কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সহযোগিতা ফান্ড গঠনে আহবায়ক কমিটি গঠনের ১০ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো বাস্তবায়ন হয়নি কার্যক্রম। যদিও বিশ্ববিদ্যালয়টিতে প্রতিবছর শিক্ষার্থী ভর্তির সময় বিভিন্ন খাতে ১২ হাজার ৭৬০ টাকা নেওয়া হয়। যার মধ্যে ছাত্র-ছাত্রী কল্যাণ ফি নামেও একটি খাত থাকে৷
গত বছরের ২৩ জুন বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের নির্দেশে ও রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশ থেকে জানা যায়, করোনাকালীন ও করোনা পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীদের কেন্দ্রীয়ভাবে সহযোগিতা ফান্ড গঠনের জন্য ছাত্র পরামর্শক ও নির্দেশনা শাখার পরিচালক ড. জি.এম. মনিরুজ্জামানকে আহ্বায়ক এবং অর্থ ও হিসাব দপ্তরের উপ-পরিচালক মো: নাছির উদ্দিনকে সদস্য সচিব করে ১০ সদস্য বিশিষ্ট একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছিল।
দীর্ঘদিনেও ফান্ড না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী তাসফিক আব্দুল্লাহ বলেন, আমাদের বিভাগের অন্তর সাহা দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ। তার চিকিৎসার জন্য এখন বড় ধরনের অর্থের প্রয়োজন। যদি আমাদের এই ছাত্র সহযোগিতা ফান্ডটা থাকতো, তাহলে আমরা অন্তরের জন্য কিছুটা হলেও সহযোগিতা পেতাম৷
বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. বনানী বিশ্বাস বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কেন্দ্রীয়ভাবে সহযোগিতা ফান্ড করলে তো ভালো হয়। এটা অন্তত মানবিক একটি দিক। আমিও অনেক সময় বিভাগের শিক্ষার্থীদের নিয়ে সমস্যায় পড়েছি। একটা নীতিমালার মাধ্যমে এটা চালু করা গেলে অনেক শিক্ষার্থী এতে উপকৃত হবে।
এদিকে ছাত্র সহযোগিতা ফান্ড গঠন কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কে কমিটির আহ্বায়ক ড. জি.এম. মনিরুজ্জামান বলেন, আমাদের আহবায়ক কমিটি থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। সেই চিঠিতে এ যাবত কালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র কল্যাণ ফান্ডে কী পরিমাণ টাকা জমা হয়েছে এবং এখন কী পরিমাণ টাকা আছে সেটা জানতে চাওয়ার পাশাপাশি ছাত্র কল্যাণ ফান্ডের জন্য একটি আলাদা একাউন্ট খোলার বিষয়ে বলা হয়। আমরা আবেদন করে রেখেছি। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে আমার জানা মতে, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো উদ্যোগ হয়তো নেওয়া হয় নাই।
সহযোগিতা ফান্ড গঠন কমিটির সদস্য সচিব বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ও হিসাব দপ্তরের উপ-পরিচালক মো: নাছির উদ্দিন বলেন, আমরা মিটিং করে আমাদের সুপারিশগুলো রেজিস্ট্রার দপ্তরে পাঠিয়েছিলাম। তবে এখন পর্যন্ত কোনো উত্তর পাইনি।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের বলেন, সহযোগিতা ফান্ড গঠনের জন্য আহবায়ক কমিটি করা হয়েছিলো। কিন্তু পরবর্তী সময়ে শ্রেণী কার্যক্রম চালু হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় এটা নিয়ে আর ভাবা হয়নি।
সাজ্জাদ বাসার/বার্তা বাজার/এসজে