আনোয়ারায় মৎস্য কর্মকর্তা লাঞ্ছিত: মুচলেখা নিয়ে ইউএনও খুলে দিলেন মৎস্য আড়ত

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার কালাবিবি দীঘি মোড় এলাকার একটি মৎস্য আড়তে অভিযানে গিয়ে লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনার তিনদিন পর (সোমবার ১৯ এপ্রিল) দুপুরে মুচলেখা নিয়ে এবিসি মৎস্য আড়ত খুলে দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ জোবায়ের আহমেদ। তিনি জানান, মুচলেখা নিয়ে আড়ত খেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে এখনো বিষয়টি শেষ হয়ে যায়নি।

গত বৃহস্পতিবার (১৫ এপ্রিল) সকালে কালাবিবি দীঘির মোড়ে উপজেলা মৎস্য অফিসের নির্দেশে সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা জাহেদ আহমদ ও অফিস সহকারী এনামুল হকসহ মৎস্য অফিসের কয়েকজন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে জেলি যুক্ত চিড়িং মাছ ধরতে অভিযানে যান মোহাম্মদ শাহেদুল আলমের এবিসি মৎস্য আড়তে। এসময় শাহেদ ও তার লোকজন মৎস্য তাদের মারধর করে এবং টাকা চেয়েছে বলে হুমকি দিয়ে লাঞ্ছিত করে ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ জোবায়ের আহমেদ তাঁর কার্য্যলয়ে অভিযুক্ত এবিসি মৎস্য আড়তের মালিক শাহেদুল আলমকে ও মৎস্য কর্মকর্তাদের ডাকেন। ঘটনার বিস্তারিত দু’পক্ষের মুখে শুনে এবং একজন অফিসারকে তদন্তের দায়িত্ব দিয়ে মৎস্য আড়তটি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন তিনি। ঘটনার পর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তানভীর হাসান চৌধুরী ঘটনাস্থলে গিয়ে এবিসি মৎস্য আড়ত সিলগালা করে বন্ধ করে দেন। কিন্তু বন্ধ করার দুইদিনপর শনিবার আড়তটি খোলা দেখা যায়। তবে মৎস্য কর্মকর্তা ও আড়ত মালিকদের মিলিয়ে দিয়ে সোমবার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে আড়তের মালিকত থেকে লিখিত একটি মুচলেখা নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

সম্প্রতি প্রকাশিত পত্রিকার সূত্রে জানা যায়, সামুদ্রিক মাছে বিষাক্ত রং মেশানোর অভিযোগও উঠে এ আড়তের শাহেদের বিরুদ্ধে। এবিসি নামে মৎস্য আড়তে রং মেশানো পানিতে ডুবিয়ে উচ্চমূল্যে বিক্রির জন্য রাখা হচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ। মাছের কানসায় লাগিয়ে দেওয়া হয় কাপড়ে ব্যবহৃত লাল রং। এসব মাছ বিক্রির জন্য রাখা হচ্ছে ঝুড়িতে। এসব অভিযোগ ছাড়াও জেলিযুক্ত চিড়িং মাছও জব্দ করে মৎস্য অফিস।

এবিসি মৎস্য আড়তদার মোহাম্মদ শাহেদুল আলম বলেন, ইউএনও স্যারের নির্দেশে এটি সমাধান করে দেওয়া হয়েছে। আমি একটি মুচলেখা দিয়েছি।

সুৃমন শাহ/বার্তাবাজার/ভিএস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর