর -২৮) চিকন (৯৫০-৯৮০) টাকা ও বোরো ধান (বি-আর-২৯) মোটা (৭০০-৭৫০) টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

উল্লেখ্য, দেশের হাওর অঞ্চলের উৎপাদিত ধান আশুগঞ্জের ৪ শতাধিক চাতালকলে প্রক্রিয়াজাত করা হয়। চালে রূপান্তর করে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চাঁদপুর ও ফেনীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করে প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণ করে থাকে।

সন্তোষ চন্দ্র সূত্রধর/বার্তাবাজার/পি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর