লামায় লকডাউনে অসহায় পরিবারে চলছে হাহাকার, দেখার নেই কেউ
বান্দরবান লামা উপজেলার অধিকাংশ জনপ্রতিনিধিদের সম্প্রতি লকডাউনে কাছে পাচ্ছে না সাধারণ জনগণ। অনেকেই বেখবর হয়ে হোম কোয়ারান্টাইন নামে নিরাপদ দূরত্বে রয়েছেন। ভাড়ায় চালিত মটরযান চালক সহ দিনমজুর খেটে খাওয়া দরিদ্র অসহায় মানুষ বিশেষ করে মধ্যবিত্তরা চরম অর্থ সংকটে রয়েছেন। অভাবের তাড়নায় অনেক পরিবারে নীরব কান্না চলছে। জনপ্রতিনিধি এবং সামাজের বিত্তবানরা যেন তাদের কান্না শুনছেন না।
সূত্র জানায়, বান্দরবান জেলার লামা উপজেলায় ৭ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় জনপ্রতিনিধিরা ক্ষমতাসীন দল আ.লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। অথচ তারা জনগণের সুখ-দুঃখে একসঙ্গে থাকা এবং কাজ করার অঙ্গীকার দিয়ে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছিলেন। কিন্তু সরকার ঘোষিত এই লকডাউনে কোন জনপ্রতিনিধিদের দরিদ্র অসহায় ব্যক্তির পাশে দাঁড়াতে দেখা যাচ্চেনা।
তবে উপজেলার ৪নং ইউপির চেয়ারম্যান মো. জসিম উদ্দিন ব্যক্তিগত উদ্যোগে রমজান উপলক্ষে অসহায়দের বাড়িতে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করার কথা জানিয়েছেন। একই সাথে ৬নং রুপসী পাড়া ইউপি চেয়ারম্যান ছাচিংপ্রু মার্মা তার ইউনিয়নবাসীকে লকডাউনে যেকোন সমস্যার কথা জানানোর আহবান জানিয়ে গেলো ৩দিন আগে ব্যক্তিগত মোবাইল নাম্বার দিয়ে পোস্ট করেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে। কিন্তু অন্যরা করোনা আতঙ্কে নির্জনে কিংবা নীড়ে অবস্থানে রয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দ্বীতিয় বারের মত কারোনার প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধিরোধে উপজেলায় কঠোর লকডাউন চলছে। ফলে মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
পৌর বাসিন্দা আলী আহমদ বলেন, নেতারা ভোট চাওয়ার জন্য আমাদের কাছে আসেন। ভোট চলে গেলে আর খবর থাকেনা বিপদে-আপদে তাদের কাছে পাওয়া যায় না। লামা মুখ সড়কে জনৈক রিকশাচালক বলেন, ভোট আসলে নেতারা সব দিয়ে পেলে। এহন খবর নাই। রাস্তায় মানুষও নাই। পেটেরতো আর লকডাউন নাই। খাইতে তো হবেই।
প্রেসক্লাবের সেক্রেটারি মো. কামরুজ্জামান বলেন, জাতির এ দুর্যোগময় সময়ে জনপ্রতিনিধিরা জনগণ থেকে দূরে থাকা দুঃখজনক। বর্তমানে ভেদাভেদ ভুলে আমরা সবাই সবার অবস্থান থেকে জনগণের সঙ্গে থেকে বিপদকালীন সময় মোকাবিলা করা প্রয়োজন। যেন মানুষ এবং মানবতা জয়ী হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোস্তফা জামাল বলেন, সরকারিভাবে বরাদ্দ না হওয়ায় কোথাও ত্রাণ দেওয়া হয়নি। যদি বরাদ্দ হয় তাহলে যথানিয়মে হতদরিদ্রদের মাঝে তা পৌঁছে দেয়া হবে।
মিজানুর রহমান/বার্তাবাজার/ই.এইচ.এম