করোনায় মৃত্যুর হার বৃদ্ধি পেলেও অসচেতন সাভারবাসী!

ঢাকার সাভারে করোনা ভাইরাস শুরুর পর থেকে গত এক বছরে মৃতের সংখ্যা ছিলো ৩৩ জন। কিন্তু মাত্র একদিনেই মারা গেছেন ৬ জন কোভিড-১৯ পজিটিভ রোগী! এ নিয়ে সাভারে করোনায় মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ৩৯ জনে!! এরপরও স্বাস্থ্য বিধি না মেনে কঠিক লক ডাউনের ভিতরেও সাভারবাসী চলাফেরা করছেন যা দেখে মনেই হয়না যে সাভারে ‘করোনা’ বলতে কিছু রয়েছে।

এনাম মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের ডিউটি ম্যানেজার মামুনুর রশীদ এর বরাত দিয়ে জানা যায়, এনাম মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একদিনে ৬ করোনা রোগীর মৃত্যু হয়। এদের মধ্যে ৪ জন পুরুষ ও ২ জন নারী ছিলেন।

মৃতরা হলেন- আব্দুল্লাহ আল কাফি (৬৪), আফতাব উদ্দিন শেখ (৫৩), বাবুল মিয়া (৬৪), ইমরান মাহমুদ জুলহাস (৩৭), ছালেহা হক (৪৫) ও সাবিনা ইয়াসমিন (৭২)। তারা সবাই বিভিন্ন জেলা থেকে চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন বলে জানান মামুনুর রশীদ। বর্তমানে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৮৩ জন করোনায় আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলেও জানান তিনি।

তবে এই মৃত্যুর হার বৃদ্ধি পেলেও অসচেতন সাভারবাসী লক ডাউনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে চলেছেন। অধিকাংশ মানুষ মাস্ক বিহীন চলাফেরা করছেন। কাঁচামাল সহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ক্রয় করতে বের হয়ে তারা মানছেন না নির্দিষ্ট সামাজিক দূরত্ব। মহাসড়কগুলোতে গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও অবাধে চলছে থ্রি-হুইলার। জেলা পুলিশ এবং হাইওয়ে থানা পুলিশের সামনে দিয়ে থ্রি-হুইলার ভর্তি হয়ে মহাসড়ক ধরে চলাফেরা অব্যাহত রয়েছে। তাহলে কঠিন লক ডাউন দিয়ে কি লাভ হলো এমনটা প্রশ্ন সচেতন মানুষের।

সরেজমিন দেখা গেছে, আশুলিয়ার বাইপাইল এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাড়সড়কে জেলা পুলিশের ব্যারিকেড রয়েছে, একই অবস্থা দেখা গেছে নবীনগরে সেনা অডিটোরিয়াম (সিনেমা হল) এর সামনেও। কিন্তু এসব জায়গাগুলো পর্যন্ত ভেঙ্গে ভেঙ্গে থ্রি-হুইলার চলাফেরা করছে। বাইপাইল ব্যারিকেড পার হয়ে পরবর্তী ব্যারিকেড পর্যন্ত এবং নবীনগরের ব্যারিকেড পার হয়ে সাভার অভিমূখী থ্রি-হুইলার এবং অটো রিক্সা চার-পাঁচজন করে যাত্রী নিয়ে অবাধে চলাফেরা করছে।

যদিও হাইওয়ে পুলিশ এবং জেলা ট্রাফিক পুলিশ কিছু থ্রি-হুইলার আটক করে ডাম্পিং এর ব্যাবস্থা করছেন, তবে তা খুবই অপ্রতুল। এক্ষেত্রে আটক থ্রি-হুইলারের অনেক চালক র‍্যাকার বিল নিয়ে বাণিজ্যের অভিযোগও আনছেন। মোটকথা, নিষিদ্ধ থাকার পরেও মহাসড়কে অবাধে থ্রি-হুইলারে মাস্ক পরিহিত এবং মাস্কবিহীন যাত্রীদের শরীর ঘেষে চলাফেরা করতে দেখা যাচ্ছে এই কঠিন লক ডাউনের ভিতরেও।

সরেজমিন আরেকটি বিষয় দেখা গেছে, সাভার বাসষ্ট্যান্ড এলাকায় রাস্তার ফুটপাতে ছিন্নমূল হকারদের এক অংশ পসরা সাজিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। বাইপাইলে পর্দা দিয়ে ঘিরে একটি মার্কেট খোলা থাকতে দেখা গেছে। আর এই রমজানের ভিতরেও রাস্তার পাশে পর্দায় ঘেরা চা’র দোকানে সামাজিক দূরত্ব বজায় না রেখে চা-সিগ্রেট পানরত অসচেতন সাভারবাসীর সংখ্যাও একদম কম নয়। তাহলে প্রশ্ন থাকছে, দিনমজুর ও দৈনিক খেটে খাওয়া মানুষের আয়ের পথ বন্ধ করে এই কঠিন ও সর্বাত্মক লক ডাউন দিয়ে কী করোনা সংক্রমণের হার আদৌ কমানো সম্ভব হবে?

সাভার রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং আশুলিয়া রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) দ্বয় যদিও লক ডাউন বাস্তবায়নে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেছেন ; কিন্তু সাধারণ মানুষের মাঝে করোনায় আক্রান্তের ভয় না থাকায় এবং সরকার ঘোষিত স্বাস্থ্য বিধি মেনে না চলায় এই মোবাইল কোর্ট এক্ষেত্রে তেমন প্রভাব ফেলতে পারছে না।

এব্যাপারে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এবং উপজেলা করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সচিব ডা. মোহাম্মদ সায়েমুল হুদা জানান, সাবার উপজেলা করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ কমিটির পক্ষ থেকে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা সহ বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা হচ্ছে। কিন্তু সাভারবাসী যদি নিজেরা সচেতন না হয়, মাস্ক পরিধান না করে কিংবা সামাজিক দূরত্ব বজায় না রাখে, তাহলে করোনা মোকাবিলা করা সম্ভব হবে না।

প্রসঙ্গত, সর্বশেষ গত ১৯ এপ্রিল, ২০২১ তারিখে সাভার উপজেলায় মোট ৯৩ জনের নমূনা সংগ্রহ হয়, তাদের মধ্যে ২১ জন কোভিড-১৯ পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন।

মোঃ আল মামুন খান/বার্তাবাজার/ভিএস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর