লকডাউনেও রাজধানীতে যানজট

দেশে বাড়ানো হয়েছে লকডাউনের সময়। কিন্তু যতই দিন গড়াচ্ছে ততই লকডাউন মানার প্রতি মানুষের অনীহার সৃষ্টি হচ্ছে। প্রয়োজন ছাড়াও
অপ্রয়োজনে মানুষজন বের হচ্ছে বাইরে। কাঁচাবাজার থেকে ওষুধ কেনাসহ নানা অজুহাতে বাসার বাইরে বের হন লোকজন।

অনেকে জীবীকার তাগিদেও বের হচ্ছেন বাইরে। সরকার ঘোষিত লকডাউনের ষষ্ঠ দিনে সোমবার (১৯ এপ্রিল) রাজধানীর সড়কে মানুষ ও যানের পরিমাণ অনেক বেড়েছে।

ব্যক্তিগত গাড়ি, পিকআপ, ট্রাক, সিএনজি অটোরিকশা, রিকশা ও মোটরসাইকেলের দখলে ছিল ঢাকার সড়ক। কোথাও কোথাও যানজটও দেখা গেছে। গতকাল রামপুরা, মালিবাগ, কাকরাইল, পল্টন, সেগুনবাগিচা, মতিঝিল, শাহবাগ, ফার্মগেট, বনানী এলাকায় দেখা গেছে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ না করেই পথে পথে ছিল মানুষের ভিড়।

সরকারি নির্দেশনা মেনে শপিংমল-বিপণি বিতান বন্ধ থাকলেও কোনো কোনো স্থানে ছোট ছোট অনেক দোকান খোলা ছিল। পুলিশ আশেপাশে এলেই শাটার বন্ধ করে দেন তারা। রামপুরা বাজারে রিকশা ও মানুষের ভিড় ছিল সকাল থেকেই। ভ্যানে করে কাঁচাবাজার থেকে শুরু করে ফল, নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করা হচ্ছিলো সেখানে। এসব ক্রয় করতেই ভিড় করছিলেন সাধারণ মানুষ।

বাজারের বিভিন্ন মোড়ে ছিল রিকশা ও সিএনজি অটোরিকশা। যাত্রী নিয়ে আশেপাশের বিভিন্ন এলাকায় যাচ্ছিলেন রিকশাচালকরা। বাজারের পাশে প্রধান সড়কের এক পাশে ট্রাক থেকে বিক্রি করা হচ্ছিলো টিসিবি’র পণ্য। এরমধ্যেই পোশাককর্মীরা দল বেঁধে কারখানায় যাচ্ছিলেন। তাদের অনেকের মুখে ছিল না মাস্ক।

সড়কে প্রাইভেট গাড়ি, পিকআপ, সিএনজি অটোরিকশা ও রিকশার কারণে যানজট সৃষ্টি হয় ওই এলাকায়। পুলিশ কয়েকটি গাড়ি থামিয়ে চেক করছিলো। প্রায় প্রতিটি গাড়ির যাত্রী নিজেদের জরুরি প্রয়োজনের বিভিন্ন অজুহাত দিয়ে গন্তব্যে ছুটে যাচ্ছিলেন।

কাকরাইলের নাইটিঙ্গেল মোড়ে ছিল পুলিশের তল্লাশি চৌকি। সকাল থেকে ওই এলাকায় ছিল কড়াকড়ি। রিকশা-ব্যক্তিগত গাড়ি থামিয়ে ‘মুভমেন্ট পাস’ আছে কিনা তা দেখছিলেন পুলিশ সদস্যরা। যাদের পাস নেই তাদেরকে জরিমানা করা হচ্ছিলো। এসময় কয়েকটি রিকশা আটকে রাখা হয় সেখানে। মালিবাগ এলাকায় পুলিশের পিকআপ দেখা গেলেও যানবাহন বা পথচারী চলাচলের ক্ষেত্রে তাদের কোনো ভূমিকা দেখা যায়নি। খিলগাঁও এলাকায় রিকশা ও মোটরসাইকেল ছিল উল্লেখযোগ্য।

রিকশার দুই যাত্রী আফতাব ও নিলা জানান, তারা স্বামী-স্ত্রী। বাসায় থাকতে থাকতে খারাপ লাগছিল। তাই সুপার শপ থেকে কেনাকাটা ও ফাঁকা রাস্তায় রিকশায় বেড়ানোর উদ্দেশ্যে বের হয়েছেন। খিলগাঁও তালতলা এলাকায় ফুটপাথে বসে অনেক তরুণ-তরুণীকে আড্ডা দিতে দেখা গেছে।

শহীদ মিনার এলাকার রিকশাচালক শহীদ মিয়া জানান, বাসায় বউ ও দুই বাচ্চা আছে তার। বউ অন্যের বাসায় কাজ করতেন। সেখান থেকে দুইবেলা খাবার আনতেন শহীদের বউ। করোনা বাড়ার কারণে বাসার কাজ বন্ধ। দুই বেলা খাবার আসাও বন্ধ। রিকশা না চালালে না খেয়ে থাকতে হবে। তাই বাধ্য হয়েই রিকশা নিয়ে বের হয়েছেন তিনি।

লকডাউনে বাসায় বসে ভালো লাগছিলো না বলেই বাইরে আড্ডা দিতে বের হয়েছে শম্পা ও কয়েক বন্ধু। গতকাল বিকালে শহীদ মিনার এলাকায় বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন তারা। প্রায় ঘণ্টাখানেক পর পুলিশ গিয়ে তাদের উঠিয়ে দেয়। পুলিশ চলে গেলে আবার শহীদ মিনার এলাকা আড্ডায় জমজমাট হয়ে উঠে। পাশেই ডাব ও আনারস বিক্রি করছিলেন বিক্রেতারা। একইভাবে তরুণ-তরুণীদের আড্ডা দিতে দেখা গেছে টিএসসি এলাকায়। ওই এলাকার প্রধান সড়কগুলোতে পুলিশি টহল থাকলেও অলি-গলিতে কোনো তদারকি দেখা যায় না।

করোনা সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকির এলাকা মিরপুরের রূপনগর ও আদাবর এলাকা। এসব এলাকার বাজারে স্বাস্থ্যবিধির কোনো বালাই নেই। গাদাগাদি করে মানুষ বাজারে যাচ্ছে। এ ছাড়া সড়কে চলছে নানা ধরনের যানবাহন। নিত্যপণ্যের ছাড়া অন্যান্য দোকানও খোলা রাখছেন ব্যবসায়ীরা। বিকাল তিনটার পর দোকান বন্ধ রাখার কথা থাকলেও রাত ১১টা পর্যন্ত কোনো কোনো দোকান খোলা থাকছে। এ ছাড়া এলাকার মোড়ে মোড়ে চা-পানের দোকান ঘিরে মানুষের জটলা দেখা যায় অনেক রাত পর্যন্ত।

উল্লেখ্য, করোনাভাইরাসের প্রকোপ বাড়তে থাকায় গত ১৪ই এপ্রিল থেকে ২১শে এপ্রিল রাত ১২টা পর্যন্ত সর্বাত্মক লকডাউন ঘোষণা করা হয় সরকারের তরফ থেকে। সুত্র- মানবজমিন।

বার্তা বাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর