প্রেমিকাকে হত্যার পর ড্রামে ভরে রাখার দায়ে পুলিশ সদস্যসহ গ্রেফতার ৪
রাজশাহীতে ডোবায় পাওয়া ড্রামের ভেতর ননিকার রায়ের (২৪) মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তার প্রেমিক পুলিশ কনস্টেবল নিমাই চন্দ্র সরকার (৪৩)সহ ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
রোববার (১৮ এপ্রিল) দিনব্যাপী অভিযানে তাদেরকে গ্রেতার করা হয় বলে জানা গেছে পিবিআইয়ের নিজস্ব ফেসবুক পেজ থেক। যে মাইক্রোবাসে নিয়ে গিয়ে মরদেহ ফেলে দিয়েছিল সেই মাইক্রোবাসও উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, পুলিশ কনস্টেবল নিমাই চন্দ্র সরকার (৪৩)। তার বাড়ি পাবনার আতইকুল্লা উপজেলার চরাডাঙ্গা গ্রামে। পিবিআই রাজশাহীর একটি চৌকশ পুলিশ টিম রোববার ভোরে নাটোরের লালপুরস্থ আসামির বোন-জামাইয়ের বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করে। নিমাই চন্দ্র জিআরপি থানায় কর্মরত।
গ্রেফতার হওয়া নিমাইয়ের সহযোগীরা হলেন, নগরীর কাশিয়াডাঙ্গা থানার আদারীপাড়ার কবির আহম্মেদ (৩০), রাজপাড়া থানার শ্রীরামপুর এলাকার সুমন আলী (৩৪) এবং মাইক্রোবাস চালক নগরীর বিলশিমলা এলাকার আব্দুর রহমান (২৫)। গ্রেফতার পুলিশ কনস্টেবল নিমাই চন্দ্রের দেয়া তথ্যে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
এর আগে পরিবারের সদস্যরা ওই তরুণীর মরদেহ শনাক্ত করে। নিহত ননিকা রাণী রায়ের বাড়ি ঠাকুরগাঁ সদরের মিলনপুরে। তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নার্সিং ইন্সটিটিউট থেকে সদ্য অধ্যয়ন সমাপ্ত করেছেন। নগরীর পাঠানপাড়া এলাকার একটি মেসে থাকতেন ননিকা। রোববার রাতে তার মরদেহ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
পিবিআই জানায়, নগরীর তেরখাদিয়া এলাকার একটি বাড়িতে ওই তরুণীকে হত্যা করা হয়। ওই বাড়িটি জিআরপির কনস্টেবল নিমাই চন্দ্র গত ৬ এপ্রিল ভাড়া নেয়। তার স্ত্রীও পুলিশ কনস্টেবল। সে বগুড়ায় কর্মরত। রবিবার বিকেলে পিবিআই সদস্যরা ওই বাড়িতে তদন্তে যায়।
পিবিআই আরও জানায়, কনস্টেবল নিমাই হত্যার কথা স্বীকার করেছে। সে জানিয়েছে ৬/৭ বছর ধরে ননিকা রাণীর সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্কও হয়। সম্প্রতি সে বিয়ের জন্য চাপ দেয়। এ কারণে তাকে হত্যার পর ড্রামে মরদেহ ভরে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে গিয়ে ফেলে দেয়। সিসিটিভির ফুটেজ দেখে তাকে শনাক্ত করা হয়েছে বলেও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
প্রসঙ্গত, শুক্রবার নগরীর অদূরে বাইপাস সড়কের সিটি হাটের কাছে একটি ডোবায় ড্রামের মধ্যে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা। পরে খবর পেয়ে শাহমখদুম থানা পুলিশ গিয়ে সেটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। উদ্ধারের সময় ডিবি, সিআইডি ও পিবিআই সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এ ঘটনায় তারা পৃথকভাবে তদন্ত শুরু করে।
বার্তা বাজার/এসজে